ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

2019-08-20

, ১৮ জিলহজ্জ ১৪৪০

শেরপুরে গৃহবধূ নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশিত: ১২:১৭ , ১৩ জুন ২০১৯ আপডেট: ০২:০৫ , ১৩ জুন ২০১৯

শেরপুর প্রতিনিধি: এক গাছের সাথে দুই হাত এবং অন্য গাছের সঙ্গে দুই পা বেঁধে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধুকে নির্মম নির্যাতনের ঘটনা খতিয়ে দেখতে জামালপুরের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে নির্দেশ দিয়েছেন জেলার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরীফুল ইসলাম খান। একই সঙ্গে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ঘটনার প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন আদালত।

পৌর শহরের কায়দা এলাকার কৃষক শফিউল্লাহর স্ত্রী ডলি খানমকে (২২) গাছে বেঁধে নির্যাতনের একটি ভিডিও গত সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হয়। পরে সেটি ভাইরালও হয়।

নির্যাতিত গৃহবধূ ডলি খানম (২২) নকলা পৌর শহরের কায়দা এলাকার কৃষক শফিউল্লাহর স্ত্রী। তিনি স্থানীয় চন্দ্রকোনা কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে নির্যাতন করা হয়।

একমাস আগে এই ঘটনা ঘটলেও ওই গৃহবধূর স্বামী গত ৩ জুন শেরপুরের আমলি আদালতে তার ভাই আবু সালেহসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৫-৭ জনকে আসামি করে একটি নালিশি মামলা করেছেন।

আদালতের বিচারিক হাকিম শরীফুল ইসলাম খান ভিকটিমের এমসি তলব (ডাক্তারি পরীক্ষার সনদ) সাপেক্ষে ঘটনার বিষয়ে তদন্তপূর্বক ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জামালপুর পিবিআইয়ের ওসি’র প্রতি নির্দেশ প্রদান করেছেন।

এলাকাবাসী জানায়, গত ১০ মে সকালে স্থানীয় গোরস্থান সংলগ্ন শফিউল্লাহর দখলীয় জমির ইরি-বোরো ধান আবু সালেহ ও তার লোকজন কাটতে গেলে শফিউল্লাহ বাধা দেন। এতে তিনি প্রতিপক্ষের ধাওয়ার মুখে পিছু হটে নকলা থানায় ছুটে যান। তখন আবু সালেহর নেতৃত্বে একদল লোক ধান কাটতে শুরু করলে শফিউল্লাহর তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বাধা দিলে আবু সালেহর নির্দেশে তার ছোটভাই সলিমউল্লাহ, ভাইয়ের স্ত্রী লাখী আক্তারসহ কয়েকজন তার চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দিয়ে টেনে-হেঁচড়ে জমির পাশের একটি ইউক্যালিপটাস গাছের সঙ্গে হাত বেঁধে ফেলেন। অন্য গাছের সঙ্গে বাঁধেন তার দুই পা। এরপর ওই নারীর গোপনাঙ্গসহ পেট, বুক ও পিঠে উপুর্যপরি কিল-ঘুষি-লাথি মারতে থাকে। সেইসঙ্গে ওই নির্যাতনের ভিডিও (চিত্র) ধারণ করেন লাকি আক্তার।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে গুরুতর অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার এবং আবু সালেহ ও তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী লাখী আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

কিন্তু চিকিৎসার কথা বলে ডলি খানমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানোর পর প্রভাবশালীদের তদবিরে ছাড়া পেয়ে যান আটক দুজন।

এদিকে, নির্যাতনে ডলি খানমের রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং তাকে ১৬ মে পর্যন্ত সাতদিন স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়ার পরও তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ২২ মে পর্যন্ত সাতদিন চলে তার চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায়, নির্যাতনের কারণে ডলি খানমের অকাল গর্ভপাত হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর

পঞ্চগড়ে কারা হেফাজতে মৃত্যু: ব্যাখ্যা চেয়েছেন হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক: পঞ্চগড় জেলা কারাগারে থাকাবস্থায় আইনজীবী পলাশ কুমার রায়ের মৃত্যুর ঘটনা ও কারাগারের অব্যবস্থাপনা বিষয়ে ১৫ অক্টোবরের...

জাহালমের কারাভোগ: সব তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিনা অপরাধে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা ভুল মামলায় কারাভোগকারী জাহালমের বিরুদ্ধে ৩৩ মামলার সকল তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is