ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৯ আশ্বিন ১৪২৬

2019-09-24

, ২৪ মহররম ১৪৪১

দিনাজপুরে দেশের প্রথম লোহার খনির সন্ধান

প্রকাশিত: ০৬:৪৯ , ১৮ জুন ২০১৯ আপডেট: ০১:০৯ , ১৯ জুন ২০১৯

দিনাজপুর প্রতিনিধি: দেশে প্রথমবারের মতো দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার ইসবপুর গ্রামে উন্নত মানের লোহার আকরিকের (ম্যাগনেটাইট) খনি পাওয়া গেছে। খনিটির ব্যাপ্তি ছয় থেকে ১০ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে সোনার অস্তিত্বের পাশাপাশি কপার, নিকেল ও ক্রোমিয়ামেরও উপস্থিতি রয়েছে। প্রায় এক হাজার ১৫০ ফুট গভীরতায় চুনাপাথরের সন্ধানও মিলেছে।

বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (জিএসবি) কর্মকর্তারা দুই মাস ধরে কূপ খনন করে অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার ইসবপুর গ্রামের কৃষক ইছাহাক আলীর কাছ থেকে ৫০ শতক জমি চার মাসের জন্য ভাড়া নেয় ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর। এরপর সেখানে খনিজ পদার্থের অনুসন্ধানে কূপ খনন শুরু করা হয়।

জিএসবির উপপরিচালক (ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ার) মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘গত ১৯ এপ্রিল থেকে ইসবপুর গ্রামে কূপ খনন শুরু করা হয়। ৩০ সদস্যের বিশেষজ্ঞ একটি দল তিন ধাপে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অবশেষে আমরা কাক্সিক্ষত সাফল্য পেয়েছি। এর ফলে এই অঞ্চলের প্রেক্ষাপট পাল্টে যাবে।’

খনন কাজে নিয়োজিত জিএসবির উপপরিচালক মোহাম্মদ মাসুম সকালে সাংবাদিকদের জানান, এর আগে ২০১৩ সালে ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর এই গ্রামের তিন কিলোমিটার পূর্বে মুশিদপুর এলাকায় কূপ খনন করে খনিজ পদার্থের সন্ধান পেয়েছিল। সেই গবেষণার সূত্র ধরে দীর্ঘ ছয় বছর পর চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল থেকে ইসবপুর গ্রামে কূপ খনন শুরু করা হয়।

এরপর এক হাজার ৩৮০ থেকে এক হাজার ৫০০ ফুট গভীরতা পর্যন্ত খননকালে সেখানে লোহা থাকার সম্ভাবনা দেখা যায়। এই খবর পেয়ে ২৬ মে জিএসবির মহাপরিচালক জিল্লুর রহমান চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এখানে পরিদর্শনে আসেন। ওই সময় মহাপরিচালক সাংবাদিকদের সুখবর না দিলেও লোহার খনি আবিষ্কার হতে চলেছে এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। অবশেষে দীর্ঘ চেষ্টার ফলে এক হাজার ৭৫০ ফুট গভীরতা খনন করে লোহার খনি আবিষ্কার করা হয়েছে। এখানে প্রায় ৪০০ ফুট পুরুত্বের লোহার আকরিকের মজুদের একটি স্তর পাওয়া গেছে। এই অঞ্চলে ৬০ কোটি বছর আগে সমুদ্র ছিল। সেই কারণে এখানে জমাট বাঁধা আদি শিলার ভেতরে লোহার আকরিকের এই সন্ধান পাওয়া গেছে।

মোহাম্মদ মাসুম জানান, বিশ্বের যে কয়েকটি দেশে লোহার খনি আবিষ্কার করা হয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশের আকরিকে লোহার শতাংশ ৬৫-এর ওপরে। কানাডা, চীন, ব্রাজিল, সুইডেন ও অস্ট্রেলিয়ার খনি থেকে উত্তোলিত লোহার মান ৫০ শতাংশের নিচে। জয়পুরহাটে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) পরীক্ষাগার থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

খনিটিতে স্বর্ণের অস্তিত্বের পাশাপাশি কপার, নিকেল ও ক্রোমিয়ামেরও উপস্থিতি রয়েছে বলে জানান বিজ্ঞানীরা।

এছাড়াও এক হাজার ১৫০ ফুট গভীরতায় চুনাপাথরের সন্ধানও মিলেছে বলে জানান মোহাম্মদ মাসুম।

স্থানীয়রা বলেন, লোহা উত্তোলন করা হলে এ অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। ফলে পাল্টে যাবে তাদের জীবনমান। দেশের জন্যও লাভজনক হবে। এমনই আশায় বুক বাঁধছেন এখানকার সর্বস্তরের মানুষ। তাই গুরুত্ব বিবেচনায় সরকারের কাছে দ্রুত খনি বাস্তবায়নের দাবি জানান তাঁরা।

এই বিভাগের আরো খবর

রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ 

রংপুর প্রতিনিধি: রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ। বাড়ছে ভোটার ও নাগরিকদের প্রত্যাশা। কৃষি...

শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে ব্যস্ত প্রতিমা শিল্পীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। আর...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is