জনপ্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব উদ্বেগজনক: টিআইবি

প্রকাশিত: ০২:৩৭, ২৩ জুন ২০১৯

আপডেট: ০৬:১৫, ২৩ জুন ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: জনপ্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব উদ্বেগজনক বলে মনে করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, রাজনৈতিক প্রভাবেই প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়োগ, বদলী ও পদন্নোতি হয়। এমনকি বর্তমান সময়ে ওএসডির মতো ঘটনাও রাজনৈতিক প্রভাবে হচ্ছে।

রোববার (২৩ জুন) সকালে রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে টিআইবি আয়োজিত ‘জনপ্রশাসনে শুদ্ধাচার: নীতি ও চর্চা’শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনের উপস্থাপন শেষে এসব পর্যবেক্ষন তুলে ধরেছেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জান।

এ সময় তিনি বলেন, ‘জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সম্পদের বিবরনী দেয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্চতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি রয়েছে।’ এছাড়া টিআইবি মনে করে ‘সরকারী কর্মচারী আইন-২০১৮’ সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। এটি হওয়া উচিত ছিলো প্রজাতন্ত্রের সরকারী কর্মচারী আইন।’

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি বলেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়লেও দুর্নীতি কমার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। টিআইবির কর্মসূচি ব্যবস্থাপক মহুয়া রউফ প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘রাজনৈতিক ও অন্যান্য প্রভাবের কারণে জাতীয় শুদ্ধাচারের কোনো কোনো কৌশলের চর্চা ফলপ্রসূ হচ্ছে না। প্রশাসনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তিনি বলেন, ‘শুদ্ধাচার কৌশলে জনপ্রশাসন সম্পর্কিত ১১টি কৌশলের মধ্যে পাঁচটি কৌশলের চর্চা সন্তোষজনক। তিনটি কৌশলের চর্চা এখনো শুরুই হয়নি। বিভিন্ন উপাত্ত তুলে ধরে মহুয়া রউফ বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় জনপ্রশাসনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রবণতা বেড়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে যোগ্যতা নয়, ক্ষমতাসীনদের পছন্দ প্রাধান্য পাচ্ছে।’

পদোন্নতি ও পদায়নের অসংগতি তুলে ধরে মহুয়া রউফ বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রশাসনের উপসচিব বা এর ওপরের পদে শূন্য পদের অতিরিক্ত কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। রাজনৈতিক বিবেচনায় পদোন্নতির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার লঙ্ঘনও হয়।’

অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান আরো লেন, জনপ্রশাসনে শুদ্ধাচারের অবস্থাটি মোটামুটি মিশ্র। কিছু ক্ষেত্রে লক্ষণীয় অগ্রগতি আছে। কিছু কিছু উদ্যোগ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব আছে। আবার কিছু কিছু উদ্যোগ শুরুই হয়নি। তিনি সরকারি কর্মচারী আইনে গ্রেপ্তার সম্পর্কিত একটি ধারার সমালোচনা করে বলেন, এই ধারাটি দুর্নীতি প্রতিরোধে বাধার সৃষ্টি করবে। তাই তাঁরা এই ধারাটি বাতিল করে আইনের সংশোধন চান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির উপাচার্য পারভিন হাসান, টিআইবির উপদেষ্টা অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, টিআইবির পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান।

এই বিভাগের আরো খবর

পাটগ্রাম-দহগ্রাম সড়কের উন্নয়ন কাজে অনিয়ম

লালমনিরহাট সংবাদদাতা: লালমনিরহাটের...

বিস্তারিত
বরগুনায় নলকূপ স্থাপনে অনিয়ম

নিজস্ব সংবাদদাতা: বরগুনায় জেলা...

বিস্তারিত
সাবেক এমপি শামসুল হককে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: অবৈধ সম্পদ অর্জনের...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *