ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

2019-08-21

, ১৯ জিলহজ্জ ১৪৪০

ধর্ষণ মামলার বিচারে হাইকোর্টের ৭ নির্দেশনা

প্রকাশিত: ০৫:০৪ , ১৮ জুলাই ২০১৯ আপডেট: ১০:২৯ , ১৮ জুলাই ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: ধর্ষণ কিংবা ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা মামলার বিচার করতে নিম্ন আদালতের বিচারক, পাবলিক প্রসিকিউটর, সাক্ষী, পুলিশ, চিকিৎসক বা মামলার অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের প্রতি সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে সাত দফা নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে এসব নির্দেশনা দেন।

সাত দফা নির্দেশনা:

এক. দেশের সব নিম্ন আদালতকে ধর্ষণ এবং ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আইনের নির্ধারিত সময়সীমার (বিচারের জন্য মামলা প্রাপ্তির তারিখ হতে ১৮০ দিন) মধ্যে দ্রুত বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিচারকদেরকে সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে।

দুই. ট্রাইব্যুনালগুলোকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ এর ধারা ২০ এর বিধান অনুসারে মামলার শুনানি শুরু হলে, তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি কর্মদিবসে একটানা মামলা পরিচালনা করতে হবে।

তিন. ধার্য তারিখে সাক্ষীর উপস্থিতি ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতি জেলায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন), সিভিল সার্জনের একজন প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটরের সমন্বয়ে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করতে হবে। ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকবেন এবং কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতিমাসে সুপ্রিম কোর্ট, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠাবে। যেসব জেলায় একাধিক ট্রাইব্যুনাল রয়েছে, সেসব জেলায় সব ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটররা মনিটরিং কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হবেন এবং তাদের মধ্যে যিনি জ্যেষ্ঠ, তিনি সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন।

চার. ধার্য তারিখে রাষ্ট্রপক্ষ সঙ্গত কারণ ছাড়া সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হলে মনিটরিং কমিটিকে জবাবদিহি করতে হবে।

পাঁচ. মনিটরিং কমিটি সাক্ষীদের নামে দ্রুততম সময়ে যাতে সমন জারি করা যায়, সে বিষয়েও মনিটরিং করবেন।

ছয়. নির্ধারিত তারিখে সমন পাওয়ার পরও অফিসিয়াল সাক্ষিরা, যেমন- ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, চিকিৎসক বা অন্যান্য বিশেষজ্ঞ সন্তোষজনক কারণ ব্যতিরেকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য উপস্থিত না হলে, ট্রাইব্যুনাল ওই সাক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ এবং প্রয়োজনে বেতন বন্ধের আদেশ দেওয়ার বিবেচনা করবেন।

সাত. আদালতের (হাইকোর্টের) সুচিন্তিত মতামত এই যে, অবিলম্বে সাক্ষী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন এবং আদালত এটাও প্রত্যাশা করছে যে, সরকার অতি স্বল্প সময়ে উক্ত বিষয়ে আইন প্রণয়ন করবে।

সাত দফা নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এ আদেশের অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সুরক্ষা ও সেবা বিভাগের সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর পাঠানো হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার পরবর্তী শুনানি ২৫ সেপ্টেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য আসামির বিরুদ্ধে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন পিছিয়ে...

ভেজাল ওষুধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানের নির্দেশ হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাজারে থাকা ভেজাল ওষুধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার ( ২২ আগস্ট) সকালে...

জাহালম কাণ্ড: দুদকের প্রতিবেদনে অসন্তুষ্ট হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় বিনাদোষে কারাভোগকারী জাহালমের বিরুদ্ধে ৩৩ মামলায় ১১ তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে...

পঞ্চগড়ে কারা হেফাজতে মৃত্যু: ব্যাখ্যা চেয়েছেন হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক: পঞ্চগড় জেলা কারাগারে থাকাবস্থায় আইনজীবী পলাশ কুমার রায়ের মৃত্যুর ঘটনা ও কারাগারের অব্যবস্থাপনা বিষয়ে ১৫ অক্টোবরের...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is