এনআইডিতে ভুল মানেই ধাপে ধাপে হয়রানি 

প্রকাশিত: ০৯:৩০, ২০ জুলাই ২০১৯

আপডেট: ১১:৩৭, ১৩ অক্টোবর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় পরিচয়পত্রে কোন তথ্য ও বানান ভুল থাকা মানেই নাগরিকদের দীর্ঘ বহুমুখী হয়রানির চক্করে পড়তে হচ্ছে। এই ভোগান্তির রূপ বিচিত্র, হয় ধাপে ধাপে।

কোন ভুলের দায় কার, সমাধান কিভাবে এবং কতোদিনে? সেসব নিয়ে ভুক্তভোগী নাগরিকদের সামনে কোন স্বচ্ছ তথ্য নেই। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ভাণ্ডার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার জন্য ভুল না করেও ভুলের জরিমানা গুনতে হচ্ছে, সেবা পেতে দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানিতে পড়তে হচ্ছে নাগরিকদের এবং তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও। নির্বাচন কমিশেনের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রকল্পের জনবল নিয়েও আছে জটিলতা ও অনিশ্চয়তা। 

দেশের ক্রিকেটের নায়ক মাশরাফির হাতে জাতীয় পরিচয়পত্রের স্মার্ট কার্ড। এই বিজ্ঞাপন ডিজিটাল জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রতি নাগরিকদের উদ্বুদ্ধ করতে। বিজ্ঞাপন আকর্ষণীয়, কিন্তু রাজধানীতে জাতীয় পরিচয়পত্র বিষয়ক কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের এই ভীড় বলছে এ সংক্রান্ত নাগরিক সেবা পাওয়ার বাস্তবতা বিবর্ণ, মলিন। 

২০০৭ সালে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন থেকে নাগরিক পরিচয়পত্রের প্রচলন। শুরুতে প্লাস্টিকে মোড়ানো সাদা কাগজের পরিচয় পত্র হাতে পেয়ে বহু লক্ষ মানুষ দেখেন তাদের দেয়া তথ্য ও নামের বানান ভুল। ভুলসহ স্মার্ট কার্ডও দেয়া হচ্ছে। এই ভুলের শিকার লক্ষ লক্ষ নাগরিকের অতি ক্ষুদ্র অংশের এই ভীড় রাজধানীর প্রধান কার্যালয়ে। তাদের একজন রাজিয়া।  ছয় মাস আগে সরকারি চাকুরী পেলেও জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুলের জন্য পাচ্ছেন না বেতন।  ভুল সংশোধন করতে এসে হয়রানি বেড়েছে কয়েকগুণ। 

প্রতিশ্র“ত সময়ে সেবা না পাওয়া হয়েছে স্বাভাবিক ব্যাপার। এক ভুল ঠিক করতে গিয়ে পাল্টে যাচ্ছে সঠিক ঠিকানা। ছেলের জন্ম ১৯৯৭ সালে, পরিচয় পত্রে আছে ১৯৫৭। সেটা ঠিক করতে সাভারের মাহমুদা বেগম ঢাাকায় ঘুরছেন দুই বছর ধরে।  

জাতীয় পরিচয়পত্র শাখার মহাপরিচালক ভুলের পরিমাণ কম বলে দাবি করলেও সম্প্রতি বিদায় নেয়া নির্বাচন কমিশনের সচিব জানান তথ্য সংশোধনের জন্য এপর্যন্ত ১৭ লাখের বেশি আবেদন তারা পেয়েছেন। ১৫ লাখের বেশি নিষ্পত্তি হয়েছে, বাকি দেড় লাখের কাজ চলছে। আসছে ভুল সংশোধনের নতুন আবেদনও। এসব ভুলের দায় নিয়ে আছে মিশ্র বক্তব্য।  

নির্বাচন কমিশনে জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসবার আগে এই নাগরিকদের মাঠ পর্যায়ে আরও বিচিত্র ভোগান্তির অভিজ্ঞতা হয়। 

এই বিভাগের আরো খবর

ছাত্র রাজনীতির সংস্কার চান সাবেক নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: নৈতিক অবক্ষয়ের...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *