ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত: ০৬:২৫, ০৬ আগস্ট ২০১৯

আপডেট: ০৭:১৩, ০৬ আগস্ট ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক: ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুধু সিটি কর্পোরেশনের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দেন তিনি। লন্ডনে বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাতকারে এসব বলেন শেখ হাসিনা। ভবিষ্যতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বছরব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযানের নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারি কর্মসূচি ও চোখের চিকিৎসার জন্য গত মাসের ১৯ তারিখ লন্ডনে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফরকালে সোমবার মুখোমুখি হন লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা- বিবিসি বাংলার। সংস্থার সিনিয়ার সাংবাদিক মানসী বড়ুয়াকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, সংবাদপত্রের স্বাধীনতাসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, পঁচাত্তর পরবর্তি সামরিক সরকার দেশে পুলিশী হেফাজতে হত্যা ও নির্যাতনের ধারা চালু করে। সেই ধারা থেকে দেশকে মুক্ত করে আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে আওয়ামী লীগ সরকার। একটি গোষ্ঠী আবারও দেশে অগণতান্ত্রিক ধারা প্রচলনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে উল্লেখ করে সরকার সফলতার সাথে এই হুমকি মোকাবেলা করে যাচ্ছে বলে জানান শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশে হেফাজতে নির্যাতনের ইতিহাস দীর্ঘ দিনের। যা সকল সরকারের আমলেই দেখা গেছে। আওয়ামী লীগ সরকার এটি বন্ধে কী পদক্ষেপ নিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “এমন মানসিকতা আমাদের নেই এবং আমরা সেটি করি না। ঘটনাচক্রে কিছু ঘটতে পারে। বরং আপনি যদি গত দশ বছরে আমাদের অবস্থান দেখেন, আমরা কিন্তু অপরাধ নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পেরেছি।”

তিনি আরো বলেন, “আপনি আমার নিজের কথাই চিন্তা করেন, যখন আমি আমার বাবা-মা সবাইকে হারালাম, গুলি করে মারা হল। কই আমি তো বিচার পাইনি। খুনিদের বিচার না করে তাদের ইনডেমনিটি দেয়া হল। অর্থাৎ অপরাধকে প্রশ্রয় দিলেন। উল্টো তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যে দেশে অপরাধকে স্বীকৃতি দিয়েই একটা সামাজিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়, সেই দেশে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। হেফাজতে মানুষ হত্যা করার সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী আমার দলের নেতা-কর্মীরা।”

কিন্তু নির্যাতনের সংস্কৃতি বন্ধে কি করা হচ্ছে? জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। এখন ঠিক ওইভাবে হেফাজতে মৃত্যু হয় না। নির্যাতনও সেভাবে করা হয় না।”

তবে আন্তর্জাতিকভাবে অপরাধীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহে কিছু নিয়ম রয়েছে, এর বাইরে কিছু করা হয় না। আওয়ামী সরকারের আমলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতিকে (বঙ্গবন্ধু) হত্যার ঘটনার পর থেকে অপরাধকে প্রশ্রয় দেয়ার সংস্কৃতি শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে অসাংবিধানিক সরকারের সময় যারা বেশি সুযোগ ভোগ করেছে বা ক্ষমতাটা যারা উপভোগ করেছে, তারা কখনোই চায়নি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকুক।

তিনি বলেন, “একটা শ্রেণী হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের মধ্যে কিছু আছে যারা অসাংবিধানিক সরকার, জরুরি অবস্থা অথবা মার্শাল ল' বা মিলিটারি রুলার আসলে তাদের খুব দাম বাড়ে। কাজেই তারা সারাক্ষণ খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আমাদের পেছনে লেগেই আছে।”

তার সরকারের কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল প্রতিটি স্তরে পৌঁছাচ্ছে জানিয়ে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার কথা পুনর্ব্যাক্ত করেন শেখ হাসিনা। দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করা দেশের মধ্যে করেছে বাংলাদেশ, এর সুফল সব পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছে কি-না, জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন “অবশ্যই পৌঁছচ্ছে,”।

“সেই ভাবেই আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। ২০০৫ বা ২০০৬ সালের দিকে আমাদের দারিদ্র্যের হার ৪১ ভাগের উপরে ছিল। আজকে সেটা ২১.৪ ভাগে নেমে এসেছে। মাত্র ১০ বছরের মধ্যে আমরা সেটা অর্জন করতে পেরেছি। মানুষের মাথাপিছু যেখানে ৪০০/৫০০ মার্কিন ডলার ছিল, আজকে সেখানে প্রায় ২ হাজার মার্কিন ডলারে সেটি উঠে এসেছে। প্রবৃদ্ধি আমরা এখন ৮.১ শতাংশ অর্জন করতে পেরেছি। "

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত এখন বেশ নাজুক অবস্থায় আছে এবং ঋণ খেলাপিরা হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে তা আর ফেরত দিচ্ছে না- এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যতটা প্রচার হয় বিষয়টা ততটা না।

“ঋণ নিয়ে সেটা ফেরত না দেয়া- এই কালচারটাও আমাদের এখানে শুরু হয় মিলিটারি ডিক্টেটরদের আমলে। আমরা যখন ক্ষমতায় এসেছি আমরা চেষ্টা করেছি, আমরা অনেক টাকা উদ্ধার করেছি। তারপরও কিছু মানুষের প্রবণতা থাকে যে টাকা দিলে মনে হয় সেটি আর ফেরত দিতে হবে না”

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের মান ও এর চর্চা কিভাবে হচ্ছে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে শেখ হাসিনা বলেন, যে দেশে এখন ৪৪টি প্রাইভেট টেলিভিশন আছে এবং তারা স্বাধীনভাবে কাজ করছে। “স্বাধীনতা না থাকলে তারা আমার বিরুদ্ধে বা সরকারের বিরুদ্ধে এত অপপ্রচার করছে কীভাবে।”

গত ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে অনেক কেন্দ্রে ১০০ শতাংশ ভোট পড়েছে এবং এ নিয়ে যে সমালোচনা রয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সেটা এখন কোন কেন্দ্রে গোনার দিক থেকে হয়তো পেয়েছে। কোন কেন্দ্রে হয়তো হতে পারে।”

তিনি বলেন, “কিন্তু আমাদের ট্রাইব্যুনাল আছে সেখানে মামলা করতে পারে, কোর্টে মামলা করতে পারে। নির্বাচন কমিশনও মামলা করতে পারেন। তারা তদন্ত করে দেখছেন।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মানুষ যদি সত্যিই ভোট দিতে না পারতো, তাহলে তাদের ডাকা সাড়া দিয়ে মানুষ আন্দোলনে নামত এবং আমরা ক্ষমতায় থাকতে পারতাম না।”

দেশের গণমাধ্যম পূর্ণ স্বাধীনতা পাচ্ছে জানিয়ে কেউ যেন এর অপব্যবহার না করে সেদিকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে দেশে কেউ অরাজকতার অপচেষ্টা চালালে তার বিরুদ্ধে কঠিন পদক্ষেপ নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন প্রধানমন্ত্রী।

বর্তমানে দেশে ডেঙ্গু পরিস্তিতি অস্বাভাবিক হারে বেড়েই চলছে। সিটি কর্পোরেশনগুলো এডিস মশা সম্পর্কে একেবারেই কোন ব্যবস্থা নেয়নি বা মশা নিয়ন্ত্রণকে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে গণ্য করে সময়মত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে এমন অভিযোগ মানছেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংবাদমাধ্যমে ডেঙ্গু বিষয়ক খবর অনেক বেশি প্রকাশিত হচ্ছে এবং এর ফলে মানুষ আতংকিত হয়ে পড়ছে, আর সেটাই সমস্যা সৃষ্টি করছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, “একটু উচ্চবিত্ত যারা, সেইসব জায়গাগুলোতেই এর প্রকোপ বেশি। আমাদের সবসময় লক্ষ্য থাকে বস্তি এলাকা, ড্রেন এসব দিকে। মশা মারা কিন্তু নিয়মিত একটা ব্যাপার।”

শুধু সিটি কর্পোরেশনকে দোষ না দিয়ে সব মানুষকে সতর্কতা অবলম্বন করতে আহবান জানান তিনি। মশার ওষুধ কেনায় দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে, তাও তিনি নাকচ করে দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “মশার ওষুধ কেনার ব্যাপারে টেন্ডার করা হয়। যারা টেন্ডারে উপযুক্ত হয়, তারা কিনে নিয়ে আসে এবং সেগুলো ব্যবহারও হয়। তবে কোন ওষুধ এডিস মশার উপরে কাজ করে, সেই ব্যাপারে বিভক্তিকরণ করা হয়নি বা সেই ধরনের সতর্কতা ছিল না।।”

পদ্মা সেতুতে মানুষের কাটা মাথা লাগার গুজব এবং এর জেরে ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে বেশ কজন মানুষের মৃত্যু বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহবান জানান। যারা গুজব ছড়াচ্ছে, এরকম কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। আপনিই বলুন আজকের দিনে, পদ্মা সেতুতে কাটা মাথা ও রক্ত লাগবে বলে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। রক্ত আর কাটা মাথা দিয়ে কি সেতু তৈরি হয়? এই গুজবটা যারা ছড়াচ্ছে, অপরাধী তো তারা।”

পদ্মা সেতুর ব্যাপারে শুরু থেকেই একটা চক্রান্ত ছিল বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই বিভাগের আরো খবর

সরকার রাজনৈতিক দুর্নীতিও করছে: ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্নীতির মাধ্যমে...

বিস্তারিত
মরা গাঙে জোয়ার আর আসে না: কাদের 

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের...

বিস্তারিত
ভিপি নুরকে পদত্যাগের আহ্বান রাব্বানীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডাকসুর ভিপি নুরুল...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *