খালেদা জিয়া শোকবার্তা প্রস্তুত রেখেছিল: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ০৬:১৭, ২১ আগস্ট ২০১৯

আপডেট: ১১:৩২, ২১ আগস্ট ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বোধ হয় খালেদা জিয়ার তৈরি করাই ছিল যে আমি মরলে পরে একটা কন্ডোলেন্স জানাবে। সেটাও না কী তার প্রস্তুত করা ছিল। কিন্তু আল্লাহ বাঁচিয়ে দিয়েছেন। সেটাই বড় কথা।’ 

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় খালেদা জিয়া কোনভাবেই দায় অস্বীকার করতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তাকে আসামী করা না হলেও আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার অভিশাপের জন্য খালেদা জিয়া নিজেই এখন শাস্তি ভোগ করছেন বলেও মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে বুধবার (২১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াতের মদদ ছাড়া ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটতে পারে না। মৃত্যু ভয়ে কোনদিন ভীত না হয়ে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকারও করেছেন শেখ হাসিনা।

বলেন, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় বেঁচে থাকার কথা না। ওরা ভাবেনি যে বেঁচে থাকবো। অনেক ছোট ছোট ঘটনা আমি জানি। যারা হামলা করেছে তারা এক জায়গায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। সেখান থেকে ফোন করেছে যে আমি মারা গেছি কী না।

একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘অজ্ঞাতনামা দুইজন যে মারা গেল তাদের খবর কেউ নেয়নি, লাশও কেউ নেয়নি। এখন আস্তে আস্তে সবই বের হচ্ছে। কীভাবে ওই জজ মিয়াকে নিয়ে এসেছে। একজন সাধারণ মানুষকে নিয়ে এসে নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছিল।’

সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা অনেক তথ্য বের করেছেন। এই তথ্যটা বের করেন, তারেক রহমান খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ৫ নম্বরে তার যে শ্বশুড়বাড়ি ওখানে এসে সে ১০ মাস থাকলো এবং পহেলা আগস্ট চলে গেল ক্যান্টেনমেন্টের বাসায়। ওখানে থেকে সে কী করলো? তার কাজটা কী ছিল?

তিনি বলেন, অনেক পরে মামলা করে আমরা একটা রায় পেয়েছি। আমরা আশা করি এর বিচার হবে। কিন্তু যাদেরকে আমরা হারিয়েছি তাদেরকে তো আর ফিরে পাবো না।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া তার দায় এড়াতে পারে না, বাবর তো স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিল। যদিও খালেদা জিয়াকে এই মামলায় আসামি করা হয় নাই।

তিনি বলেন, এই হত্যা জিয়াউর রহমান শুরু করেছিল এরশাদও সেই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছিল, খালেদা জিয়াও সেই একই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে।

সভায় সূচনা বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আলোচনায় আরও অংশ নেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাহারা খাতুন, নির্বাহী সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াসহ অনেকে।

সভায় শেখ হাসিনা বলেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনা সে সময়ের সরকারের পক্ষ থেকেই করা হয়েছিল। সেদিন আমি ওই এলাকা ছেড়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় লাঠিচার্জ। সিটি করপোরেশনের গাড়ি এনে পানি দিয়ে আলামত মুছে ফেলা হয়। আমি জানতে পেরে নানককে বলি, আলামত নষ্ট করছে তোমরা ওখানে যাও। আমাদের নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে গ্রেনেড হামলার স্থলগুলোতে লাল পতাকা পুঁতে আলামত রক্ষার চেষ্টা করে। অবিস্ফোরিত গ্রেনেড পাওয়া গিয়েছিল। সেটি সেনা অফিসার নিয়ে যায়, সে সেটা রাখতে চেয়েছিল বলে সে চাকরি হারায়। কোনও আলামত না রাখার চেষ্টা তারা করেছিল। এ হামলা সরকারের পক্ষ থেকে করা হয়েছিল।

হামলা সরকারি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সে সময় হাইকোর্টের বিচারপতি জয়নাল আবেদিনকে দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করে। তারা ফরমায়েশি রিপোর্ট দেয়। সাধারণ মানুষ ধরে এনে জজ মিয়াকে আসামি করে আক্রমণ ও ষড়যন্ত্রের হোতা হিসেবে হাজির করে নাটক সাজানো হয়। এখন আস্তে আস্তে সবই বের হচ্ছে। সাধারণ গ্রামের মানুষ সে এত গ্রেনেড কোথা থেকে কিনবে?

উল্লেখ্য ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন; আহত হন কয়েকশ’ নেতাকর্মী। সেদিন অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচণ্ড শব্দে শ্রবণশক্তির ক্ষতি হয় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

এই বিভাগের আরো খবর

নাইকো মামলায় খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক: নাইকো দুর্নীতি...

বিস্তারিত
পুলিশের বাধার মুখে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুলিশ, সন্ত্রাসী ও...

বিস্তারিত
বিএনপি নেতাদের ফেরত পাঠালো পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক: বুয়েট ছাত্র আবরার...

বিস্তারিত
বিএনপি নেতা মেজর হাফিজের জামিন মঞ্জুর

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডিজিটাল নিরাপত্তা...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *