প্রশ্নবিদ্ধ শত কোটি টাকার নির্বাচনী প্রশিক্ষণ

প্রকাশিত: ১০:৪৬, ২৫ আগস্ট ২০১৯

আপডেট: ০৬:২৬, ২৫ আগস্ট ২০১৯

কাজী ফরিদ: দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট বছরের পর বছর জনগণের শত শত কোটি টাকা ব্যয় করছে নির্বাচনী প্রশিক্ষণের নামে। বিগত পাঁচ বছরের ব্যবধানে অনুষ্ঠিত একই পরিসরের দুটি দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রশিক্ষণের ব্যয়ে পার্থক্য বিপুল। শেষটায় ব্যয় বেড়েছে তিনগুণ, হয়েছে দেড়শ কোটি টাকা। কেন এই বৃদ্ধি? কোন সব খাতে যাচ্ছে টাকা? প্রশিক্ষণ আয়োজন, ব্যবস্থাপনা ও ব্যয়ে স্বচ্ছতা কতটুকু? গত ছয় মাস ধরে এমন নানা প্রশ্নের অনুসন্ধান করেছে বৈশাখী টেলিভিশন। অনসুন্ধানে অল্প কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তার কয়েক সপ্তাহে কোটি কোটি টাকা আয়ের ঘটনাসহ বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব প্রশ্নবিদ্ধ ব্যয়, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতার ঘটনা। সেসব নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ প্রথম পর্ব।

গত সাত বছরের তথ্য বলছে, বড় কোন নির্বাচনবিহীন বছরগুলোতে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ব্যয় দশ কোটি টাকার কিছু বেশি বা কম। ব্যাপক নির্বাচনের বছরে এই ব্যয় বহুগুণ বাড়ে। কিন্তু বিগত পাঁচ বছরের ব্যবধানে একই রকম নির্বাচনী বছরে প্রশিক্ষণ ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটেছে। 

২০১৪ সালে দশম সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে প্রশিক্ষণ ব্যয় ছিল ৫০ কোটি টাকা, যার ১৯ কোটি দশম সংসদ নির্বাচন এবং ৩১ কোটি উপজেলা নির্বাচনের প্রশিক্ষণ ব্যয়। পাঁচ বছর পর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে একই রকম দুটি নির্বাচনের প্রশিক্ষণ ব্যয় এত অফিসিয়াল নথিতে ১২৩ কোটি টাকা, আরেক কাগজে ১৫৩ কোটি টাকা। এতো ব্যয় বৃদ্ধিতে বিস্মিত সাবেক এক নির্বাচন কমিশনারসহ এসব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ সাবেক ক’জন স্বনামখ্যাত জেষ্ঠ্য আমলা।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্বাচনী প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট সাবেক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও এই ব্যয় বৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক ও অন্যায্য বলেছেন। অনুসন্ধানের গুরুত্ব ও জনস্বার্থে সেই কর্মকর্তার বক্তব্যটি এখানে উল্লেখ প্রয়োজন, তবে সাংবাদিকতার নীতিমালা মেনে তাঁর পরিচয় গোপন রাখা হলো।

নির্বাচনী প্রশিক্ষণের নামে এমন প্রশ্নবিদ্ধ বিপুল ব্যয় প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটে কর্মরত  কোন কর্মকর্তা বৈশাখী টেলিভিশনের নয় মাসের অনুসন্ধানকালে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। ক্যামেরার আড়ালে এই প্রতিবেদকের সাথে কথা বলেছেন বেশ ক’জন। অনুসন্ধানের বিষয়ের জনগুরুত্ব বিবেচনায় গোপন ক্যামেরায় তাদের বক্তব্য ধারণ করতে হয়েছে। কর্মকর্তাদের পরিচয় গোপন রেখে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের স্বার্থে সেসবের কিছু বক্তব্য তুলে ধরা প্রয়োজন। 

বর্তমান ক’জন কর্মকর্তার বক্তব্যে স্পষ্ট যে, জনগনের অর্থে আয়োজিত প্রশিক্ষণ ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পেছনে প্রয়োজনের চাইতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত আর্থিক লাভকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
 

এই বিভাগের আরো খবর

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও অনলাইন ক্লাস শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনা পরিস্থিতিতে...

বিস্তারিত
করোনা পরীক্ষায় পদে পদে ভোগান্তি 

আশিক মাহমুদ: করোনার পরীক্ষা করাতে পদে...

বিস্তারিত
কুষ্টিয়ায় হরিজন সম্প্রদায়ের জমি দখল! 

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা: কুষ্টিয়ায় হরিজন...

বিস্তারিত
বিশ্বনেতৃত্বে আমেরিকার আসন নড়বড়ে!

ফারহীন ইসলাম টুম্পাঃ করোনাভাইরাস...

বিস্তারিত
সুরের ভুবনের একটি নক্ষত্রের বিদায়

বিউটি সমাদ্দার: এন্ড্রু কিশোরের...

বিস্তারিত
লাফিয়ে বাড়ছে কাঁচামরিচের দাম

সুমন তানভীর: রাজধানীর বাজারে লাফিয়ে...

বিস্তারিত
দুর্দিনে পত্রিকার হকাররা, ফিরছেন গ্রামে

পার্থ রহমান: করোনার দুর্যোগকালে...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *