ঢাকা, রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩১ ভাদ্র ১৪২৬

2019-09-15

, ১৫ মহররম ১৪৪১

নির্বাচনী প্রশিক্ষণ: বিচিত্র ১৫ পদে বিপুল অর্থ ব্যয়

প্রকাশিত: ১০:০০ , ২৬ আগস্ট ২০১৯ আপডেট: ০৯:৩০ , ২৬ আগস্ট ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০১৮-১৯ অর্থবছরের নির্বাচনী প্রশিক্ষণে মূল প্রশিক্ষকদের এক হাজার থেকে সর্বোচ্চ দেড় হাজার টাকা দেয়া হয়েছে একঘণ্টার অধিবেশনের জন্য। একই পরিমাণ সময়ে বক্তব্য রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন, তাদের সচিবালয় ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের হাতে গোনা কয়েকজন উর্ধতন কর্মকর্তাকে দেয়া হয়েছে তিন থেকে পাঁচগুণ বেশি টাকা। নির্বাচনী প্রশিক্ষণ থেকে একদল সরকারি কর্মকর্তাকে বহু লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা দিতে বিশেষ বক্তাসহ বিচিত্র ১৫টি পদ রাখা হয়েছে বিগত অর্থবছরের নির্বাচনী প্রশিক্ষণে। মাত্র দুই মাসের প্রশিক্ষণ থেকে বিপুল আয় অনেক কর্মকর্তার কয়েক বছরের মাসিক বেতনের সমান। 

একটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে প্রশিক্ষনার্থী যেমন থাকেন, থাকেন প্রশিক্ষক। তাদের সহযোগিতার জন্য থাকেন প্রশাসনিক নানা কর্মকর্তা। একথা বলছেন বেসামরিক প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করা সাবেক আমলা সা’দত হুসেইন। কিন্তু এমনটি ঘটেনি ২০১৮-১৯ সালের একাদশ সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের প্রশিক্ষণে। নির্বাচন কমিশন ও তাদের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ব্যয়বহুল বিচিত্র ১৫টি পদ রেখেছে। 

১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অতীতের কোন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে এসব পদের অস্তিত্ব ছিল না। 

তাহলে কেন, কাদের স্বার্থে এমন ১৫টি পদ? নয় মাসের অনুসন্ধানকালে সংশিষ্ট কর্মকর্তারা এমন বহু প্রশ্নের জবাব এড়িয়েছেন সাক্ষাৎকার না দিয়ে। কিন্তু ক্যামেরার আড়ালে পড়ে আছে সত্য, যা অনুসন্ধানের স্বার্থে গোপনে ধারণ করা ছাড়া উপায় ছিলনা।  

দেশের ব্যাপক উন্নয়নের প্রেক্ষিতে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ব্যয় বৃদ্ধির কথা গোপনে কোন কর্মকর্তা বললেও অনুসন্ধান বলছে প্রশিক্ষণকে অর্থবহ করার মূল ব্যক্তি প্রশিক্ষকদের সম্মানী ২০১৩-১৪ সালে যা ছিল পাঁচ বছর পর তা এক টাকাও বাড়েনি। অথচ ২০১৮ ও ১৯ সালে বিতর্কিত ১৫টি পদ রেখে অল্প কিছু কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ বাজেটের অন্তত ১১ কোটি টাকা নিজেদের পকেটে ভরেছেন। যা মাঠ পর্যায়ে ৩৬ হাজার ২৯৪ জন প্রশিক্ষকের সম্মানী ব্যয়ের সমান।

নির্বাচনী প্রশিক্ষণের বিতর্কিত ১৫টি পদে মোট কতজন কর্মকর্তা ১১ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন সেই সংখ্যা অস্পষ্ট থাকলেও অনুসন্ধানে দেখা গেছে এর মধ্যে অন্তত সাড়ে তিন কোটি টাকা নিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার, অন্য ৪জন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব, প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের প্রধানসহ মাত্র ১৮ জন কর্মকর্তা।

বিতর্কিত প্রশিক্ষণ ব্যয়ের সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের কেউ ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন তাদের এই আয় ন্যায্য নয়। কারও মত নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত হওয়ায় এটা অবৈধ বা দুর্নীতি নয়।

এমন অস্বচ্ছ প্রশিক্ষণ ব্যয়ের যথাযথ নিরীক্ষা বা অডিটের প্রয়োজন দেখেন বিশেষজ্ঞরা। সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের জন্য মোট আট সপ্তাহের প্রশিক্ষণ থেকে জনগণের কোটি কোটি টাকা যারা পকেটে ভরছেন তাদের অনেকের কয়েক বছরের মাসিক বেতন এক করেও এতো টাকা হবে না।
 

এই বিভাগের আরো খবর

প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন প্রশিক্ষণ ব্যয়: অনুসন্ধানের জেরে হুমকি

কাজী ফরিদ: দেড়শ’ কোটি টাকার নির্বাচনী প্রশিক্ষণে কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ব্যক্তিগত আয় রাতারাতি বেড়েছে। ব্যয়ে আছে অনিয়ম, অস্বচ্ছতা...

নির্বাচনী প্রশিক্ষণ: কেনাকাটার রশিদের ঠিকানায় রেস্টুরেন্ট ও দোকান নেই

কাজী ফরিদ: ঢাকায় নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ব্যয়ের কিছু ভুতুরে রশিদের কপি মিলেছে বৈশাখী টেলিভিশনের অনুসন্ধানে। কেনাকাটার রশিদের ঠিকানায় নেই...

নির্বাচনী প্রশিক্ষণ: খাবারসহ নানা খাতে অস্বাভাবিক খরচ

কাজী ফরিদ: বিগত সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণগুলোয় প্রশিক্ষণার্থীদের এক কাপ চা ৫০ টাকা দরে “খাইয়েছে” নির্বাচনী...

নির্বাচনী প্রশিক্ষণ: আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন অধস্তন কর্মকর্তারাও

কাজী ফরিদ: সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের প্রশিক্ষণ থেকে কিছু উর্ধতন সরকারি কর্মকর্তা যে কৌশলে বিশাল অংকের টাকা আয় করেছেন, তেমন প্রবণতা তাদের...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is