ঢাকা, রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩১ ভাদ্র ১৪২৬

2019-09-15

, ১৫ মহররম ১৪৪১

একাধিক পদে থেকে কোটি টাকা নিয়েছেন কর্মকর্তারা

প্রকাশিত: ১০:০৭ , ২৭ আগস্ট ২০১৯ আপডেট: ০৮:১৫ , ২৭ আগস্ট ২০১৯

কাজী ফরিদ: ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের প্রশিক্ষণে নির্বাচন কমিশনের বহু কর্মকর্তা একাধিক পদে থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়েছেন। তিনটি করে পদ নিয়েছেন খোদ নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ও নির্বাচন কমিশনের সচিব। শুধু বিতর্কিত একাধিক পদে থেকেই নয়, দেশজুড়ে বহু নির্বাচনী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হয়েও এমন উচ্চ পর্যায়ের নির্বাচনী কর্মকর্তারা টাকা নিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন অনুমোদন করলেও নির্বাচনী প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা, বাজেট প্রনয়ণ ও বাস্তবায়ন করে তাদের প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট। নথি বলছে, আয়োজক প্রতিষ্ঠানের প্রধান, মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক নিজেই প্রশিক্ষণের বিশাল বাজেট থেকে বড় আয়ের সুযোগ রেখেছেন। বহু প্রশিক্ষণের প্রশিক্ষক ছাড়াও বিতর্কিত ১৫ টি পদের তিনটিতে ছিলেন নিজেই। সেগুলো হলো বিশেষ বক্তা, কোর্স পরিচালক এবং সুপারভাইজিং প্রশিক্ষক। এই তিন পদ ও প্রশিক্ষক হিসেবে মোট কত টাকা নিয়েছেন তার পূর্ণাঙ্গ হিসেব না মিললেও নথি ঘেটে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনে কোর্স পরিচালকের একটি পদ থেকেই অন্তত ২৬ লাখ টাকা নিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব হেলালুদ্দীনও প্রশিক্ষক ছাড়াও তিনটি পদে ছিলেন। বিশেষ বক্তা, কোর্স উপদেষ্টা এবং সুপারভাইজিং প্রশিক্ষকের পদে ছিলেন। তার মোট আয়ও জানা যায়নি তবে নথি বলছে, শুধু কোর্স উপদেষ্টার একটি পদ থেকেই তার আয় অন্তত সাড়ে ৪৭ লাখ টাকা। কোর্স উপদেষ্টা ও কোর্স পরিচালক হিসেবে তাদের প্রশিক্ষণে উপস্থিতিরও বাধ্যবাধকতা ছিলনা।

মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক এসব বিতর্ক নিয়ে একবার মাত্র কথা বলতে রাজি হলেও প্রশ্ন শুনে কমিশনের ঘারে দায় চাপিয়ে দ্রুত এড়িয়ে যান।

তারই এক জেষ্ঠ্য সহকর্মী গোপনে এই প্রতিবেদককে যা বলেছেন তাতে সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রশিক্ষণ থেকেই মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুকের আয় কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলে ধারণা মেলে।

তবে মহাপরিচালকের কোন কোন সহকর্মী পরিচয় গোপন রাখার শর্তে আলোচনায় এমন প্রক্রিয়ায় অর্থ গ্রহণকে অন্যায় বা অনৈতিক মনে করেন না।

দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুকের প্রশ্নবিদ্ধ আয়ের সন্ধান মিলেছে অনুসন্ধানে। ফেব্রুয়ারিতে যান ভারত ও বুলগেরিয়া। মোট ১২ দিনের সফর ছিল। সরকারি কোষাগার থেকে নিয়েছেন প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। কিন্তু বিদেশে থাকার দিনগুলোতেও ঢাকায় নিজের দপ্তরে অতিরিক্ত সময় ও ছুটির দিন কাজ ও আপ্যায়ন দেখিয়ে নিয়েছেন হাজার হাজার টাকা। অন্তত এই আয়কে গোপনেও সমর্থন করেননি তাঁর সহকর্মী। প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ আরও কঠিন।

নিজেকে ভীষণ ধার্মিক হিসেবে প্রকাশ করতে ভালবাসেন মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক। জাতীয় শুদ্ধাচার বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশনের নৈতিকতা কমিটি’র সদস্য তিনি। অন্য সহকর্মী ও নির্বাচনী প্রশিক্ষণার্থীদের শুদ্ধাচারের নৈতিক শিক্ষা দেন। তবে মাসে ৯৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরি থেকে মাত্র আট সপ্তাহের প্রশিক্ষণে অনেক বছরের বেতনের সমান আয় কতোটা নৈতিক সে বক্তব্য জানবার সুযোগ দেননি।

এই বিভাগের আরো খবর

প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন প্রশিক্ষণ ব্যয়: অনুসন্ধানের জেরে হুমকি

কাজী ফরিদ: দেড়শ’ কোটি টাকার নির্বাচনী প্রশিক্ষণে কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ব্যক্তিগত আয় রাতারাতি বেড়েছে। ব্যয়ে আছে অনিয়ম, অস্বচ্ছতা...

নির্বাচনী প্রশিক্ষণ: কেনাকাটার রশিদের ঠিকানায় রেস্টুরেন্ট ও দোকান নেই

কাজী ফরিদ: ঢাকায় নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ব্যয়ের কিছু ভুতুরে রশিদের কপি মিলেছে বৈশাখী টেলিভিশনের অনুসন্ধানে। কেনাকাটার রশিদের ঠিকানায় নেই...

নির্বাচনী প্রশিক্ষণ: খাবারসহ নানা খাতে অস্বাভাবিক খরচ

কাজী ফরিদ: বিগত সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণগুলোয় প্রশিক্ষণার্থীদের এক কাপ চা ৫০ টাকা দরে “খাইয়েছে” নির্বাচনী...

নির্বাচনী প্রশিক্ষণ: আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন অধস্তন কর্মকর্তারাও

কাজী ফরিদ: সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের প্রশিক্ষণ থেকে কিছু উর্ধতন সরকারি কর্মকর্তা যে কৌশলে বিশাল অংকের টাকা আয় করেছেন, তেমন প্রবণতা তাদের...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is