ঢাকা, রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩১ ভাদ্র ১৪২৬

2019-09-15

, ১৫ মহররম ১৪৪১

নির্বাচনী প্রশিক্ষণ: খাবারসহ নানা খাতে অস্বাভাবিক খরচ

প্রকাশিত: ১০:০০ , ২৯ আগস্ট ২০১৯ আপডেট: ০৫:৩৮ , ২৯ আগস্ট ২০১৯

কাজী ফরিদ: বিগত সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণগুলোয় প্রশিক্ষণার্থীদের এক কাপ চা ৫০ টাকা দরে “খাইয়েছে” নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট। যতো জনের চা খাওয়ার কথা তার চেয়ে বহু হাজার বেশি ব্যক্তি চা খেয়েছে বলে নথিতে দাবি করা হয়েছে। তা না হলে চায়ের দাম আরও বেশি হতো। প্রশিক্ষণে দুপুরের খাবার, উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান আয়োজন, শব্দ যন্ত্রের ব্যবহার ও সাজসজ্জা ব্যয়ও প্রশ্নবিদ্ধ। এসব খাতে বিশাল বাজেট নিয়ে আছে সন্দেহের জায়গা।

বিগত সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে যে ব্যাপক নির্বাচনী প্রশিক্ষণ হয়,  তাতে কমবেশি সাড়ে তিনশ’ ব্যাচে ৯,৪৫০ প্রশিক্ষণার্থী ছিল ঢাকায় নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটে। যাদের অর্ধেকেরও বেশি একদিন এবং অর্ধেকের কম দু’দিন প্রশিক্ষণ নেয়। প্রতিটি ব্যাচ ছিল ২৫ জনের। প্রশিক্ষণার্থীদের সকাল ও বিকেলে এক কাপ করে শুধু চা খাওয়ার জন্য বাজেট ছিল ২৪ লাখ টাকা। এতে প্রশিক্ষণার্থীদের মোট ২৮ হাজার ২৫ কাপ চা খাওয়ার কথা। যার এক কাপ চায়ের দাম পরে ৮৫ টাকা। নথি দাবি করছে চা খেয়েছেন মোট ১৭, ৫৬০জন, যা প্রকৃত প্রশিক্ষণার্থীর প্রায় দ্বিগুণ। অর্থাৎ ৫৩ হাজার ৩৪০ কাপ চা খাওয়াতে হয়েছে। তাতেও এক কাপ চায়ের দাম দাঁড়ায় ৫০ টাকার মত।

একই কান্ড দুপুরের খাবারেও। বৈশাখী টেলিভিশনের অনুসন্ধান বলছে, ৯,৪৫০ জন প্রশিক্ষণার্থীর জনপ্রতি সাড়ে ৭শ’ টাকা মূল্যে মোট ১৩ হাজার ৯৭৫ বার দুপুরের খাবার খাওয়ার কথা। সেখানে নথি বলছে, ১৪ হাজার ৫৮০ জন মোট ২২ হাজার ১৩০ বার খেয়েছেন। এজন্য খরচ ছিল এক কোটি সাড়ে তিন লাখ টাকা। ইন্সটিটিউটের নিজস্ব রান্নার ব্যবস্থা থাকা স্বত্বেও রেস্টুরেন্ট কখনও বিরানী বা ভাত, তরকারি, সব্জি, ডালের প্যাকেট আনা হয়েছে।

স্থায়ী শব্দযন্ত্র, সাজানো প্লাস্টিকের ফুলসহ নির্বাচন কমিশনে ৩০০ এবং নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটে ২০০ আসনের দুটি মিলনায়তন আছে। তা স্বত্বেও মাত্র ২৫ জন করে সাড়ে তিনশ’ ব্যাচে প্রশিক্ষণ সাজিয়েছে। প্রত্যেক ব্যাচে উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানের নামে বিশ হাজার টাকা করে মোট পৌণে এক কোটি টাকা খরচ দেখিয়েছে। বৈশাখীর অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২৫ জনের ব্যাচ লিখলেও ১০০ জনকেও একসঙ্গে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়, এতে ব্যাচ সংখ্যা বাস্তবে কমে যাবার কথা থাকলেও উদ্বোধনী ও সমাপনীর ব্যয় কমেনি কাগজে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনানুষ্ঠানিক বক্তব্যে অনীহার কারণে  প্রতিবেদনের স্বার্থে গোপন ক্যামেরায় ধারণ করতে হয়েছে এ প্রসঙ্গে তাদের বক্তব্য।   

এমন নানা প্রশ্নবিদ্ধ ব্যয় আরও আছে। এমন বহু অসঙ্গতি প্রশিক্ষণ আয়োজনের বিশাল বাজেটকেই প্রশ্নবিদ্ধ ও সন্দেহের চোখে দেখার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

এই বিভাগের আরো খবর

প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন প্রশিক্ষণ ব্যয়: অনুসন্ধানের জেরে হুমকি

কাজী ফরিদ: দেড়শ’ কোটি টাকার নির্বাচনী প্রশিক্ষণে কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ব্যক্তিগত আয় রাতারাতি বেড়েছে। ব্যয়ে আছে অনিয়ম, অস্বচ্ছতা...

নির্বাচনী প্রশিক্ষণ: কেনাকাটার রশিদের ঠিকানায় রেস্টুরেন্ট ও দোকান নেই

কাজী ফরিদ: ঢাকায় নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ব্যয়ের কিছু ভুতুরে রশিদের কপি মিলেছে বৈশাখী টেলিভিশনের অনুসন্ধানে। কেনাকাটার রশিদের ঠিকানায় নেই...

নির্বাচনী প্রশিক্ষণ: খাবারসহ নানা খাতে অস্বাভাবিক খরচ

কাজী ফরিদ: বিগত সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণগুলোয় প্রশিক্ষণার্থীদের এক কাপ চা ৫০ টাকা দরে “খাইয়েছে” নির্বাচনী...

নির্বাচনী প্রশিক্ষণ: আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন অধস্তন কর্মকর্তারাও

কাজী ফরিদ: সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের প্রশিক্ষণ থেকে কিছু উর্ধতন সরকারি কর্মকর্তা যে কৌশলে বিশাল অংকের টাকা আয় করেছেন, তেমন প্রবণতা তাদের...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is