নির্বাচনী প্রশিক্ষণ: কেনাকাটার রশিদের ঠিকানায় রেস্টুরেন্ট ও দোকান নেই

প্রকাশিত: ০৯:০২, ৩০ আগস্ট ২০১৯

আপডেট: ০৬:০৬, ৩০ আগস্ট ২০১৯

কাজী ফরিদ: ঢাকায় নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ব্যয়ের কিছু ভুতুরে রশিদের কপি মিলেছে বৈশাখী টেলিভিশনের অনুসন্ধানে। কেনাকাটার রশিদের ঠিকানায় নেই রেস্টুরেন্ট ও দোকান। রহস্যজনক এসব রশিদ ছাড়াও একই প্রশিক্ষণে বিবিধ ও আনুষঙ্গিক নামে দুটি প্রশ্নবোধক খাতে বিপুল ব্যয় হয়েছে। এসবে দুর্নীতির গন্ধ পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। চান তদন্ত ও জবাবদিহিতা। 

এটা গত ১৮ই ডিসেম্বরের কেনাকাটার রশিদ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রশিক্ষণ উপলক্ষ্যে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট ৫২ হাজার ৫০০ টাকার দুপুরের খাবার কিনেছে ফার্মগেটে ইন্দিরা রোডের এই রেস্টুরেন্ট থেকে। বৈশাখীর অনুসন্ধানে বের হয় ঠিকানায় রেস্টুরেন্টটি নেই। স্থানীয়রা জানান কখনই এই ঠিকানায় এই নামে কোন রেস্টুরেন্টের অস্তিত্ব ছিল না।

একই কান্ড আগারগাঁও বাজারের জেনারেল স্টোরের। এই রশিদে কেনাটার দিনও গত ১৮ ডিসেম্বর। ঠিকানায় নেই দোকানটি। তবে বহু আগে ছিল। মালিক রফিকের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে ফোনে জানা য়ায় রশিদের তারিখেরও একবছর আগে তিনি দোকান গুটিয়েছেন।

কেনাকাটার এমন রশিদ আরও আছে। যেখানে দোকাণী জানান হাতের লেখা ও স্বাক্ষর তাদের নয়।  তবে অনেকে অলিখিত ফাঁকা রশিদ চাইলে দেন।  

প্রশিক্ষণ পরিকল্পনায় শুধু দুপুরের খাবার ও দু’কাপ চা আছে। কিন্তু রশিদে চকলেট, চিপস, নাট-বাদাম ও পান মসলা কেনার কথা আছে। রশিদগুলো অনুমোদন করেন নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক এবং সহকারী পরিচালক সাব্বির আহমদ। সবাই কথা বলতে নারাজ, শুধু একদিন সাব্বির আহমেদ নিজ অফিস কক্ষে রশিদে নিজের স্বাক্ষর নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করে দ্রুত বিষয়টি এড়ান।  

ঢাকার সাড়ে তিনশ’ ব্যাচের প্রশিক্ষণের প্রত্যেকটিতে উদ্বোধনী-সমাপনী অনুষ্ঠানের নামে প্রশ্নবিদ্ধ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দের পরও ১০ হাজার করে ৩৪ লক্ষাধিক টাকা আনুসঙ্গিক ব্যয় রেখেছিল। 

অন্যদিকে মাঠ পর্যায়ের প্রশিক্ষণে লক্ষ লক্ষ টাকার প্রশ্নবিদ্ধ আনুষঙ্গিক ব্যয় রাখা হয়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের জন্য। সব মিলিয়ে আনুষঙ্গিক ব্যয় ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এসব খরচ নিয়ে ক’জন কর্মকর্তার অনানুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রতিবেদনের স্বার্থে গোপনে ধারণ করতে হয়েছে। 

টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান জানান, সংসদ নির্বাচনের কিছু প্রশিক্ষণে আবার আনুষঙ্গিক খরচ থাকার পরও বিবিধ খরচ নামে পৌণ ২ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। তারপর আবার দেশজুড়ে স্কুলে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে শ্রেণী কক্ষ ব্যবহার উপযোগী করতে ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। 

ভুতুরে ভাউচার ও প্রশ্নিবিদ্ধ আনুষঙ্গিক, বিবিধ ও কক্ষ ব্যবহার উপযোগী খাতে বরাদ্দের টাকা প্রকৃতপক্ষে কোথায় গেছে সেসব তথ্য মিলেনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে। তবে এসবই প্রশিক্ষণ ব্যয়ে ব্যাপক অসঙ্গতির নিশ্চিত ইঙ্গিত দিচ্ছে।  

এই বিভাগের আরো খবর

বান্দরবানে পাহাড় অরণ্যের হাতছানি

আমিনুল ইসলাম মিঠ: বাংলাদেশের পাহাড়ি...

বিস্তারিত
হারিয়ে যাচ্ছে ত্রিপুরাদের নিজস্ব ভাষা

কুমিল্লা সংবাদদাতা: চর্চার অভাবে দিন...

বিস্তারিত
চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৭ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দু’সপ্তাহের...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *