মানহানির মামলায় ব্যারিস্টার মইনুলের জামিন

প্রকাশিত: ০৩:১৬, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আপডেট: ০৯:৩৪, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: মানহানির অভিযোগে এক নারী সাংবাদিকের করা মামলায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের জামিন চেয়ে হাইকোর্ট আবেদন করা হয়েছিল। তবে এর আগেই অসুস্থতাজনিত কারণে পাঁচ হাজার টাকা বন্ডে তার জামিন মঞ্জুর করেছে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত।

রোববার (০৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ঠ শাখায় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের পক্ষে তার মামা ও আইনজীবী খন্দকার মাহাববু হোসেন আবেদনটি করেন। কিন্তু এরই মধ্যে দুপুরে খবর আসে তার জামিন মঞ্জুর করেছেন বিচারিক আদালত।

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের অপর আইনজীবী এম মাসুদ জানান, সিএমএম কোর্ট থেকে জামিন না পেয়ে আমরা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলাম। জামিন আবেদনের বিষয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে আগামীকাল সোমবার (০৯ সেপ্টেম্বর) ১টা ২০ মিনিটে শুনানির জন্য সময় নির্ধারণ করেছিলেন।

গত ৩ সেপ্টেম্বর মানহানির অভিযোগে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির করা মামলায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ঢাকা মহানগর হাকিম মো. তোফাজ্জল হোসেন।

একই আদালত আজ (০৮ সেপ্টেম্বর) তার জামিন মঞ্জুর করেন। এদিন তার জামিনের পক্ষে শুনানি করেন ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তাফা, আইনজীবী আমিনুল ইসলাম ও মহিউদ্দিন চৌধুরী।

আইনজীবীরা জানান, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন সব মামলায় জামিনে রয়েছেন। সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি নিজে বাদী হয়ে ঢাকা মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে মানহানির মামলাটি করেছিলেন। এ মামলাতেও ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনা ছিল, সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করে উচ্চ আদালতের দেয়া জামিনের বিষয়ে অবহিত করতে হবে। সেই সঙ্গে পুনরায় নিম্ন আদালত থেকে জামিন নিতে হবে। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি জামিন নিতে গেলে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন আদালত।

গত ১৬ অক্টোবর একাত্তর টেলিভিশনের টক শো ‘একাত্তরের জার্নাল’-এ ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি প্রশ্ন করেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে আপনি যে হিসেবে উপস্থিত থাকেন- আপনি বলেছেন আপনি নাগরিক হিসেবে উপস্থিত থাকেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই বলছেন, আপনি জামায়াতের প্রতিনিধি হয়ে সেখানে উপস্থিত থাকেন।’

মাসুদা ভাট্টির এমন প্রশ্নে রেগে গিয়ে মইনুল হোসেন বলেন, ‘আপনার দুঃসাহসের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। আপনি চরিত্রহীন বলে আমি মনে করতে চাই। আমার সঙ্গে জামায়াতের কানেকশনের কোনো প্রশ্নই নেই। আপনি যে প্রশ্ন করেছেন তা আমার জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর।’

তার এসব মন্তব্যে প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তৃতা-বিবৃতি দেন বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন। এরপর রংপুর ও জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে মানহানি ও ডিজিটাল আইনে আরও কয়েকটি মামলা হয়।

রংপুরে করা মানহানির এক মামলায় ২২ অক্টোবর রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর উত্তরায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসা থেকে মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয়ে নেয়া হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সব মামলায় জামিন পেয়ে কারামুক্ত হন সুপ্রিম কোর্টের এ জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।

এই বিভাগের আরো খবর

বিজিএমইএ ভবন ভাঙা শুরু

অনলাইন ডেস্ক: আদালত রায় দেওয়ার পরও...

বিস্তারিত
মিন্নির আবেদন শোনেনি হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক: বরগুনার রিফাত শরীফ...

বিস্তারিত
ইভিএম অধ্যাদেশ সংসদে পাস হয়েছে কি না: হাইকোর্ট

অনলাইন ডেস্ক: ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন...

বিস্তারিত
কেউ আইনের উর্ধে নয়: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: কেউ আইনের উর্ধে নয়,...

বিস্তারিত
আবরার হত্যা: অভিযোগ গঠনের শুনানি ৩০ জানুয়ারি

অনলাইন ডেস্ক: বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *