ঢাকা, রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩১ ভাদ্র ১৪২৬

2019-09-15

, ১৫ মহররম ১৪৪১

স্বর্ণ চোরাচালানে সক্রিয় দেশী-বিদেশী সিন্ডিকেট, ব্যবহৃত হচ্ছেন এয়ারলাইন্সের ক্রুরা

প্রকাশিত: ১১:৪৪ , ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ আপডেট: ১১:৪৪ , ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক : দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্বর্ণ চোরাচালান হয়ে ঢুকছে বাংলাদেশে। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এয়ারলাইন্সের ক্রুরা এই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। প্রতি কেজি স্বর্ণ বহনের জন্য কেবিন ক্রুরা পেয়ে থাকেন এক থেকে দেড় লাখ টাকা। স্বর্ণ চোরাচালান নিয়ে অনুসন্ধানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এ তথ্য পেয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রু রোকেয়া শেখ মৌসুমীকে ১০ কেজি স্বর্ণসহ গ্রেপ্তার করে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এর আগে গত ১৮ মার্চ সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের জেদ্দা থেকে ঢাকাগামী একটি বিমানে চার কেজি স্বর্ণের বারসহ কাস্টমসের হাতে গ্রেপ্তার হন দুই কেবিন ক্রু। সেই ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় করা দুটি পৃথক মামলার তদন্ত করছে পিবিআই।

গত কয়েক মাসের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য। প্রাথমিক তদন্তে স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আলি এয়ার ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের হোসাইন আহাম্মেদ মজুমদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে সৌদিয়া এয়ারলাইনসের চার বিমান ক্রুর সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ায় তাদেরও ডাকা হয়েছে। এ কাজে কয়েকজন স্বর্ণ ব্যবসায়ীর জড়িত থাকার তথ্যও পেয়েছে সংস্থাটি।

বিমানবন্দর থানায় করা মামলা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৮ মার্চ জেদ্দা থেকে সৌদিয়া এয়ারলাইনসের একটি বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। ওই বিমানের কেবিন ক্রু সাইমা আক্তার (৪০) ও ফারজানা আফরোজ (৩২) বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস কর্মকর্তারা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বর্ণ থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে ফারজানার কাছ থেকে ১০টি এবং সাইমার কাছ থেকে ২৬টি বার উদ্ধার করা হয়; যার মোট ওজন ৪ কেজি ১৯০ গ্রাম।

এ ঘটনায় সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শাহনাজ আক্তার ও মাসুমা বেগম বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় দুটি মামলা করেন। মামলার বাদী মাসুমা বেগম জানান, ‘ঘটনার দিন আমাদের কাছে গোপন তথ্য ছিল যে স্বর্ণ আসছে। আমরা সাধারণত সবার ব্যাগ চেক করতাম। ক্রুদেরও বেশিরভাগ সময় ব্যাগ চেক করা হতো, তবে শরীর তল্লাশি করা হতো কম। একসঙ্গে অনেক যাত্রী বিমান থেকে নামলে তাদের শরীর চেক করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই সুযোগ নিতে কিছু কেবিন ক্রু অনেকদিন যাবত নিয়মিত স্বর্ন চোরাচালান করে আসছিল। কিন্তু আমরা তাদের ধরে ফেলি।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের এসআই আল আমিন শেখ গণমাধ্যমকে জানান, ‘স্বর্ণ চোরাচালান মামলার তদন্ত চলছে। আশা করছি খুব শিগগিরি এর পেছনে যারা রয়েছে তাদের বের করা সম্ভব হবে। তদন্তের স্বার্থে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।’

তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে এক বিশাল সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে। ’

 

এই বিভাগের আরো খবর

বরগুনায় বাদশা হত্যার নয় মাস

বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনায় যুবলীগ নেতা বাদশাকে কুপিয়ে হত্যার নয় মাস পার হলেও মামলার প্রধান আসামি আজো ধরা পড়েনি। তিন দফা মামলার তদন্ত...

রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট করে দেয়া দালালচক্র চিহ্নিত : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: কক্সবাজার ও টেকনাফের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সহযোগিতায় রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিচ্ছে, জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী...

গাজীপুরে কিশোর গ্যাং দ্বন্দ্বে হত্যা; গ্রেফতার ৬

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের রাজদিঘীর পাড় এলাকায় দুই কিশোর গ্যাং দ্বন্দ্বের জেরে কিশোর নুরুল ইসলাম নুরু হত্যা মামলার মূল আসামি রাসেলসহ ৬...

শরীয়তপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১১ ছাত্রীর চুল কেটে দেয়ার অভিযোগ

শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দফতরিকে দিয়ে জোরপূর্বক ১১ ছাত্রীর চুল কেটে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is