ঢাকা, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬

2019-09-18

, ১৮ মহররম ১৪৪১

দলিল নিবন্ধনে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক: টিআইবি

প্রকাশিত: ০২:০৮ , ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ আপডেট: ০৪:৪৬ , ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভূমি নিবন্ধন ও দলিলের ক্ষেত্রে সেবা গ্রহণকারীদের জিম্মি করে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি। জবাবদিহিতা এবং সুশাসন এই খাতে কাজ করছে না বলেও জানান দুর্নীতি বিরোধী এই সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. ইফতেখারুজ্জামান।

ভূমি দলিল নিবন্ধন সেবায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে তিনি বলেন, দলিল নিবন্ধন ও দুর্নীতি সমার্থক হয়ে গেছে।

ভূমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি দূর করতে টিআইবির পক্ষ থেকে ১৫ দফা সুপারিশ করা হয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ভূমি দলিল নিবন্ধন সেবাখাতে ব্যাপক সুশাসনের ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। এখাতে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে সেবা দেয়ার নামে জিম্মি করে, সময়ক্ষেপণ করে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ ও ঘুষ আদায় করা হচ্ছে। দুর্নীতির মহোৎসব চলবে বলে আমরা দেখতে পাই।’

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অন্য প্রায় সকল খাতের মতোই আইনি দুর্বলতা, সেবার মানোন্নয়নে ও নীতি-নির্ধারণের ক্ষেত্রে, জনবল, অবকাঠামোগত, পরিকল্পনা ও উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটালাইজেশনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন পিছিয়ে পড়েছে। অবকাঠামোগত দিক থেকে অধিকাংশ ভূমি অফিস জরাজীর্ণ। সুশাসনের ঘাটতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত করছে।

তিনি বলেন, কোনো ভূমি দলিল নিবন্ধন অফিস ব্যতিক্রমও পেয়েছি। অনেক কর্মকর্তা জবাবদিহিতার সঙ্গে স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু সে সংখ্যা তুলনায় খুবই কম। মোটাদাগে এ খাতে যে জবাবদিহিতা ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা রয়েছে তা সম্পূর্ণভাবে কাজ করছে না। এর কারণ হচ্ছে এই সেবাখাতে যে দুর্নীতি-অনিয়ম হচ্ছে তা অংশীদারিত্বের ও যোগসাজশের মাধ্যমে দুর্নীতি হচ্ছে। সেখানে সর্বনিম্ন থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত অংশীদারিত্বের দুর্নীতি হচ্ছে। যা কি না প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখায় রূপ নিয়েছে।

সার্বিক চিত্রানুযায়ী, অন্যখাতের মতোই ভূমি দলিল নিবন্ধন অফিসে স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা দেখতে পাই। যা কি না সুশাসনের ঘাটতিকে জটিল ও দুর্নীতিকে আরও উগ্রতর করে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সুলতানা কামাল, উপদেষ্টা (নির্বাহী) অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, পরিচালক (রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি) মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। গবেষণা পরিচালনা ও প্রতিবেদন উপস্থাপন করে প্রোগ্রাম ডেপুটি ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি) শাম্মী লায়লা ইসলাম ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি) নিহার রঞ্জন রায়।

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

৪ বছরেও বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতির তদন্ত শেষ করতে পারেনি দুদক

তাসলিমুল আলম তৌহিদ: বেসিক ব্যাংকের সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা কেলেঙ্কারির তদন্ত কার্যক্রম চার বছরেও শেষ করতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is