গণপরিবহনে মাসিক বেতনে চালক নিয়োগের নির্দেশ

প্রকাশিত: ১২:১৭, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আপডেট: ১২:২১, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে একটি কোম্পানির অধীনে গণপরিবহনে চালকদের মাসিক বেতনের ভিত্তিতে চালক নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় দিয়েছেন। রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) রায় প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

এ রায়ে বলা হয়, বাস কোম্পানি ও চালকদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা দূর করতে বিদ্যমান সকল বাস কোম্পানিগুলোকে একটি কোম্পানির অধীনে আনতে হবে। সকল মহানগরে জোন বা লাইন ভিত্তিক বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজ করতে হবে। সমস্ত গাড়িকে একটি কোম্পানির অধীনে নিয়ে একেকটি রুটের জন্য ভিন্ন ভিন্ন রঙের বাস সার্ভিস চালু করবে।

এছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার সময় চালকদের দৃষ্টিশক্তি ও ডোপ টেস্ট করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করবে বিআরটিএ। মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রতিটি ক্রসিংয়ে ও বাস স্টপেজে চালকরা বেপরোয়াভাবে গণপরিবহন চালাচ্ছে কি-না তা নজরদারি করতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। যাত্রীদের জন্য যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করতে হবে। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বিবাদীদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রায়ে আরও বলা হয়, বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের দু’টি বাসের চালকের বেপরোয়ার কারণেই ওই দুর্ঘটনা ঘটে। হালকা যানচালনার লাইসেন্স থাকার পরও তারা ভারি যান চালাচ্ছিল। তাদেরকে এই ভারি যান চালনার অনুমতি দিয়েছিল বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহন কর্তৃপক্ষ। ফলে ওই দুর্ঘটনার দায় কোনোভাবেই দুটি পরিবহন কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না।

উল্লেখ্য সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব হাসানের ক্ষতিপূরণ মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রিপ ও দৈনিক ভিত্তিতে চালক নিয়োগ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এজন্য রাজীবের দুই ভাই মেহেদী হাসান বাপ্পী ও আব্দুল্লাহ হৃদয়কে ওই দুটি বাস কর্তৃপক্ষ দুই মাসের মধ্যে ২৫ লাখ টাকা করে ৫০ লাখ টাকা প্রদান করবে।

রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, স্বজন পরিবহন প্রাইভেট লিমিটেডের সকল পরিচালক যৌথ ও এককভাবে ওই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

গত বছরের ৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার মোড়ে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের রেষারেষিতে শরীর থেকে হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীবের। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ এপ্রিল রাজীব মারা যান ।

ওই ঘটনায় হাইকোর্টে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। ওই রিটের ওপর গত ২০ জুন রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

এই বিভাগের আরো খবর

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: নাব্যতা সংকটের...

বিস্তারিত
বগুড়ায় বাঁশের সেতু তৈরির কারিগর জাহিদুল

বগুড়া প্রতিনিধি: মানুষের যোগাযোগের...

বিস্তারিত
টাঙ্গাইলের ভাদ্রা-দপ্তিয়ার সড়কের বেহাল দশা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: সংস্কারের এক মাস...

বিস্তারিত
১১ বছরেও সহজ শর্তে সিএনজি অটোরিকশা বিতরণ হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক : পাঁচ হাজার চালককে...

বিস্তারিত
শাহজালালে পৌঁছেছে ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’

অনলাইন ডেস্ক: নির্দিষ্ট সময়ের ৪০...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *