হেপাটাইটিস-বি পজিটিভ হলে যেভাবে বুঝবেন

প্রকাশিত: ০৭:৪২, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আপডেট: ০৭:৪২, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক: হেপাটাইটিস নিয়ে উদ্বেগের সবচে বড় কারণ হচ্ছে সারা বিশ্বে হেপাটাইটিস-বি ও সি ভাইরাসে সংক্রমিত দশজনের মধ্যে নয়জনই জানেন না যে তাদের শরীরে এই ভাইরাস বহন করছে। এছাড়া এই রোগে আক্রান্তরা অনেকক্ষেত্রেই সুচিকিৎসা পান না। আর বাংলাদেশে হেপাটাইটিসে আক্রান্তদের একটা বড় অংশ ঝাড়ফুঁক, পানি পড়া, ডাব পড়া নেয়ার মতো কবিরাজি চিকিৎসার দ্বারস্থ হন।

এ হেপাটাইটিস সংক্রমণ বাংলাদেশে জনসাধারণের মধ্যে জন্ডিস রোগ হিসেবে পরিচিত। প্রকৃত অর্থে হেপাটাইটিস হলো ভাইরাসজনিত লিভারের রোগ। চিকিৎসা বিজ্ঞানে ৫ ধরনের হেপাটাইটিস রয়েছে। হেপাটাইটিস এ এবং ই স্বল্পমেয়াদী লিভার রোগ। এটি বিশ্রাম নিলে এক পর্যায়ে সেরে ওঠে। তবে প্রাণঘাতী হচ্ছে হেপাটাইটিস বি এবং সি ভাইরাসের সংক্রমণ।

কোনো বিষেশ কারণ যেমন বিদেশে যাওয়ার আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বেছায় রক্তদান কিংবা গর্ভকালীন রক্ত পরীক্ষা করতে গিয়ে অনেকের হেপাটাইটিস বি এবং কখনো কখনো হেপাটাইটিস সি ধরা পড়ে। অনেকে একেবারে ভেঙে পড়েন বা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। কারণ অনেকের ধারণা, হেপাটাইটিস বি বা সি পজিটিভ মানেই হলো লিভার সিরোসিস, নিশ্চিত মৃত্যু।

হেপাটাইটিস বি পজিটিভ মানে কী?

কোনো ব্যক্তির হেপাটাইটিস বি পজিটিভ মানে নিচের যে কোনোটি হতে পারে:

১. তিনি হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের ইনকিউবেশন বা স্ফুরণপর্বে আছেন

২. বি ভাইরাস দিয়ে একিউট হেপাটাইটিস (স্বল্পমেয়াদি প্রদাহ) হয়েছে

৩. বি ভাইরাস সংক্রমণ হয়েছিল এবং তা থেকে আরোগ্য লাভ করেছেন

৪. উপসর্গ ছাড়াই ভাইরাসের এন্টিজেন বহন করছেন কিংবা

৫. তিনি হেপাটাইটিস বি জনিত দীর্ঘমেয়াদি রোগাক্রান্ত।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস ইনফেকশনের ইনকিউবেশন বা স্ফুরণপর্ব ৩০-১৮০ দিন পর্যন্ত হয়ে থাকতে পারে। সাধারণত এ সময় অবসাদগ্রস্ততা, পেটে অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে। শারীরিক উপসর্গ বা জন্ডিস দেখা দেওয়ার বেশ কয়েক সপ্তাহ আগেই পজিটিভ দেখা দেয়। এ সময় লিভার এনজাইমগুলোও বাড়তে পারে।

একিউট হেপাটাইটিস বি, এর ক্ষেত্রে সংক্রমণের এক থেকে চার মাস পর সাধারণত উপসর্গ দেখা দেয়। শতকরা দুজনের ক্ষেত্রে লিভার ফেইলিউর হতে পারে। বড়দের ক্ষেত্রে শতকরা ৯৫ জন শরীর থেকে সংক্রমণ দূর করতে সক্ষম হয়ে থাকেন।

ক্রনিক (দীর্ঘমেয়াদি) হেপাটাইটিস বি-এর ক্ষেত্রে সাধারণত ছয় মাসের বেশি সময় যাবৎ প্রদাহ উপস্থিত থাকে। নবজাতকের ইনফেকশনের ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশ, এক থেকে পাঁচ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে ২০-৫০ শতাংশ, বড়দের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশের কম লোক ক্রনিক হেপাটাইটিস বি-তে আক্রান্ত হতে পারেন। ক্রনিক ইনফেকশনের অবশ্য মাত্রাভেদ রয়েছে। কখনো খুব সক্রিয় আবার কখনো খুব নিস্ক্রিয় থাকতে পারে।

রক্ত পরীক্ষায় হেপাটাইটিস বি কিংবা সি ধরা পড়লে আতঙ্কগ্রস্ত না হয়ে চিকিৎসক, লিভার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার মাধ্যমে ভাইরাসের উপস্থিতি ও সক্রিয়তা সম্পর্কে নিশ্চিত হোন। অনেক ক্ষেত্রে ভাইরাস নিস্ক্রিয় অবস্থায়ও দীর্ঘদিন থাকতে পারে। সঠিকভাবে চিকিৎসা নিলে ক্রনিক হেপাটাইটিস, লিভার সিরোসিস নিয়েও ভালো থাকা যায়। ভাইরাস বহন করেও চাকরি, দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে কোনো বাধা নেই। ভেঙে পড়বেন না, সঠিক চিকিৎসা নিন।

এই বিভাগের আরো খবর

কতটা নিরাপদ গর্ভনিরোধক পিল?

অনলাইন ডেস্ক: অপরিকল্পিত গর্ভধারণ...

বিস্তারিত
গ্যাস্ট্রিক সমস্যায় ‘আদা’

অনলাইন ডেস্ক: গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা...

বিস্তারিত
দাঁতের ক্ষয়রোধ করার সহজ উপায়

অনলাইন ডেস্ক: মানব দেহের অতি...

বিস্তারিত
কচি আমপাতার কত গুণ!

অনলাইন ডেস্ক: এসে গেছে ঋতুরাজ বসন্ত।...

বিস্তারিত
রাজধানীর ১১ টি এলাকা ডেঙ্গু ঝুঁকিপূর্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর উত্তর ও...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *