রোহিঙ্গাদের ভোটার: ইসির ১২ কর্মকর্তা শনাক্ত

প্রকাশিত: ০৫:৪২, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আপডেট: ১০:৪২, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: রোহিঙ্গাদের ভোটার করার কাজে জড়িত নির্বাচন কমিশনের এক ডজন কর্মকর্তাকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার সাইদুল ইসলাম। এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যথাসময়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আজ সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মহাপরিচালক।

প্রকল্পে আগে যারা কাজ করতো তারাই জড়িত উল্লেখ করে মহাপরিচালক বলেন, চাকুরিচ্যুতরা যেন নতুন করে কাজে যোগ দিতে না পারে সেজন্য সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বর্তমান ভোটার তালিকায় সন্দেহভাজন কাউকে পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান সাইদুল ইসলাম।

প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ভোটার তথ্যের সার্ভারের প্রেজেনটেশন তুলে ধরে এনআইডি মহাপরিচালক বলেন, আমাদের মূল সার্ভার সম্পূর্ণ সুরক্ষিত আছে। অনেকেই না জেনে বলছেন- ইসির সার্ভারে রোহিঙ্গা ভোটার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কিন্তু ইসির মূল সার্ভারে আগামী ২৪ জানুয়ারির আগে ঢোকার সুযোগ নেই। কেননা, আইন অনুযায়ী- মূল সার্ভারে তথ্য সন্নিবেশ করার আগে ১ জানুয়ারি খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর দাবি-আপত্তি নিয়ে নিষ্পত্তি করা হয়। আর ২৪ জানুয়ারির পর আবারও যাচাই করে মূল সার্ভারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাই চলমান হালনাগাদে রোহিঙ্গারা টেম্পোরারি সার্ভারে ঢুকেছে। ৬১ জনের মতো আমরা চিহ্নিত করেছি।

ব্রিগেডিয়ার সাইদুল বলেন, আমরা ফাঁদ পেতে একটি চক্রকে ধরতে সক্ষম হই। সামরিক বাহিনীতে আমরা যেটা অ্যামবুশ বলি। আমাদের ডাবলমুরিং থানা নির্বাচন অফিসের কর্মচারী জয়নালকে প্রথমে চিহ্নিত করা হয়। এরপর অন্যদের চিহ্নত করা হয়েছে। এই সংখ্যাটা ১৫ জনের অধিক হবে না। তদন্তের স্বার্থে আমার প্রকৃত সংখ্যাটা বলছি না। কোন পর্যায়ের কর্মকর্তা জড়িত, সেটাও বলছি না। কেননা, ইতোমধ্যে দুজনের নাম গণমাধ্যমে আসায় আমরা তাদের খুঁজে পাচ্ছি না।

তিনি বলেন, যারা এই অপচেষ্টার সঙ্গে জড়িত, তাদের বেশিরভাগই ইসি থেকে আগে চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন। তারা ইসির বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করতেন। আমরা ইতোমধ্যে আমাদের সব উপজেলা কর্মকর্তা এবং যারা আমাদের লোকবল সাপ্লাই দেন, তাদের বলেছি- আগে চাকরিচ্যুতরা যেনো ভোটার তালিকার কাজে কোনোভাবে সম্পৃক্ত হতে না পারেন।

ব্রিগেডিয়ার সাইদুল ইসলাম বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা নির্দেশনা দিয়েছেন- জিরো টলারেন্স এগেইনস্ট করাপশন। তাই আমরা শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছি। ইসি কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা আগে যারা কাজ করেছেন, তাদের কেউ জড়িত থাকলে, সেটা দেখা হচ্ছে। আমরা চাকরিচ্যুতদের ওপর কঠোর নজরদারি চালানোর জন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও বলবো। রোহিঙ্গাদের ভোটার করার অপচেষ্টায় যে-ই জড়িত হোক না কেন, আমরা সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব। ফৌজদারি মামলা কিংবা বিভাগীয় মামলাও করবো। এছাড়া অন্য যেকোনো সংস্থার কেউ যদি জড়িত থাকেন, তাদের বিরুদ্ধেও সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনআইডি তথ্যভাণ্ডর সুরক্ষিত রাখার জন্য যা যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, আমরা সব নেব।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রবাসে যখন আমরা ভোটার করব, তখনও রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করা হবে। এছাড়া ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে যারা ভোটার হয়েছেন, তাদের মধ্যে কেউ রোহিঙ্গা আছেন কি-না, সেটাও দেখা হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

বান্দরবানে নির্বাচনী সংঘর্ষ, দুজন নিহত

বান্দরবান প্রতিনিধি : বান্দরবানের...

বিস্তারিত
২৪ উপজেলা, ইউনিয়ন ও পৌরসভায় হচ্ছে ভোট

বৈশাখী ডেস্ক: আট উপজেলা পরিষদ, দুটি...

বিস্তারিত
রংপুরে উপ-নির্বাচনের ভোট গনণা চলছে

রংপুর প্রতিনিধি: রংপুর-৩ আসনের...

বিস্তারিত
রংপুরে উপ-নির্বাচনে নিরুত্তাপ ভোটগ্রহণ

রংপুর প্রতিনিধি: জাতীয় সংসদের রংপুর-৩...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *