সোনাদিয়া দ্বীপ

প্রকাশিত: ০৪:২৮, ০৩ অক্টোবর ২০১৯

আপডেট: ০৪:২৮, ০৩ অক্টোবর ২০১৯

ভ্রমন ডেস্ক: কক্সবাজার সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সোনাদিয়া দ্বীপটি অবস্থিত। সোনাদিয়া দ্বীপ মহেশখালি উপজেলার অন্তর্গত। এটি জীববৈচিত্রের দ্বীপ নামেও পরিচিতি এবং এ দ্বীপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পিপাসুদের জন্য অন্যতম পর্যটন স্থান। চারদিকে গভীর সমুদ্রের সাগরের ঢেউ সমৃদ্ধ এটি মূলত প্যারাদ্বীপ নামে পরিচিতি।

অপরূপ সৌন্দর্যের আধার এ দ্বীপ কক্সবাজার শহর থেকে ৭ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমের দূরে সাগর গর্ভে অবস্থিত। দ্বীপটির আয়তন প্রায় ৯ বর্গকিলোমিটার। তিন দিকে সমুদ্র সৈকত, সাগর লতায় ঢাকা বালিয়াড়ি, কেয়া-নিশিন্দার ঝোপ, ছোট-বড় খাল বিশিষ্ট প্যারাবন। বিচিত্র প্রজাতির জলচর পাখি দ্বীপটিকে করেছে অনন্য বৈশিষ্ট্য মন্ডিত। এটি মহেশখালী কেনেল দ্বারা কক্সবাজারের মূল ভূখন্ড থেকে বিছিন্ন হয়েছে।

এটি দেশের প্রধান শুটকি মাছ উৎপাদন কেন্দ্র। এখানকার ম্যানগ্রোভ বন এবং উপকূলীয় বনভূমি, সাগরে গাঢ় নীল পানি, কেয়া বন, লাল কাঁকড়া, বিভিন্ন প্রকারের সামুদ্রিক পাখি পর্যটকদের মনে দোলা দেয়। এই দ্বীপটি বাংলাদেশের গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরির জন্য নির্বাচিত হয়েছে।

একটি খাল দ্বারা এটি মহেশখালি দ্বীপ থেকে বিছিন্ন হয়েছে। সোনাদিয়া দ্বীপের মানব বসতির ইতিহাস মাত্র ১০০-১২৫ বছরের। দ্বীপটি ২টি পাড়ায় বিভক্ত। পূর্ব ও পশ্চিম পাড়া। দ্বীপের মোট জনবসতি প্রায় ২০০০ জন। এই দ্বীপে ২টি মসজিদ, ১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি সাইক্লোন সেন্টার, আনুমানিক ১২টি গভীর নলকূপ রয়েছে। পূর্ব পাড়ায় তুলনামূলকভাবে জনবসতি বেশী। মাছ ধরা এবং মাছ শুকানো, চিংড়ি ও মাছের পোনা আহরন দ্বীপের মানুষের প্রধান পেশা। কিছু মানুষ ইঞ্জিন চালিত নৌকা ও কাঠের সাধারন নৌকা এবং উহা চালানোর সহকারী হিসাবে কাজ করেও জীবিকা নির্বাহ করে। চারিদিকে নোনা পানি বেষ্টিত হওয়ায় এই দ্বীপে তেমন কোন খাদ্য শষ্য উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। দৈনন্দিন প্রয়োজনাদি জিনিস পত্র সব মহেশখালি থেকে ক্রয় করে আনতে হয়।

ক্যাম্পিং করার জন্য আদর্শ একটা জায়গা হতে পারে সোনাদিয়া, তাবু নিয়ে কয়েকদিনের জন্য ছুটে যেতে পারেন নির্জন এই দ্বীপে। বিশেষ করে চাঁদনী রাতে এই সোনাদিয়ার সৈকতে সুন্দর্য যেন দ্বিগুন হয়ে যায়।  

যাওয়ার উপায়: ঢাকার কমলাপুর, সায়েদাবাদ, কল্যাণপুর ও দেশের যেকোনো স্থান থেকে বাস, ট্রেন বা অন্য কোনো বাহনে করে প্রথমে যেতে হবে কক্সবাজার। কক্সবাজার কস্তুরী ঘাট থেকে স্পিডবোট বা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে তারপর যেতে হবে মহেশখালী। এক্ষেত্রে প্রথমে আপনাকে কলাতলী বা লাবণী পয়েন্ট থেকে কক্সবাজারের ৬ নং ঘাট এ আসতে হবে। ওখানে মহেশখালী যাওয়ার জন্যে স্পীড বোট পাবেন। মহেশখালী যেতে সময় লাগবে ১২-১৫ মিনিট।

মহেশখালী ঘাটে নেমে রিক্সা নিয়ে চলে আসবেন গোরকঘাটা বাজারে। সেখান থেকে আবার ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে সোনাদিয়া দ্বীপে যেতে হয়। ঘটিভাঙা নেমে খেয়া নৌকায় সোনাদিয়া চ্যানেল পার হলেই সোনাদিয়া। ভাটার সময় খালে খুব বেশি পানি থাকেনা। সোনাদিয়া যাওয়ার দুটো উপায় আছে। হেঁটে যাওয়া অথবা জোয়ার এলে নৌকা। প্রতিদিন জোয়ারের সময় পশ্চিম সোনাদিয়া থেকে ঘটিভাঙা পর্যন্ত মাত্র একবার একটি ট্রলার ছেড়ে আসে। এই ট্রলারটিই কিছুক্ষণের মধ্যে যাত্রীদের তুলে নিয়ে আবার ফিরতি যাত্রা করে। ভাড়া প্রতিজন ২৫ টাকা।

ঘটিভাঙ্গা থেকে সোনাদিয়া পশ্চিম পাড়ার উদ্দেশ্যে দিনে শুধু মাত্র একটি বোট যায়। বোট ছাড়ার সময় জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভর করে। 

এই বিভাগের আরো খবর

সমুদ্র গর্ভে বিলীন হচ্ছে কুতুবদিয়া দ্বীপ 

কক্সবাজার প্রতিনিধি: সমুদ্রের পানির...

বিস্তারিত
কাশ্মীর ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হল

ভ্রমণ ডেস্ক: প্রায় দুই মাস অবরুদ্ধ...

বিস্তারিত
সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক 

ভ্রমণ ডেস্ক: সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক...

বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি ভ্রমণ 

ডেস্ক প্রতিবেদন: পর্যটকদের পদচারণায়...

বিস্তারিত
ঘুরে আসুন বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর

ডেস্ক প্রতিবেদন: রাজশাহী শহরের...

বিস্তারিত
শামলাপুর সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ

ভ্রমন ডেস্ক: কক্সবাজরের টেকনাফের...

বিস্তারিত
টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: দূষণের কারণে...

বিস্তারিত
সোনাদিয়া দ্বীপ

ভ্রমন ডেস্ক: কক্সবাজার সদর থেকে প্রায়...

বিস্তারিত
দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতিসংঘ সাধারণ...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *