ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক বিশ্ববাসীর সামনে দৃষ্টান্ত: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ০৬:৩৬, ০৫ অক্টোবর ২০১৯

আপডেট: ০৮:১২, ০৫ অক্টোবর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বহুমুখী ও বহুমাত্রিক সহযোগিতার ফলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বিশ্ববাসীর সামনে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে শীর্ষ বৈঠকের পর শনিবার যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের শুভ সূচনা হয়েছিল ১৯৭১ সালে। মুক্তিযুদ্ধে ভারতের জনগণ সরকারের অপরিসীম অবদানের কথা আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি। আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তা মাইলফলক হয়ে থাকবে।

উদ্বোধনী বক্তেব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ভারতে আমন্ত্রণের জন্য নরেন্দ্র মোদীকে ধন্যবাদ জানান। 

Test

তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে এলপিজি রপ্তানির সিদ্ধান্ত দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে। এর ফলে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর জ্বালানি চাহিদা পূরণ সহজ হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিগত এক দশকে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন প্রথাগত খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন নতুন অপ্রচলিত খাত; যেমন- ব্লু  ইকোনমি মেরিটাইম, পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, মহাকাশ গবেষণা, ইন্টারনেট ব্যান্ডউইড্থ রপ্তানি, সাইবার সিকিউরিটি ইত্যাদি খাতে উভয় দেশ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এসব বহুমুখী বহুমাত্রিক সহযোগিতার ফলে আমাদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিশ্ববাসীর সামনে সু-প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করেন তিনি।

এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুদেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে চায় ভারত সরকার। বৈঠক শেষে দুদেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে ৬টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়। পরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশের তিনটি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন দুই প্রধানমন্ত্রী।

ভারত সফরের তৃতীয় দিন শনিবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। নয়াদিল্লির রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন হায়াদ্রাবাদ হাউজে পৌঁছালে শেখ হাসিনাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান নরেন্দ্র মোদী।

পরে শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসে দুদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উর্ধতন কর্মকর্তারা। এ সময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দেন দুদেশের সরকার প্রধান। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে নরেন্দ্র মোদীকে অনুরোধও করেন শেখ হাসিনা।

বৈঠকে সীমান্তে হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা, সন্ত্রাস দমন, গঙ্গা ও তিস্তার পানিবন্টন ছাড়াও ৭টি অভিন্ন নদীর পানি বন্টনে নতুন উদ্যোগ নেয়ার মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করে দুদেশ। এ সময় অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে দুদেশের উন্নয়ণ ত্বরান্বিত করতে একসাথে কাজ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে দুদেশের মধ্যে অমিমাংশিত বিষয়গুলো সমাধানের বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসে।

বৈঠক শেষে দুদেশের সরকার প্রধানের উপস্থিতিতে পানিবন্টন, যুব ও ক্রীড়া, সংস্কৃতি, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে ৬টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়। এছাড়াও পুরোনো দুটি সমঝোতা স্মারক নবায়ন করা হয়। পরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভারতের অর্থায়নে বাংলাদেশে তিনটি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী। এগুলো হল, বাংলাদেশ থেকে ভারতে এলএনজি রফতানি প্রকল্প, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনে নতুন ভবন নির্মাণ।

পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদী বলেন, দুদেশের সরকারের মূল উদ্দেশ্য জনগণের কল্যাণে কাজ করা।

বহুমাত্রিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুদেশের অগ্রগতির কথা উলে­খ করে শেখ হাসিনা বলেন, ভবিষ্যতেও যৌথ সহযোগিতায় দুদেশ এগিয়ে যাবে।

দ্বিপাক্ষিক প্রকল্পের মাধ্যমে দুদেশই উপকৃত হবে উলে­খ করে ভবিষ্যতে আরও নতুন প্রকল্প নেয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই বিভাগের আরো খবর

অবৈধ শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনতে ১৬টি বিশেষ ফ্লাইট

অনলাইন ডেস্ক: মালোশিয়া সরকার সে দেশে...

বিস্তারিত
হজযাত্রীর কোটা ১০ হাজার বাড়িয়েছে সৌদিআরব

অনলাইন ডেস্ক: সৌদি সরকার ২০২০ সালে...

বিস্তারিত
ইলেক্ট্রনিক ওয়ার্ক পারমিট দেবে মালয়েশিয়া

অনলাইন ডেস্ক: আগামী বছরের (২০২০) শুরুর...

বিস্তারিত
দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্পেনে জলবায়ু...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *