ঘুমের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক হলে মৃত্যু থেকে বাঁচবেন যেভাবে

প্রকাশিত: ১০:৩৩, ১২ অক্টোবর ২০১৯

আপডেট: ১০:৩৩, ১২ অক্টোবর ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক: হৃদরোগে যত মানুষ মারা যান, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশের মৃত্যু হয় হঠাৎ, অনেক সময় ঘুমের মধ্যেইযাকে সাডন কার্ডিয়াক ডেথবা সাডন কার্ডিয়াক অ্যারেস্টবলেসাডন ইনফ্যান্ট ডেথ সিনড্রোম’-এ মারা যায় ৬ মাসের কম বয়সি কিছু বাচ্চাআবার বয়স ৩০ গড়ানোর পর বাড়ে তার প্রকোপবিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুসারে, ৪০-৭৫ বছর বয়সে হাজারে ১-২ জন মানুষ এ ভাবে মারা যান

অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট জায়গা ব্যতীত আচমকা হার্টের অন্যান্য দিক থেকে হৃদস্পন্দন একই সঙ্গে তৈরি হয়, ফলে হৃদস্পন্দন অনেক বেড়ে যায়একে বলে ভেন্ট্রিকুলার ট্যাকিকার্ডিয়াতার খানিক ক্ষণের মধ্যেই হার্ট এত কাঁপতে থাকে যে পাম্পিং প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, একে বলে ভেন্ট্রিকুলার ফিব্রিলেশনঅক্সিজেনের অভাবে প্রথমে জ্ঞান চলে যায়, তড়িঘড়ি ব্যবস্থা না নিলে ৫-৭ মিনিটের মধ্যে মারা যান মানুষআবার সামান্য কিছু ক্ষেত্রে হৃদস্পন্দন তৈরি হতে না পেরে হার্ট থেমে যায়দুক্ষেত্রেই কিছু না কিছু গোলমাল আগে থেকেই থাকেকখনও তা জানা থাকে, কখনও অজানা

তবে কিছু ব্যবস্থা নিলে এই হঠাৎ মৃত্যু কিছুটা ঠেকানো যায়কী ভাবে? জানালেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ প্রকাশ হাজরা

সাডন ডেথ ঠেকাতে: ইস্কিমিয়া নামের হৃদরোগ হল সাডন ডেথের অন্যতম কারণহার্ট অ্যাটাক হলে আশঙ্কা আরও বাড়েবিপদ ঠেকাতে প্রেশার, সুগার, ওজন ইত্যাদিকে সামলে রাখুনশরীরচর্চা ও স্ট্রেস ম্যানেজ করুন, সঠিক খাবার খানচলুন চিকিৎসকের কথা মতোখুব ভালভাবে চিকিৎসা না হলে ১০-১৫ শতাংশ হার্ট অ্যাটাক রোগীর সাডন ডেথ হতে পারেকাজেই ভাল পরিষেবা আছে এমন জায়গায় চিকিৎসা করান

হার্ট অ্যাটাক হয়ে হার্টের পাম্প করার ক্ষমতা ৩৫ শতাংশের নীচে নেমে গেলে বিপদের আশঙ্কা বেশিসঙ্গে অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের অসুখ থাকলে আরও বিপদএ সব ক্ষেত্রে হৃদবিশেষজ্ঞের কথা মতো চলুন

হার্ট ফেলিওর থাকলে ভাল করে চিকিৎসা করে তাকে আয়ত্তে রাখুন

অ্যায়োর্টিক ভালভের অসুখকে হেলাফেলা করবেন না

জন্মগত হৃদরোগ ও কিছু জেনেটিক অসুখ থাকলে বিপদ আছেসমস্যা সামলাতে ইমপ্ল্যান্টেবল কার্ডিওভার্টার ডিফিব্রিলেটর নামের পেসমেকার বসাতে হয়

প্রায়শই বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা বা ব্ল্যাক আউট হলে কার্ডিওলজিস্ট দেখান

শরীরে ঘন ঘন সোডিয়াম, পটাশিয়াম লেভেলের হেরফের হলেও সমস্যা হতে পারেসে দিকে নজর রাখুন

রক্তের সম্পর্কযুক্ত আত্মীয়দের মধ্যে কেউ কম বয়সে হৃদরোগে হঠাৎ মারা গেলে, কোনও কষ্ট না থাকলেও মাঝেমধ্যে চেক আপ করান

চিকিৎসা: হাসপাতালে শক দিয়ে হার্ট চালু করে ওষুধ দিয়ে রোগীকে স্থিতিশীল করা হয়তার পর হয় পরীক্ষানিরীক্ষাগোলমালের মূলে রক্তে ইলেকট্রোলাইটের কম-বেশি বা কোনও ওষুধের হাত থাকলে সহজেই সমস্যা মিটে যায়

হৃদরোগ সন্দেহ হলে করা হয় ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাফি, করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাফি বা ইপি স্টাডিকারণ পাওয়া গেলে ওষুধ বা অপারেশন করে তা সামলানো হয়

কারণ না পাওয়া গেলে আইসিডি নামের পেসমেকার বসাতে হয় দ্রুতআইসিডি নজর রাখে হার্টেহার্ট রেট মারাত্মক বেড়ে গেলে শক দিয়ে তা স্বাভাবিক করেআবার হার্ট রেট কমে বিপজ্জনক পরিস্থিতি হলে এর ব্যাক আপ পেসমেকার সার্ভিস সেটা সামলে দেয়

সূত্র: আনন্দবাজার

এই বিভাগের আরো খবর

অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাঁতার

অনলাইন ডেস্ক: সাঁতার স্বাস্থ্যের...

বিস্তারিত
ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় তেলাপিয়া মাছ

অনলাইন ডেস্ক: কথায় আছে ‘মাছে ভাতে...

বিস্তারিত
ইউরিক এসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে

অনলাইন ডেস্ক: দেহে ইউরিক এসিড বেড়ে...

বিস্তারিত
শিশুর রক্তশূন্যতায় করণীয়

অনলাইন ডেস্ক: অ্যানিমিয়া বা...

বিস্তারিত
শরীরে পানি জমলে কী করবেন ?

অনলাইন ডেস্ক: হঠাৎ করেই অনেকের শরীর...

বিস্তারিত
গর্ভাবস্থায় কেন ড্রাই ফ্রুটস খাবেন

অনলাইন ডেস্ক: গর্ভাবস্থায় প্রত্যেক...

বিস্তারিত
রোগ সারাতে জাম্বুরা খান

অনলাইন ডেস্ক: দেশের সর্বত্রই যে সব ফল...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *