ফারমার্স ব্যাংকে জালিয়াতি; সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা

প্রকাশিত: ০৮:৩১, ১৩ অক্টোবর ২০১৯

আপডেট: ০৮:৩১, ১৩ অক্টোবর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফারমার্স ব্যাংকে (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) ১১৪ কোটি ৩৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা জালিয়াতির ঘটনায় ব্যাংকটির নিরীক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতীর বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)আজ রোববার (১৩ অক্টোবর)কমিশন নতুন করে এই মামলার অনুমোদন দেয়এর আগে এ ঘটনায় পাঁচটি মামলা হয়েছে

দুদক সূত্র জানায়, অনুমোদন হওয়া মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ৮৮ কোটি ১৬ লাখ ১৭ হাজার টাকা তুলে নিয়ে আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ আনা হচ্ছেসুদসহ ওই টাকা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১১৪ কোটি ৩৪ লাখ ৩০ হাজারমামলায় ওই পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হচ্ছে

মামলায় আসামি করা হচ্ছে আটজনকেতাঁরা হলেন ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) নিরীক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী, তাঁর ভাই মাজেদুল হক ওরফে শামীম চিশতী, ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ কে এম এম শামীম, শাবাবা অ্যাপারেলসের মালিক মো. আবদুল ওয়াদুদ ওরফে কামরুল, এডিএম ডাইং অ্যান্ড ওয়াশিংয়ের মালিক রাশেদ আলী, তনুজ করপোরেশনের মালিক মো. মেফতাহ ফেরদৌস, মোহাম্মদ আলী ট্রান্সপোর্টের মালিক মো. গোলাম সারোয়ার ও ক্যানাম প্রোডাক্টসের মালিক ইসমাইল হাওলাদার

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মাহবুবুল হক চিশতীর ভাই মাজেদুল হক চিশতী তাঁর কর্মচারী আবদুল ওয়াদুদকে মালিক সাজিয়ে শাবাবা অ্যাপারেলস নামের একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠান তৈরি করেনপ্রতিষ্ঠানটি ফারমার্স ব্যাংক থেকে ১৫ কোটি ২৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ফান্ডেড ঋণসুবিধা নেয়এ ছাড়া ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপকের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় নন-ফান্ডেড ১৫ কোটি টাকা সুবিধার পরিবর্তে ৩৯ কোটি ৯ লাখ ৬ হাজার টাকার ঋণসুবিধা দেওয়া হয়, যা সুদাসলে ৪৫ কোটি ৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা দাঁড়ায়এ বিষয়ে ব্যাংকটির সাবেক এমডি কোনো ব্যবস্থা নেননিব্যাংকের প্রভাবশালী পরিচালক মাহবুবুল হক চিশতী তাঁর ভাইয়ের মাধ্যমে নিজেই সুবিধাভোগী ছিলেন

একইভাবে মাজেদুল হক চিশতী আরেক কর্মচারী রাশেদ আলীকে মালিক সাজিয়ে এডিএম ডাইং নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করে ১৭ কোটি টাকা ঋণসুবিধার পরিবর্তে ৫৫ কোটি ৫ লাখ ১১ হাজার টাকা ঋণ নেনমাজেদুল হক চিশতীর কাছে ঋণ পরিশোধের জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাগাদা দিলে তিনি পরিশোধের অঙ্গীকার করলেও পরে পরিশোধ করেননি

অনুসন্ধান প্রতিবেদন বলছে, মাহবুবুল হক চিশতী অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংকিং নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজের ভাইকে অর্থ আত্মসাতে সহায়তা করেছেনএ ছাড়া ব্যাংকটির এমডি অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থ আত্মসাতে সহায়তা করেছেন

ফারমার্স ব্যাংকের জালিয়াতির ঘটনা ২০১৭ সাল থেকে অনুসন্ধান চলছেদুদকের অনুসন্ধানে নথিপত্রের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করা হয়বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রাহকের ঋণের ভাগ নিয়েছেন ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও মাহবুবুল হক চিশতীএর মাধ্যমে দুজনের নৈতিক স্খলন ঘটেছে এবং তাঁরা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন

এর আগে পাঁচটি মামলাও হয়েছে২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল করা মামলায় অভিযোগপত্রও দিয়েছে সংস্থাটিমাহবুবুল হক চিশতীসহ (বাবুল চিশতী) পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে অভিযোগপত্রেচিশতী ছাড়া যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে, তাঁরা হলেন মাহবুবুল হক চিশতীর স্ত্রী রোজী চিশতী, ছেলে রাশেদুল হক চিশতী, ফারমার্স ব্যাংকের চাকরিচ্যুত এসভিপি জিয়া উদ্দিন আহমেদ ও চাকরিচ্যুত ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মাসুদুর রহমান খান

এই বিভাগের আরো খবর

বালিশকান্ড: দুই ঠিকাদারকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

নিজস্ব সংবাদদাতা: রূপপুর পারমাণবিক...

বিস্তারিত
বিসিবি পরিচালক লোকমানকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: অবৈধ সম্পদ অর্জনের...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *