বুয়েটের আন্দোলন স্থগিত, তবে একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন

প্রকাশিত: ০৬:০৪, ১৫ অক্টোবর ২০১৯

আপডেট: ০৯:৫৩, ১৫ অক্টোবর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর শুরু হওয়া আন্দোলন স্থগিত করেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে খুনিদের স্থায়ীভাবে বহিস্কার না করা পর্যন্ত ক্লাসে ফিরছেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তারা।

আজ (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে এক সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা জানান তারা। তবে যতদিন পর্যন্ত চার্জশিট দাখিলের মাধ্যমে অপরাধী চিহ্নিত না হবে এবং তাদের স্থায়ীভাবে বহিস্কার না করবে, ততদিন একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নিবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে শিক্ষার্থীরা বলছেন, বুধবার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মিলে নতুনভাবে চলার পথ শুরু করতে শপথ নেয়া হবে। তবে খুনিদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করার আগ পর্যন্ত ক্লাসে ফিরে যাবেন না বলেও ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারীরা বলেন, বুয়েট প্রশাসনের কাছে আমাদের পাঁচটি দাবি ছিল। সেসব দাবির অধিকাংশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ কারণে আমরা বুয়েট প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমাদের মাঠ পর্য য়ের আন্দোলন প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে আগামীকাল বুধবার থেকে আমাদের সকল আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে। সেদিন সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা মিলে বুয়েট ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে শপথ পাঠ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ সময় আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী জানান, বুধবার বুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক ‘গণশপথে’ ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রুখে দেওয়ার বিষয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হবেন তারা। আর এর মধ্য দিয়েই তাদের মাঠের আন্দোলনের ‘আপাতত’ ইতি টানা হবে।

“খুব স্পষ্টভাবে আমরা বলতে চাই, মাঠ পর্যায়ে যে আন্দোলন, তার আপাতত ইতি টানলেও আমরা অবশ্যই সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকব, আমাদের দাবিদাওয়াগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন প্রশাসন নিশ্চিত করছে কি না।

“এবং ফাইনালি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা (আবরার হত্যা মামলার) চার্জশিট দাখিলের পর সেটার ভিত্তিতে অপরাধীদের অ্যাকাডেমিকভাবে স্থায়ী বহিষ্কার হওয়ার আগ পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোনো রকম অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে অংশ  নেবে না।”

আন্দোলনকারীরা আরো বলেন, আবরার হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কিছু স্বার্থন্বেষী মহল এ ঘটনাকে ভিন্নভাবে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে আন্দোলনকারীর অন্যতম সায়েম বলেন, বিগত কয়েক দিন ধরে আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, ভাইয়ের লাশকে পর্দা হিসেবে ব্যবহার করে আড়ালে-অন্তরালে অনেক স্বার্থন্বেষী সংগঠন নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন। আমরা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, এদের সঙ্গে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এর পাশাপাশি আমরা দেশবাসীকে আহ্বান জানাই, এসব স্বার্থন্বেষী মহলের এজেন্ডা দেখে আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। রাজপথে আমাদের অবস্থানকে দীর্ঘায়িত করে এ আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার সুযোগ আমরা দিতে চাই না।

আবরার ফাহাদকে ৬ অক্টোবর রাতে শেরে বাংলা হলের নিজ কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর রাত তিনটার দিকে হলের নিচতলা ও দুইতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ হত্যার ঘটনায় আবরারের বাবা বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

আবরার হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিসহ ১০ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আন্দোলন শুরু করেন। বুধবার (৮ অক্টোবর) শিক্ষার্থীরা ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেন এবং দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেন। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বুয়েট থেকে দলীয় ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের ঘোষণা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সাইফুল ইসলাম। শুক্রবার (১১ অক্টোবর) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক সভায় তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

এরপর যদিও বুয়েট কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু দাবিই বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু আন্দোলনে অনড় শিক্ষার্থীরা বলে আসছিলেন, দাবিগুলো বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত তারা আশ্বাসে ভরসা রাখতে পারছেন না।

এই বিভাগের আরো খবর

সরকার এখন জনগণের উপর চড়াও: ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিত্যপণ্যের দাম...

বিস্তারিত
মিশর থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ পৌঁছেছে ঢাকায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: মিশর থেকে আমদানি...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *