দু’বছর আগে ক্যাসিনো আসে আরামবাগ ক্লাবে

প্রকাশিত: ১০:৪৫, ০১ নভেম্বর ২০১৯

আপডেট: ০৪:১৬, ০১ নভেম্বর ২০১৯

কাজী বাপ্পা: চিরচেনা তাসের জুয়া আর হাউজির পর আরামবাগ ক্লাবে দু’বছর আগে শুরু হয় আলোচিত ক্যাসিনোর যাত্রা। বর্তমান সভাপতি মমিনুল হক সাঈদের হাত ধরে অবৈধ ক্যাসিনো ঢুকে এই ঐতিহ্যবাহী স্পোর্টস ক্লাবে।

চাঁদাবাজি, দখলদারি এমনকি হত্যাকান্ড সংঘটনের মত অভিযোগ থাকলেও সরকারদলীয় রাজনৈতিক পরিচয়ের কারনে তার (মমিনুল হক সাঈদ) কাছে জিম্মি ক্লাবের বর্তমান কমিটিসহ এলাকাবাসী। ক্যাসিনো বিরোধী সাম্প্রতিক অভিযানের পর আরামবাগ ক্লাব সীলগালা করে দেয়া হলেও এখনো সংগঠনটির দখল ধরে রাখতে তৎপরতা চালাচ্ছে সভাপতি সাঈদের বহিরাগত অনুসারীরা।  

আরামবাগ ক্লাবে প্রথমবারের মত ২০১৬ সালে অনির্বাচিত সভাপতি হন স্থানীয় যুবলীগ নেতা মমিনুল হক সাঈদ। তারপর তিনি ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে আরামবাগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে আবারও সভাপতি হন সাঈদ, তবে সেবার নির্বাচিত এবং সাধারণ সম্পাদক হন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ইয়াকুব আলী। তারপর সাঈদের বিরুদ্ধে উঠতে থাকে আরামবাগ ক্লাব অপব্যবহারের অভিযোগ।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতা এবং ক্লাবের ক্লাবের সাথে সংশ্লিষ্ট একজন জানান, একটা সময় আরামবাগ ক্লাবে চেয়ার টেবিল ঠিক করার কাজ করতো। নুরুন্নবী শাওনের সংস্পর্শে আসে সেই তাকে সম্রাটের হাতে তুলে দেয় সম্রাটই তাকে সভাপতি করে। প্রায় দুই বছর আগে ক্লাবের ১৫ টা দোকান জোর করে ভেঙ্গে সেখানে ক্যাসিনো দেয়।

বহু অপকর্মের মধ্যে ক্ষমতার স্বার্থে আরামবাগ ক্লাবের পুরোনো কমিটির সহ-সভাপতি বুলু মিয়াকে হত্যার অভিযোগও রয়েছে সাঈদের বিরুদ্ধে। এখনও ভয়ে বুলু মিয়ার পরিবার। তাই বৈশাখী টেলিভিশনের সাথে কথা বলতে অস্বিকৃতি জানায়। তবে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে পরিবারের বাইরের অনেকে জানান বুলু হত্যাকান্ডের অদ্যোপান্ত। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতা জানান, বুলু মিয়াই প্রথম ইয়াবা আর মাদক ঢুকাইছিলো ক্লাবে, যখন সাঈদ দেখছে এটায় অনেক লাভ তখন ওরে সরায়া দেয়।  

সাম্প্রতিক ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানে উঠে আসে আরামবাগ ক্লাব সভাপতি সাঈদের নাম। দেশের বাইরে থাকায় যোগাযোগের সুযোগ মেলেনি। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলীর সাথে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোন ধরেননি। সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্লাব কমিটির অনুমতি ছাড়াই ক্যাসিনো চালু করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

আরামবাগ ক্রীড়া সংষের সহ-সভাপতি এজাজ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, আমাদের আসলে কোন উপায় ছিল না। তার ক্ষমতার কাছে আমরা বাধা ছিলাম। ক্লাবের খেলোয়াড়দের উন্নয়নে টাকার প্রয়োজন, ক্যাসিনো থেকে যেটা আসতো সেখান থেকে খেলোয়াড়দের জন্য কিছু টাকা দেয়া লাগতো।      

ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের পর নিরাপত্তা বাহিনী আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ সীলগালা করে দেয়। তবু ক্লাবের দখল ধরে রাখতে তৎপরতা চালাচ্ছে সভাপতি সাঈদের ভাড়াটে লোকবল। যাবতীয় বিষয়ে স্থানীয়রা অবগত, কিন্তু প্রাণভয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে চাননা।
 

এই বিভাগের আরো খবর

ক্লাবে ক্যাসিনো বসিয়ে লাভবান হাতে গোনা ক’জন

মাবুদ আজমী: ক্যাসিনোর কালিমা লাগার পর...

বিস্তারিত
দিলকুশা ক্লাব দখল করে ক্যাসিনো চালু করেন সাঈদ

মাবুদ আজমী: মতিঝিলের ক্লাব পাড়ায় অবৈধ...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *