জোর করে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়ার নির্দেশ

প্রকাশিত: ০৪:৪৬, ০৯ নভেম্বর ২০১৯

আপডেট: ১০:০০, ০৯ নভেম্বর ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক: অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল’- এর কারণ দেশের উপকূলীয় ৯ জেলায় ১০ নম্বর মহাবিপদসংকেত জারি করা হয়েছেশনিবার (৯ নভেম্বর) সকাল থেকে এই সংকেত জারির পর থেকেই উপকূলবর্তী এলাকায় মানুষকে সরে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসনশুক্রবার থেকেই লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছিলোতারপরও আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চাচ্ছেন না লোকজনতাদের মধ্যে ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে অনীহা দেখা যায়মহাবিপদ সংকেতের কথা বলে জোর করে তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে হচ্ছে

খুলনার সাতটি উপজেলায় ৩৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫০ জন মানুষের থাকার ব্যবস্থা রয়েছেকিন্তু সাত উপজেলার বিপদাপন্ন মানুষের সংখ্যা ৫ লাখ ১৭ হাজার ২৩৫ জনফলে ২ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৫ জন মানুষ আশ্রয়হীন থাকার শঙ্কা রয়েছেতাদের জন্য বিভিন্ন স্কুলকলেজসহ উঁচু স্থাপনাকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র করে সেখানে নিয়ে যাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক নির্দেশ দিয়েছেনসাত উপজেলায় মোট জনসংখ্যা ১৪ লাখ ৫১ হাজার ১৩০ জন

খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানিয়েছেন, এরই মধ্যে সাতটি উপজেলার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে আহ্বান জানানো হয়েছেএজন্য মাইকিংও করা হচ্ছেইসলামি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় প্রতিটি মসজিদ থেকে মাইকিং করা হয়েছেসাড়ে ৩ হাজার স্বেচ্ছাসেবকও তৎপর রয়েছেপর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখা রয়েছে

এদিকে বরিশালে সাধারণ লোকজন সাইক্লোন শেল্টার সেন্টারে না গেলে প্রয়োজোনে জোর করে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরীশনিবার (৯ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় বরিশাল সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে বরিশালে বিভাগীয় দুর্যোগ বিষয়ক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনিজোর করে হলেও মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় শনিবার বেলা সাড়ে ১২টায় বরিশাল সার্কিট হাউজে বিভাগীয় পর্যায়ের জরুরি সভায় এই নির্দেশ দেন তিনি

তিনি বলেন, ‘উপকূলীয় কিছু কিছু এলাকায় মানুষ মালামাল ছেড়ে সাইক্লোন শেল্টারে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনীহা দেখাচ্ছেবরিশাল বিভাগে দুই হাজার ১১টি সাইক্লোন শেল্টার সেন্টার রয়েছেযেখানে ১৭ লাখ ৮৩ হাজার মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেনদুর্যোগ পরবর্তী জরুরি সেবা দেওয়ার জন্য ৩১৭টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছেএছাড়া সব জেলার সংশ্লিষ্ট সব দফতরকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে

বরিশাল জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, দুর্যোগকালীন জনগণের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বরিশাল জেলার ১০ উপজেলায় ২৩২টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রয়েছেএছাড়া প্রয়োজনে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি অবকাঠামো আশ্রয়কেন্দ্র  হিসেবে ব্যবহৃত হবেএমনকি আশ্রয় নিতে আসাদের জন্য খাবারেও ব্যবস্থা করা হয়েছেএ সংক্রান্ত নির্দেশ স্ব-স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় ভোলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছেজেলার সবখানে রাস্তায়-বেড়িবাঁধে স্বেচ্ছাসেবকদের প্রচার-প্রচারণা ও মাইকিং চলছেচরাঞ্চলের লোকদের কাছের আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হচ্ছেশুরুতে অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে না চাইলেও ১০ নম্বর বিপদ সংকেত ঘোষণার পর আসতে শুরু করেছেনজেলায় ৬৬৮টি আশ্রয়কেন্দ্র ও ১২ হাজার স্বেচ্ছাসেবী প্রস্তুত রয়েছেন বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে

 

জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম সিদ্দিক জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি কোষাগার থেকে নগদ ১০ লাখ টাকা, ২০ মেট্রিক টন চাল এবং দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে

এদিকে পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করার পর শনিবার সকাল থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া শুরু করেছেন লোকজনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ও আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং ও প্রচারণা চালাচ্ছেন জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থার স্বেচ্ছাসেবকরাপাশাপাশি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে

পটুয়াখালীতে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মোট ৪০৩টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছেসার্বিক বিষয় মনিটরিং করতে ১১টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছেত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১০০ মেট্রিক টন চাল, দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ১৬৬ বান্ডিল টিন এবং ৩৫০০ কম্বল মজুত রাখা হয়েছে

বরগুনায় বুলবুলেকারণে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে সদর উপজেলার নলটোনা, বালিয়াতলী, বদরখালী, নিশানবাড়িয়া, বড়ইতলা, মাঝেরচর, গুলিশাখালী, আয়লা পাতাকাটা, বুড়িরচর এলাকাবেতাগী উপজেলার দক্ষিণ কালিকাবাড়ি, আলিয়াবাদ, উত্তর কালিকাবাড়ি, ভোড়া এলাকাআমতলী উপজেলার বৈঠাকাটা, পশুরবুনিয়া, জেলেপাড়া, কলাগাছিয়া, আমতলী পৌরসভার আম্মুয়ার চরতালতলী উপজেলার খোটকারচর, তেতুলবাড়িয়া, নলবুনিয়া, আশারচর, সখিনা ও  আমখোলাপাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের কাকচিড়াবামনা উপজেলার রামনা, তালেশ্বর এলাকার মানুষও জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হওয়ার আতঙ্কে রয়েছেন

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৫০৯টি আশ্রয়কেন্দ্র, ৪২টি মেডিক্যাল টিম, আটটি জরুরি কন্ট্রেল রুম খোলা হয়েছে

বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ‘জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ সিপিপি, রেডক্রিসেন্ট কর্মীরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেনদুর্যোগ আঘাত হানার আগেই বেড়িবাঁধের বাইরের লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা সম্ভব হবেতিনি আরও জানান, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তারা যেন মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসে

এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে চট্টগ্রামে খোলা হয়েছে প্রায় চার হাজার আশ্রয়কেন্দ্রএসব কেন্দ্রে যেতে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে মাইকিং করা হচ্ছেতবে সাড়া নেই উপকূলবাসীরনিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে তারা আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে চাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় উপকূলীয় বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে কাজ করছেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসহান মুরাদট্যুরিস্ট পুলিশ, সিটি করপোরেশনের লোকজনও প্রচারণা চালাচ্ছেনকিন্তু এখনও মানুষ নিরাপদে সরে যাচ্ছে নানগরীতে আমাদের ৭২টির মতো আশ্রয় কেন্দ্র আছেএসব আশ্রয় কেন্দ্রে এখনও কেউ আসেনিতবে আমরা ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলার ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে উপকূলবর্তী এলাকায় সর্বাত্মক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি বলে জানান কমিশনারঝড়ো বৃষ্টি শুরু হলে তখন হয়তো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে শুরু করবে বলেও জানান তিনি

দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে দুটি উপজেলার কিছু লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেনতবে অনেকই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরতে রাজি হচ্ছেন নাউপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিদর্শী সম্বোধি চাকমা জানান, ‘আমরা কাল রাত থেকে মাইকিং করে আসছিসকালে আমরা উড়ির চর ইউনিয়নের প্রায় চার হাজার বাসিন্দাকে আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে এনেছিবেঁড়িবাদ সংলগ্ন অন্যান্য এলাকার বাসিন্দাদেরও সরিয়ে আনতে আমরা সর্বাত্মক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছিকিন্তু তারা কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে আসছেন না

জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন জানান, চট্টগ্রামে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ৪৭৯টি আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়াও দুই হাজার ২৬৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং এক হাজার ২৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছেসম্ভাব্য দুর্যোগে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অধিদফতরের বরাদ্দকৃত ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা জিআর ক্যাশ, ৩৪৯ মেট্রিক টন জিআর চাল, ৬৮১ বান্ডিল ঢেউটিন, দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ৫০০ তাঁবু প্রস্তুত রাখা হয়েছে

এই বিভাগের আরো খবর

রাজশাহীতে ৪২ জন আয়করদাতাকে সম্মাননা

রাজশাহী প্রতিনিধি: প্রতি বছরের মত...

বিস্তারিত
জয়পুরহাটে শসা চাষে স্বাবলম্বী কৃষকরা

জয়পুরহাট সংবাদদাতা: জয়পুরহাটের...

বিস্তারিত
যাত্রী নিয়ে মেঘনা চরে আটকা পড়েছে লঞ্চ

অনলাইন ডেস্ক: প্রায় এক হাজার যাত্রী...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *