বুলবুলের তাণ্ডবের ক্ষত উপকূলজুড়ে

প্রকাশিত: ০১:০৭, ১১ নভেম্বর ২০১৯

আপডেট: ০৮:০৪, ১১ নভেম্বর ২০১৯

ডেস্ক প্রতিবেদন: ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে ঘরবাড়ি, গাছপালা ছাড়াও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে উপকূলীয় জেলাগুলোতে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসেবে,  উপকূলীয় ১৩ জেলায় রোপা আমনসহ ১৮টি ফসলের ২ লাখ ৮৯ হাজার হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুলবুলের কারণে উপকূলীয় জেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট। দুইদিন যাবত বিদ্যুৎ বিছিন্ন রয়েছে উপকূলী এলাকার মানুষ। ফলে ভোগান্তি পৌঁছেছে চরমে।

বুলবুল প্রথম আঘাত হানে সাতক্ষীরায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ১০ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি, নষ্ট হয়ে যায় ২৭ হাজার হেক্টর জমির ফসল। এছাড়া ৫ হাজার ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জানান, পূর্ণ ক্ষতির তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। তালিকা প্রস্তুত হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছা এলাকা। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, খুলনার কয়রা ও দাকোপ উপজেলায় প্রায় দুই হাজার ২৬৫টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে পাঁচ শতাধিক পুকুর ও মাছের ঘের। অন্য সাত উপজেলায় দশ হাজারেরও বেশী ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

মোংলাসহ বাগেরহাটে ৪৪ হাজার ৫শ’ ৬৩টি ঘরবাড়ি, ৩৫ হাজার ৫শ’ ২৯ হেক্টর ফসলি জমি এবং সাত হাজার ২শ’ ৩৪টি মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ক্ষতি হয়েছে ১৮ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের। জেলা প্রশাসনের হিসেবে, জেলার ১ লাখ ৩২ হাজার ৩শ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বরগুনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষি জমি। জেলার ৯ হাজার ৮শ ৬৩ হেক্টর আমন ধানের ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া নষ্ট হয়েছে সাড়ে ৫শ’ হেক্টর জমির শাকসবজি। ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে ৫শ’ ২৩৫টি আর ক্ষতি হয়েছে ৮৬টি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের। এছাড়া ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাড়ে ৩৮ কিলোমিটার বাঁধ।

ভোলায় বেশি ক্ষতি হয়েছে লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলা। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে কয়েকশ বসত ঘর। বিনষ্ট হয়েছে ৫৭ হাজার হেক্টর ফসলি জমি। ফলে মানবেতর জীবন যাপন করছে এসব এলাকার মানুষ।

তবে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন লালমোহন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল হাসান রুমি।

পটুয়াখালীর ৮টি উপজেলায় ২ হাজার ৮১০টি বাড়িঘর বিধস্ত হয়েছে। সম্পূর্ণ বিধস্ত হয়েছে ৩৯৮টি বাড়ি। জেলার ২৮ হাজার ৫০৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মারা গেছে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগী। 

ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধুরী।

এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরিশাল ও চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার অসংখ্য গাছপালা, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি।

এই বিভাগের আরো খবর

মরা গাঙে জোয়ার আর আসে না: কাদের 

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের...

বিস্তারিত
১১ দফা দাবিতে পাটকল শ্রমিকদের গেইটসভা

ডেস্ক প্রতিবেদন: বকেয়া বেতন প্রদান ও...

বিস্তারিত
পঞ্চগড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক: হিমালয় থেকে নেমে...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *