নিউমোনিয়ায় প্রতি ৩৯ সেকেন্ডে এক শিশুর মৃত্যু

প্রকাশিত: ০৭:১৫, ১৩ নভেম্বর ২০১৯

আপডেট: ০৭:১৫, ১৩ নভেম্বর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: গত বছর পাঁচ বছরের কম বয়সী আট লাখেরও বেশি শিশু নিউমোনিয়ায় মারা গেছে, অর্থাৎ প্রতি ৩৯ সেকেন্ডে মৃত্যু হয়েছে একটি শিশুর। নতুন একটি বিশ্লেষণ অনুসারে এমন তথ্য জানিয়েছে ইউনিসেফ।

দুই বছরের কম বয়সী যত শিশু মারা গেছে তাদের বেশিরভাগই জীবনের প্রথম মাসেই মৃত্যুবরণ করেছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউনিসেফ জানায়, ছড়িয়ে পড়া এই মহামারী সম্পর্কে সতর্ক করে স্বাস্থ্য শিশু বিষয়ক ছয়টি শীর্ষস্থানীয় সংস্থা বৈশ্বিক পদক্ষেপের জন্য আজ (বুধবার) আবেদন শুরু করছে।

এই গ্রুপটি আগামী জানুয়ারিতে স্পেনে শৈশবকালীন নিউমোনিয়ার বৈশ্বিক ফোরামে বিশ্ব নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেন, ‘নিরাময়যোগ্য এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রতিরোধযোগ্য রোগ নিউমোনিয়াতে প্রতিদিন পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ২২শ' শিশু মারা যায়। এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য জোরালো বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি এবং বাড়তি বিনিয়োগ জরুরি।

ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাকের কারণে নিউমোনিয়া হয় এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ফুসফুস পুঁজ তরলে ভরে ওঠায় তাদের শ্বাস নেওয়ার জন্য রীতিমতো লড়াই করতে হয়।

২০১৮ সালে অন্য যে কোনো রোগের তুলনায় এই রোগে অনেক বেশি সংখ্যক পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যু হয়। ওই বছর পাঁচ বছরের কম বয়সী লাখ ৩৭ হাজার শিশু ডায়রিয়ার এবং লাখ ৭২ হাজার শিশু ম্যালেরিয়ায় মারা যায়।

সেভ দ্য চিলড্রেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি একটি বিসৃত বৈশ্বিক স্বাস্থ্য মহামারী, যা মোকাবেলায় বৃহত্তর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ প্রয়োজন। টিকা, সাশ্রয়ী অ্যান্টিবায়োটিক নিয়মিত অক্সিজেন-চিকিৎসার অভাবে লাখ শিশু মারা যাচ্ছে। নিউমোনিয়া সংকট হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অবহেলা অসমর্থনীয় বৈষম্যের লক্ষণ।’

নিউমোনিয়ায় মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি শিশুর মৃত্যুর জন্য পাঁচটি দেশ দায়ী। দেশগুলো হলো, নাইজেরিয়া ( লাখ ৬২ হাজার), ভারত ( লাখ ২৭ হাজার), পাকিস্তান (৫৮ হাজার), গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো (৪০ হাজার) ইথিওপিয়া (৩২ হাজার)

এইচআইভির মতো অন্যান্য সংক্রমণ বা অপুষ্টির কারণে যেসব শিশুর রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং যেসব শিশু উচ্চমাত্রার বায়ু দূষণ অনিরাপদ পানির এলাকায় বসবাস করে তারা অনেক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

এই রোগটি টিকা দিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং সঠিকভাবে নির্ণয় করা গেলে স্বল্প ব্যয়ের অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে সহজেই চিকিৎসা করা যায়।

কিন্তু কোটি শিশুকে এখনও টিকা দেওয়া হচ্ছে নাএবং প্রতি তিনটি শিশুর একটির মধ্যে লক্ষণগুলো উপস্থিত থাকলেও তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পায় না।

মারাত্মক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে অক্সিজেন-চিকিৎসারও প্রয়োজন হতে পারে, যা দরিদ্রতম দেশগুলোতে শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও খুব কম ক্ষেত্রেই পাওয়া যায়।

বাংলাদেশে ২০১৮ সালে পাঁচ বছরের কমবয়সী ১২ হাজারেরও বেশি শিশুর মৃত্যু হয় নিউমোনিয়ায়। অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় একজনের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে মৃত্যুবরণ করা শিশুদের ১৩ শতাংশেরই মৃত্যু হয় নিউমোনিয়ায়।

২০১৯ সালে পাঁচ বছরের কমবয়সীদের মৃত্যুহার প্রতি হাজার জীবিত জন্মগ্রহণ করা শিশুর মধ্যে ৪০। বৈষম্য, দারিদ্র্য স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির অভাবে ২০১৯ সালে দরিদ্রতম পরিবারগুলোতে যেখানে প্রতি হাজার জীবিত জন্মগ্রহণ করা শিশুর মধ্যে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়, সেখানে ধনীতম পরিবারগুলোতে প্রতি হাজার জীবিত জন্মগ্রহণকারী শিশুর মধ্যে মৃত্যু হয় মাত্র ২৮ জনের।

ভ্যাক্সিন অ্যালায়েন্স জিএভিআই-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা . সেথ বার্কলে বলেন, ‘এই প্রতিরোধযোগ্য, নিরাময়যোগ্য এবং সহজ-নির্ণয় সক্ষম রোগটিই যে এখনও বিশ্বে ছোট শিশুদের সবচেয়ে বড় ঘাতক হিসেবে রয়ে গেছে, সেটা সত্যিই অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা গত দশকে দারুণ অগ্রগতি অর্জন করেছি। জিএভিআই সহায়তায় স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে নিউমোকোকাল টিকার আওতা এখন বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বেশি, তবে প্রতিটি শিশু যাতে জীবনদানকারী এই টিকা গ্রহণের সুযোগ পায় তা নিশ্চিত করার জন্য এখনও আমাদের অনেক কাজ বাকি।

এই সংস্থাগুলো যৌথভাবে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায়।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সরকারের প্রতি, যাতে তারা নিউমোনিয়াজনিত শিশুমৃত্যু কমাতে নিয়ন্ত্রণ কৌশল প্রণয়ন বাস্তবায়ন করে; এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্য সেবার জন্য একটি বিস্তৃত কৌশলের অংশ হিসেবে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তির সুবিধা উন্নত করে; ধনী দেশসমূহ, আন্তর্জাতিক দাতা এবং বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি, যাতে তারা গুরুত্বপূর্ণ টিকাগুলোর ব্যয় কমিয়ে এবং ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স জিএভিআই-এর ঘাটতি সফলতার সঙ্গে পূরণের বিষয়টি নিশ্চিত করার মাধ্যমে টিকাদানের পরিধি বাড়ায়; এবং নিউমোনিয়া মোকাবেলায় গবেষণা উদ্ভাবনের জন্য তহবিল বাড়ায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সুস্থ থাকতে চাইলে বিয়ে করুন আগেই

অনলাইন ডেস্ক: বিয়ে হল একটি সামাজিক...

বিস্তারিত
রোগ প্রতিরোধে কলার মোচা

অনলাইন ডেস্ক: দেশের বারো মাসি সবজির...

বিস্তারিত
সুস্থ থাকতে যেসব খাবার খাবেন না

অনলাইন ডেস্ক: স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে...

বিস্তারিত
যেসব পানীয় কর্মদক্ষতা বাড়ায়

অনলাইন ডেস্ক: ইলেকট্রোলাইট এমনই এক...

বিস্তারিত
অতিরিক্ত মানষিক চাপ হার্ট অ্যাটাকের কারণ

অনলাইন ডেস্ক: হার্ট অ্যাটাক এক নীরব...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *