ইসি সচিবালয়ের একক কর্তৃত্বে ক্ষুব্ধ কমিশনাররা

প্রকাশিত: ১১:০৪, ২৫ নভেম্বর ২০১৯

আপডেট: ০৩:২৩, ২৫ নভেম্বর ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কার্যক্রমে চার নির্বাচন কমিশনারকে সম্পৃক্ত করা হয় না বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) উপর অভিযোগ তুলেছেন তারা। গতকাল এবিষয়ে নিজেদের ক্ষোভের কথা জানিয়ে সিইসি কেএম নূরুল হুদার কাছে একটি ইউ নোট ও অভিযোগ পত্র দিয়েছেন তারা।

রোববার (২৪ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী সম্মিলিতভাবে এই ইউনোট দেন।

চার কমিশনার সাক্ষরিত নোটে সিইসি ছাড়াও ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীরের ওপরও ক্ষোভের কথা উল্লেখ করা হয়। 'নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার' বিষয়ক আইনের ধারাগুলো তুলে ধরা। এছাড়া সম্প্রতি ইসিতে ৩৩৯ জন কর্মচারি নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

চার কমিশনার ইউনোটে উল্লেখ করেন সচিবালয় এককভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা সংবিধান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ- ১৯৭২, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন- ২০০৯ ও সংশ্লিষ্ট বিধির সুস্পষ্ট লংঘন। তারা এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেন, নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়নি। নিয়োগে কোনো অনিয়ম হলে কমিশন তদন্ত করে দেখতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি। কমিটির সুপারিশ কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী আমি সিইসির কাছে উপস্থাপন করেছি। ২০০৯-১০ সাল থেকে নিয়োগ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম এভাবেই পরিচালিত হয়ে আসছে।

চার কমিশনারের অভিযোগের বিষয়ে সিনিয়র সচিব বলেন, ঘরোয়া আলোচনা পাবলিকলি আমার বলা ঠিক হবে না। উনারা ভালো বলতে পারবেন। তবে এইটুকু বলতে পারি যা হয়েছে তা আইন ও বিধি অনুযায়ী।

চার নির্বাচন কমিশনারের লিখিত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়-

(ক) নির্বাচন কমিশনের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় গঠিত। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারি কমিশনের সার্বিক নিয়ন্ত্রণে অর্পিত সকল দায়িত্ব পালন করবে। এবং সচিব প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের কাছে দায়ী থাকবেন।

(খ) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জন্য অনুমোদিত বাজেট নির্ধারিত খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় অনুমোদনের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনই চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ হবেন; বরাদ্দকৃত অর্থ যেসব খাতে ব্যয় হবে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত এবং কমিশন কর্তৃক অনুমোদন আবশ্যক। মাঝে মধ্যে নির্বাচন প্রশিক্ষণ-সংক্রান্ত কোনো কোনো বিষয় উপস্থাপন করা হলেও অন্য কোনো আর্থিক বিষয়ে কমিশনকে অবগতও করা হয় না। যা নির্বাচন কমিশন আইন, ২০০৯ এর ১৬ ধারার সুস্পষ্ট লংঘন।

(গ) নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন, ২০০৯ এর ধারা ৪ সহ অন্যান্য ধারা বর্ণিত কমিশনের ওপর অর্পিত সকল কার্যাদিতে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে কমিশনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তদুপরি সচিবালয় এককভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, তা গত ১৪ নভেম্বরের কমিশন সভায় সিনিয়র সচিব তুলেও ধরেছেন। যা সংবিধান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন, ২০০৯ ও সংশ্লিষ্ট বিধির সুস্পষ্ট লংঘন।

(ঘ) নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনের সব বিষয়ে সংবিধানসহ বিদ্যমান সকল আইন ও বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন। তা না হলে নির্বাচন কমিশনের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ বিঘ্নিত হবে। একইসঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

লিখিত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন, ২০১০ এর ৫(১) ধারায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ওপর ন্যস্ত থাকবে মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে; এবং একই আইনে ১৪(১) ধারায় উল্লেখ রয়েছে যে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যাবতীয় দায়িত্ব সম্পাদনের জন্য সচিব প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের কাছে দায়ী থাকবেন।

আইনের ১৪ (২) উপধারা মোতাবেক, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারি, নির্বাচন কমিশনের সার্বিক নিয়ন্ত্রণে সচিবের কাছে দায়ী থাকবেন।

এই বিভাগের আরো খবর

সংঘর্ষের ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা: ইসি সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচন কমিশন...

বিস্তারিত
ইভিএমে ভোট গ্রহণে বাধা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার দুই সিটি...

বিস্তারিত
ইশরাকের অভিযোগ সম্পূর্ণ অমূলক: তাপস

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা দক্ষিণ সিটি...

বিস্তারিত
হামলার ঘটনায় মামলার হুমকি ইশরাকের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা দক্ষিণে...

বিস্তারিত
ইসির ভেতরেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই: মাহবুব

নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচন কমিশনের...

বিস্তারিত
টিকাটুলীতে গণসংযোগে দু’দলের সংঘর্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা দক্ষিণ সিটি...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *