নিরামিষ ডায়েটে শরীরে যেসব পরিবর্তন

প্রকাশিত: ১১:২৪, ০২ ডিসেম্বর ২০১৯

আপডেট: ১১:২৫, ০২ ডিসেম্বর ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক: ভোজন রসিক বাঙালি খেতে পচ্ছন্দ করেন। প্রতিবেলার খাবার তালিকায় থাকে মুখরোচক খাবারের নানান পদ। তবে স্বাস্থ্য সচেতনতার কথা চিন্তা করে অনেকেই খাবারে লাগাম টেনে ডায়েটের করতে মনস্থির করেন। শুরু করেন নিরামিষ ডায়েট। যারা নিরামিষ ডায়েট করেন, তারা মাছ, মাংস, দুধ, ডিম কোনটাই খান না। অর্থাৎ প্রানিজ আমিষ খাওয়া থেকে বিরত থেকে শুধু নিরামিষ খেয়ে থাকেন।

সাধারণত ওজন কমানো, হৃদরোগের মতো বিশেষ কারণে মানুষজন নিরামিষ ডায়েট করে থাকেন। হঠাৎ করে আমিষ ছেড়ে নিরামিষ ডায়েট শুরু করলে শরীরে এর কিছু প্রভাব লক্ষ্য করা যায় সহজেই। জেনেনিন নিরামিষ ডায়েটে শরীরের যে পরিবর্তন আসে।

ত্বকের পরিবর্তন: সাধারণত প্রাণীজ উৎসের আমিষ পরিহার করে উদ্ভিদ উৎসের দিকে নজর দেওয়া হয় নিরামিষ ডায়েটে। ফলে প্রথমেই পরিবর্তন ধরা পড়বে ত্বকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যেহেতু শরীরে ভিটামিনের পরিমাণ বাড়বে, তাই ত্বকের উজ্বলতা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। কিন্তু মিশ্র ডায়েটে থাকা অবস্থার চেয়ে নিরামিষ ডায়েটে গেলেই ত্বকের গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে।

শক্তি বৃদ্ধি পায়: নিরামিষ খাবারে ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ বেশি থাকায় শরীরের শক্তির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ক্লান্তিকে দূরে থাকে, ফলে সারা দিন চনমনে থাকার প্রবণতা দেখা যাবে।

ওজন হ্রাস পাবে: নিরামিষ খাবার খেতে শুরু করার পর থেকেই শরীরে প্রাণিজ প্রোটিন এবং চর্বির আসার পথ বন্ধ হয়ে যিায় । ফলে ওজন কমবে এবং হজম শক্তিও বাড়বে।

মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন: নিরামিষ ডায়েটের ফলে শরীরের খাদ্যতন্ত্রে পরিবর্তন আসে। প্রথম প্রথম মলত্যাগের মধ্যে কোনো নিয়ম থাকে না। এর ফলে হঠাৎ ডায়েট পরিবর্তনে একদিন কোষ্ঠ্যকাঠিন্য, তো আরেক দিন পেটের গণ্ডগোল দেখা দিতে পারে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শরীরে এই খাবারে মানিয়ে নেবে। তখন আগের থেকে পেট আরও ভালো পরিষ্কার হবে। কারণ এই খাবারে ফাইব্রয়েডের পরিমাণ অনেক বেশি।

হৃদযন্ত্রের উপকার: বিশেষজ্ঞদের মতে যারা নিরামিষ ডায়েট করেন তাদের হৃদ রোগের (কার্ডিওভাসকুলার) সমস্যা অনেক কম হয়। শরীরে উদ্ভিজ্জ পুষ্টিগুণের কারণে হৃদযন্ত্রের আশঙ্কা কমে যায়। নিরামিষে কোনোরকম স্যাচুরেটেড ফ্যাট না থাকায় এটি কোলেস্টেরলের পরিমানকে স্বাভাবিক রাখে। এটি শরীরে আর্থেরোস্ক্লেরোসিস হওয়ার সম্ভাবনা কম করে। ফলে হার্ট এট্যাক বা স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনাকে কমে যায়।

পেশির পরিবর্তন: হঠাৎ শরিীরে প্রাণিজ প্রোটিন সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে পেশির পরিবর্তন হয়। এতে পেশির আঘাত সেরে উঠতে বেশি সময় লাগবে। যারা জিম করেন, ভারী ওজন নিয়ে ব্যায়াম করেন অথবা ভারী বস্তু ওঠানো-নামানোর মতো কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের ক্ষেত্রে নিরামিষ ডায়েটে পেশির আঘাত সারতে বেশি সময় নেবে নিরামিষ ডায়েটে প্রোটিনের পরিমাণ কম এবং পুরোটাই উদ্ভিজ্জ প্রোটিন থাকায় এমনটা হয়ে থাকে।

ক্যালসিয়ামের অভাব: যারা নিরামিষাভোজী তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা অতটা না হলেও যারা ভেগান, তাদের ক্ষেত্রে এটা মারাত্মক সমস্যা। কারণ তারা দুধও খান না। সে ক্ষেত্রে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘনত্ব কমে যায়। তবে সাপ্লিমেন্টে এর সমাধান করা যায়।

তবে নিরামিষ ডায়েটে গেলে সঠিক মাত্রায় প্রোটিন গ্রহণ করছেন কি না, সে দিকে নজর দিতে হবে। দীর্ঘ দিন সবজি খাওয়ার ফলে শরীরে ভিটামিন বি১ ও ২, আয়রন, হিমোগ্লোবিন ইত্যাদির মাত্রা রক্তে কমে যেতে পারে। প্রোটিনের অভাবে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। ত্বকের সমস্যা, চুল পড়া, বিষণ্নতা, দুর্বলতা, লাবণ্য কমে যাওয়া ইত্যাদি হতে পারে। তিাই লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে প্রোটিনের ঘাটতি না হয়। তবে হঠাৎ করেই নিরামিষ ডায়েট করতে চাইলে পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়া ভাল।

এই বিভাগের আরো খবর

বেলের যত স্বাস্থ্য গুণ

অনলাইন ডেস্ক: গোলগাল দেখতে, বাইরে...

বিস্তারিত
অতিরিক্ত মেদ কমাতে একটি সবজি খান নিয়মিত

অনলাইন ডেস্ক: খাদ্যাভ্যাসের কারণে ও...

বিস্তারিত
কতটা নিরাপদ গর্ভনিরোধক পিল?

অনলাইন ডেস্ক: অপরিকল্পিত গর্ভধারণ...

বিস্তারিত
গ্যাস্ট্রিক সমস্যায় ‘আদা’

অনলাইন ডেস্ক: গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা...

বিস্তারিত
দাঁতের ক্ষয়রোধ করার সহজ উপায়

অনলাইন ডেস্ক: মানব দেহের অতি...

বিস্তারিত
কচি আমপাতার কত গুণ!

অনলাইন ডেস্ক: এসে গেছে ঋতুরাজ বসন্ত।...

বিস্তারিত
রাজধানীর ১১ টি এলাকা ডেঙ্গু ঝুঁকিপূর্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর উত্তর ও...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *