শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী অজয় রায়ের মরদেহ দান

প্রকাশিত: ০৫:১৮, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

আপডেট: ০৮:৫৮, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক: শেষ ইচ্ছানুযায়ী একুশে পদকপ্রাপ্ত পদার্থ বিজ্ঞানের বরেণ্য অধ্যাপক অজয় রায়ের মরদেহ দান করা হবে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে। এই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (সোমবার) দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে মারা গেছেন তিনি। বার্ধক্যজনিত সমস্যা নিয়ে গত ২৫ নভেম্বর বারডেম হাসপাতালে ভর্তি হন অজয় রায়। 

অধ্যাপক অজয় রায়ের ছোট ছেলে অনুজিৎ রায় জানিয়েছেন, আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে বেইলী রোডের বাসভবনে৷ সেখান থেকে সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধার জন্য বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়া হবে। বেলা ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান অনুষদে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণার জন্য তার মরদেহ বারডেম হাসপাতালে দান করা হবে।

অধ্যাপক অজয় রায় ১৯৩৫ সালের ১ মার্চ দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন। স্কুল ও কলেজজীবন দিনাজপুরে কাটানোর পর ১৯৫৭ সালে এমএসসি পাস করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে যোগ দেন। এরপর ১৯৫৯ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের লিডস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ও পরের বছর একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট ডক্টরেট সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৬৭ সালে শিক্ষক হিসাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের যোগ দেন। অবসর নেওয়ার আগ পর্যন্ত সেখানেই কর্মরত ছিলেন তিনি।

 

পদার্থবিদ অজয় রায়ের দুটি গবেষণা নোবেল কমিটিতে আলোচিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অবসরে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির ইউজিসি অধ্যাপকও ছিলেন অজয় রায়। মুক্তিযোদ্ধা অজয় রায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল ভাষা আন্দোলন ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানেও। শিক্ষা আন্দোলন মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক অজয় রায় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রতিষ্ঠাতাদেরও একজন। সবশেষ তিনি নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা ছিলেন।

অধ্যাপক অজয় রায়ের ছোট ছেলে অনুজিৎ রায় আর বড় ছেলে বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায়।

উল্লেখ্য ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশে বড় ছেলে অভিজিৎ রায়কে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে জখম করে। আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অভিজিৎ। এ ঘটনায় প‌র অভিজিতের বাবা অজয় রায় শাহবাগ থানায় এক‌টি হত্যা মামলা  ক‌রেন। ছেলে হত্যার বিচারের জন্য আকুতি থাকলেও মৃত্যুর আগে তা দেখে যেতে পারলেন না প্রতিথযশা অধ্যাপক অজয় রায়। সবশেষ গত ২৮ অক্টোবর আদালতে গিয়ে ছেলে হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন তিনি।

এই বিভাগের আরো খবর

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রের প্রধান...

বিস্তারিত
নতুন হয়রানিতে সৌদি প্রবাসীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভিসার মেয়াদ বাড়াতে...

বিস্তারিত
২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু আরো ৩২, শনাক্ত ১২৭৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে অতিমারি...

বিস্তারিত
অবশেষে সৌদি আরবের পথে প্রবাসী শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: টিকিটের দাম বৃদ্ধি,...

বিস্তারিত
ঢাবি’র ২০টি আবাসিক হলের ৯টিই ঝুঁকিপূর্ণ

আশিক মাহমুদ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের...

বিস্তারিত
‘এবছর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উদযাপন নয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনা ভাইরাসের...

বিস্তারিত
৬ মাস পর খুলছে আবাসিক হোটেলের বার

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *