রোহিঙ্গা গণহত্যা; হেগের আদালতে মিয়ানমারের বিচার শুরু

প্রকাশিত: ১০:১৩, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯

আপডেট: ০৬:৩৮, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের বিচারিক আদালতে (আইসিজে) দায়ের করা মামলার বিচার শুরু হয়েছে আজ। দেশের হয়ে আইনি লড়াই চালাতে আদালতে উপস্থিত আছেন মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চি।

আজ (মঙ্গলবার) বাংলাদেশ সময় বিকালে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত পীস প্যালেসে বাদি দেশ গাম্বিয়ার তথ্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার তিনদিনের শুনানি শুরু হয়েছে।

আজ (মঙ্গলবার) শুনানির শুরুতে মামলার প্রধান বিচারপতি আব্দুল কাই আহমেদ ইউসুফ অভিযোগ পড়ে শোনান। সোমালীয় বংশোদ্ভূত এই বিচারপতি পরে গাম্বিয়া ও মিয়ানমারের পক্ষে একজন করে অ্যাডহক বিচারক নিয়োগ দেন। দুই অ্যাডহক বিচারপতি গাম্বিয়ার নাভি পিল্লাই এবং মিয়ানমারের প্রফেসর ক্লাউস ক্রেস। তারা মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার শুরুতে শপথ নিয়েছেন।

বিচারকরা আন্তর্জাতিক এই মামলার পুরো সময়ে যাতে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন; সেকথা শুরুতেই স্মরণ করিয়ে দেন প্রধান বিচারপতি ইউসুফ। আন্তর্জাতিক আদালতের এ বিচারপ্রক্রিয়ায় নিযুক্ত রয়েছেন ১৭ সদস্যের বিচারকের একটি প্যানেল। মিয়ানমারের এই বিরোধকে বাড়িয়ে তুলতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ যাতে দেশটি না নেয়; সেজন্য ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে গাম্বিয়া।

গাম্বিয়াকে আইনি সহায়তা না দিলেও সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ। গাম্বিয়ার দাবিকে আরও জোরালো করতে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কানাডা ও নেদারল্যান্ডস। ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় নিজস্ব আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে মিয়ানমার ও গাম্বিয়া।

এদিকে, রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ স্বীকার করে নিতে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সাত নোবেল বিজয়ী। এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে সুচির প্রতি এই আহ্বান জানানো হয়।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে রক্তাক্ত সামরিক অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। সামরিক বাহিনীর জ্বালাও-পোড়াও, খুন, ধর্ষণের মুখে ৭ লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। জাতিসংঘ মিয়ানমার সামরিক বাহিনী এ অভিযান গণহত্যার অভিপ্রায়ে পরিচালনা করেছে বলে মন্তব্য করেছে।

গত নভেম্বরে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের ১৯৪৮ সালের গণহত্যা কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে হেগের আদালতে মামলা করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক এই আদালতে গণহত্যার দায়ে তৃতীয় মামলা এটি।

এই বিভাগের আরো খবর

আজীবন ক্ষমতার পথে পুতিন!

ফারহীন ইসলাম টুম্পা: চীনের শি...

বিস্তারিত
যেভাবে ছড়ায় করোনা ভাইরাস

অনলাইন ডেস্ক: রহস্যময় চীনের করোনা...

বিস্তারিত
ট্রাম্পের অভিশংসন শুনানি আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *