রায়েরবাজার: বধ্যভূমি থেকে স্মৃতিসৌধ কমপ্লেক্স 

প্রকাশিত: ১২:২৭, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯

আপডেট: ০৯:৫৮, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক: রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে স্বাধীনতার পরবর্তী এক দশকে রাতের বেলা দূরের কথা, দিনেও মানুষ সেখানে চলাচল করতো ভয়ে ভয়ে। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার-আলবদররা দেশের সূর্য সন্তানসহ অসংখ্য মানুষকে ধরে এনে এই এলাকার ইটভাটাগুলোতে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। 

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সেই বিভীষিকাময় চিত্র যখন একে একে উন্মুক্ত হতে থাকলো আতঙ্ক আর ভয়ে গা কাঁটা দিয়ে উঠতো রাজধানীবাসীর। রায়েরবাজার বধ্যভূমির চারদিকে পাওয়া যেত মানুষের খুলি আর হাড়গোড়। এরপর ধীরে ধীরে পাল্টে গেছে রায়েরবাজার। মুক্তিযুদ্ধের সেই ইতিহাস সংরক্ষণ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এখানে নির্মাণ করা হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় স্মৃতিসৌধ।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্থানটি সংরক্ষণ করে তাতে একটি স্মৃতিসৌধসহ বড় কবরস্থান নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।  

তিন একর জায়গার ওপর ১৯৯৯ সালে রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ শেষ হলেও সৌধের পেছনের বিশাল অংশ বেদখল ছিল। এর ঠিক পেছনের অংশসহ পুরো এলাকা ছিল আবর্জনায় ভর্তি। এটি সরকারি খাসজমি হলেও বিভিন্ন সময়ে দখলদাররা তাদের নিজেদের নামে রেকর্ড করে নিয়েছেন। সৌধের পেছনে বড়-বড় স্থাপনা নির্মাণের কাজও শুরু করেন তাদের অনেকেই। তবে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হলে স্মৃতিসৌধের মর্যাদা ও নিরাপত্তার বিঘœ ঘটতো। এ কারণে সরকার পুরোজমি অধিগ্রহণ করে সেখানে কবরস্থান নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।

গত মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালের জুলাই মাসে ‘রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ-সংলগ্ন কবরস্থান উন্নয়ন প্রকল্প’ নামের একটি প্রকল্প হাতে নেয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৪ স্বতন্ত্র ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের ৫-আর ই ব্যাটালিয়নকে। এতে খরচ হয় ৫৪৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

৯৬ দশমিক ২৩ একর জমির ওপর নির্মিত মূল কবরস্থানের ভূমির পরিমাণ ৮১ দশমিক ৩০ একর। প্রকল্পে কবরস্থান ছাড়াও ভেতরে রয়েছে দু’টি দৃষ্টিনন্দন লেক, দু’টি মসজিদ, জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য পাঁচ একর জায়গা, ৬ দশমিক ১৩ একর জমিতে র‌্যাবের একটি কার্যালয় রয়েছে। এছাড়া এ কবরস্থানে সাত হাজার ২০ বর্গমিটার নামাজের স্থান ও মরদেহ রাখার ঘর, চার হাজার ৭১৭ মিটার সীমানা প্রাচীর, এক দশমিক ৮০ কিলোমিটার রাস্তা, ১০ দশমিক ১৩ কিলোমিটার হাঁটার পথ, এক দশমিক ৯১ কিলোমিটার পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং ১৪২ দশমিক ৮৬ বর্গমিটার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। কবরস্থানে প্রবেশের জন্য রয়েছে তিনটি ফটক। এতে এক লাখ ২০ হাজার মানুষকে দাফন করা যাবে।

বিস্তীর্ণ কবর স্থানটি ১৬টি ব্লকে বিভক্ত। এর মাঝপথ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে বেশ কিছু সরু পাকা রাস্তা। এর ভেতর দিয়ে বয়ে চলা লেকের ওপর তিনটি সংযোগ সেতু রয়েছে। এতে শিশু ও ভিআইপিদের কবরের জন্য আলাদা জায়গা রাখা হয়েছে। রয়েছে বাতির ব্যবস্থাও। আছে নানা জাতের ফুলের বাগান।

স্থানিয়রা বলেন, ‘কিছুদিন আগেও এই এলাকায় হাঁটা ছিল আতঙ্কের বিষয়। দুর্গন্ধে এর আশপাশে হাঁটা যেতো না। বধ্যভূমির পুরো এলাকা বেদখল ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে প্রকল্প গ্রহণ করে পুরো এলাকা সংরক্ষণ করেছে সরকার। 

এই বিভাগের আরো খবর

বিশ্বে শিশুমৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ ডায়রিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বব্যাপী শিশু...

বিস্তারিত
হাসপাতালে কেমন আছেন খালেদা জিয়া

অনলাইন ডেস্ক: ডায়াবেটিস, উচ্চ...

বিস্তারিত
ইশরাকের অভিযোগ সম্পূর্ণ অমূলক: তাপস

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা দক্ষিণ সিটি...

বিস্তারিত
হামলার ঘটনায় মামলার হুমকি ইশরাকের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা দক্ষিণে...

বিস্তারিত
ইসির ভেতরেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই: মাহবুব

নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচন কমিশনের...

বিস্তারিত
টিকাটুলীতে গণসংযোগে দু’দলের সংঘর্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা দক্ষিণ সিটি...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *