ধর্ষণের পর ছাত্রীকে হত্যার চেষ্টা করে মজনু

প্রকাশিত: ১০:১৩, ০৮ জানুয়ারি ২০২০

আপডেট: ০৩:০৯, ০৮ জানুয়ারি ২০২০

অনলাইন ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় আটক ধর্ষকের নাম মজনু।র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, ধর্ষক মজনু ছাত্রীকে ধর্ষণের পর তাকে হত্যার চেষ্টা করে। ধর্ষক মজনু হকার ব্যবসার পাশাপাশি ছিনতাই-রাহাজানির সাথে জড়িত। তার বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়ায়। তারা আরো জানায়, মজনু (৩০) মাদকাসক্ত, ছিনতাইকারী এবং সিরিয়াল রেপিস্ট।

আজ বুধবার (০৮ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‍্যাব কার্যালয়ে লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক সারোয়ার বিন কাসেম সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘মজনু সিরিয়াল রেপিস্ট। এর আগে একই জায়গায় সে ধরনের অপরাধ করেছে। প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুকসহ বিভিন্ন নারীদের সে আটকে রেখে ধর্ষণ করতো। তাদের হত্যার হুমকিও দিত। মজনু স্বীকার করেছে সে একাই ছিল, ভিকটিমও তেমনই বলেছে। ঘটনার দিন মজনু কুর্মিটোলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে রাস্তায় বের হওয়ার পর মেয়েটিকে দেখতে পায়। এরপরই সে আলোড়িত হয়। পরে মেয়েটিকে অনুসরণ করে তার পিছু নেয়।

তিনি আরও বলেন, ‘ছবি দেখিয়ে ভিকটিমের কাছ থেকে আসামিকে শনাক্ত করা হয়েছে। ভিকটিম বলেছে, সব চেহারা ভুলে গেলেও এই চেহারা তিনি কোনোদিনও ভুলবেন না।

জিজ্ঞাসাবাদে মজনু র‍্যাবকে জানিয়েছে, সে নিরক্ষর। ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে তার সামনের দুটি দাঁত ভেঙে যায়। স্ত্রী মারা যাওয়ার পরে সে আর বিয়ে করতে পারেনি। তাই সে এধরনের কাজ করতো। 

গ্রেফতারের বিষয়ে র‍্যাব জানায়, ‘মামলাটি ক্লুলেস ছিল। মূলত ভিকটিমের মোবাইলের সূত্র ধরেই তাকে গ্রেফতার করতে আমরা সক্ষম হই। মজনুর কাছ থেকে ভিকটিমের ব্যাগ, পাওয়ারব্যাংক মোবাইল উদ্ধার করা হয়। মজনু সেই মোবাইলটি শেওড়া এলাকার অরুনা নামে একজনের কাছে দেয়। অরুনা সেই মোবাইলটি খায়রুল নামে একজনের কাছে বিক্রি করে। সেই মোবাইলের সূত্র ধরেই মজনুকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। ওই এলাকায় গিয়ে জানা যায় সে প্রায় ওই এলাকায় ওৎ পেতে থাকতো।

বুধবার (০৮ জানুয়ারি) ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে শেওড়া রেলক্রসিং থেকে মজনুকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। বুধবার সকাল ৯টার দিকে তথ্য জানানো হয়।

এর আগে মঙ্গলবার র‍্যাবের একটি সূত্র জানায়তিনজন নজরদারিতে রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক। সে- প্রধান ক্রিমিনাল।  

ক্যান্টনমেন্ট থানায় করা মামলার এজাহারে বলা হয়, ধর্ষকের উচ্চতা ফুট ইঞ্চির মতো। গায়ের রঙ শ্যামলা, গড়ন মাঝারি। পরনে জিন্সের পুরনো ফুলপ্যান্ট ময়লা কালচে ফুলহাতা জ্যাকেট, পায়ে স্যান্ডেল এবং মাথার চুল ছোট করে ছাঁটা।

গত রোববার (০৫ জানুয়ারি) বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষণিকা বাসে করে ওই ছাত্রী বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছিলেন। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে কুর্মিটোলা বাসস্টপেজে নামার পর তাকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি অনুসরণ করতে থাকে। একপর্যায়ে তাকে ফুটপাতের ঝোপে নিয়ে ধর্ষণ করে। রাত ১০টার দিকে জ্ঞান ফিরলে ওই শিক্ষার্থী রিকশায় করে বান্ধবীর বাসায় যান। সেখান থেকে বান্ধবীসহ অন্য সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এই বিভাগের আরো খবর

বিজিএমইএ ভবন ভাঙা শুরু

অনলাইন ডেস্ক: আদালত রায় দেওয়ার পরও...

বিস্তারিত
মিন্নির আবেদন শোনেনি হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক: বরগুনার রিফাত শরীফ...

বিস্তারিত
ইভিএম অধ্যাদেশ সংসদে পাস হয়েছে কি না: হাইকোর্ট

অনলাইন ডেস্ক: ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন...

বিস্তারিত
কেউ আইনের উর্ধে নয়: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: কেউ আইনের উর্ধে নয়,...

বিস্তারিত
আবরার হত্যা: অভিযোগ গঠনের শুনানি ৩০ জানুয়ারি

অনলাইন ডেস্ক: বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *