বছরে ৩০ হাজার কোটি টাকার প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন

প্রকাশিত: ১০:৫৫, ১৪ জানুয়ারি ২০২০

আপডেট: ০৪:০০, ১৪ জানুয়ারি ২০২০

ফাহিম মোনায়েম: নতুন প্রত্যাশা নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছে নতুন বছরের। বাংলাদেশের সামনে অন্তত ১৫টি খাতকে দ্রুত উন্নতির ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়। সেসব খাতের অগ্রযাত্রা এবং ভবিষ্যতে সম্ভাবনার দুয়ারগুলো নিয়ে নববর্ষে বৈশাখীর মাসব্যাপী ধারাবাহিক আয়োজনে আজ পড়ুন প্লাস্টিক খাত নিয়ে দুটি প্রতিবেদনের প্রথমটি।

বাংলাদেশে পঞ্চাশের দশকে পুরান ঢাকায় ছোট পরিসরে শুরু হয় প্লাষ্টিক শিল্পের পথচলা। যদিও দুই দশক আগেও এদেশে উৎপাদিত প্লাষ্টিক পণ্যের মান ছিলো নিম্ন। তবে এখন মান ও বৈচিত্র্যে এই শিল্প এতটাই এগিয়েছে যে দেশেয় চাহিদার ৯০ শতাংশই পুরণ করে এদেশে উৎপাদিত প্লাষ্টিক পণ্য।

বাংলাদেশে প্লাস্টিক খাতে ছোট-বড়-মাঝারি মিলিয়ে কারখানার সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার। আর কর্মসংস্থান হয়েছে ১২ লাখেরও বেশি মানুষের।

দেশে এখন তৈরি হচ্ছে বিশ্বমানের প্রায় সবধরণের আধুনিক প্লাস্টিক পণ্য। উদ্যোক্তারা জানালেন, দ্রুত বিকাশমান এই খাতকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন পৃথক শিল্পনগরী, সাশ্রয়ী মূল্যে এলএনজি’র যোগান ও নতুন পণ্য তৈরিতে মোল্ড ফ্যাসালিটি বাড়ানোর উদ্যোগ।

বাংলাদেশে এখন প্রতিবছর প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকার প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। যে খাত থেকে সরকার বছরে রাজস্ব পাচ্ছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। উদ্যোক্তারা জানালেন, দশ বছরের মধ্যে দেশে প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার বাড়বে পাঁচ গুন। সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

এদিকে প্লাস্টিক শিল্পের প্রসারে মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখানে গড়ে তোলা হচ্ছে শিল্পনগরী। যেখানে স্থাপন করা হবে ৩৪৮টি ইউনিট। কর্মসংস্থান হবে ১৭ হাজার লোকের। এছাড়া দক্ষ কর্মী তৈরি করার পাশাপাশি পণ্যের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিপিজিএমইএর উদ্যোগে গড়ে তোলা হচ্ছে প্লাস্টিক টেকনোলজি ইনস্টিটিউট ‘বিপেট’।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শিল্পনীতিতে অগ্রাধিকার পাওয়া সম্ভাবনাময় এই খাতের বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকারকে নীতি সহায়তা বাড়াতে হবে। সেই সাথে উদ্যোক্তাদের নিতে হবে পরিবেশ বান্ধব পদক্ষেপ।

তৈরি পোষাক খাতের বিশ্ববাজার চার’শ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি। যেখানে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব ৩৪ বিলিয়ন ডলার। অথচ ছয়’শ বিলিয়ন ডলারের প্লাষ্টিক পণ্যের বাজার থেকে বাংলাদেশের আয় মাত্র ৯০০ মিলিয়ন ডলার। উদ্যোক্তারা বলছেন, সরকারি সহযোগিতা পেলে এই শিল্প ছাড়িয়ে যাবে তৈরি পোষাক খাতকেও।

বিপিজিএমইএ থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশে ক্ষুদ্র, মাঝারি এবং বৃহৎ প্লাস্টিক শিল্প কারখানার সংখ্যা ৫০৩০টি, যেখানে প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ এবং নির্ভরশীল জনবলের সংখ্যা ১২,২৯,৫০০ জন।

এই বিভাগের আরো খবর

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আস্থা বেড়েছে রোগীদের

শাহনাজ ইয়াসমিন: নতুন প্রত্যাশা নিয়ে...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *