সরকারি হাসপাতালে কেনাকাটায় দুর্নীতির মহোৎসব

প্রকাশিত: ১১:৩০, ১৫ জানুয়ারি ২০২০

আপডেট: ১২:৩৩, ১৫ জানুয়ারি ২০২০

তাসলিমুল আলম: সরকারি হাসপাতালের কেনাকাটায় দুর্নীতির মহোৎসব চলছে। সারাদেশে কেবল ৩০টি হাসপাতালের কেনাকাটায় লোপাট হয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা। এসব দুর্নীতির তথ্য এখন দুদকের হাতে। কোন কোন ক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি না কিনেই ভুয়া বিল-ভাউচারে টাকা তুলে আত্মসাৎ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১০টি মামলা হয়েছে। বাকিগুলোর তদন্ত শেষে মামলা হবে বলে জানিয়েছে দুদক।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩৭ লাখ টাকার পর্দা আলোচনায় আসলেও আড়ালে থেকে গেছে স্বাস্থ্য খাতের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের চিত্র। ৩০টি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত দুই অর্থ বছরে কেনাকাটায় প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা গড়মিলের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।

ঠিকাদার, স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোর এক শ্রেণীর কর্মকর্তার যোগসাজশে সরকারি অর্থ লুটপাট হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালে মাত্র পাঁচ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে সাড়ে ১৫ কোটি টাকায়। সরকারের ভ্যাট ট্যাক্স বাদ দিলে এই একটি মেডিকেলেই প্রায় নয় কোট টাকার দুর্নীতি হয়েছে। দুদকের করা মামলার নথি অনুযায়ী- একটি এমআরআই মেশিনে ছয় কোটি, কালার ডোপলারে প্রায় দেড় কোটি আত্মসাৎ হয়েছে।

এছাড়া সাড়ে ছয় হাজার টাকার দুটি অটোস্কোপ কেনা হয়েছে সাড়ে সাত লাখ টাকায়। চার লাখ টাকার একটি ওটি টেবিলই প্রায় পাঁচ লাখ টাকা অতিরিক্ত মূল্য দেখানো হয়েছে। সব রেকর্ড ছাড়িয়ে সাড়ে ২৫ লাখ টাকার পেশেন্ট মনিটর কেনা হয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকায়।

১. এম আর আই মেশিনের নির্ধারিত মূল্য ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা, কেনা হয়েছে ৯  কোটি ৯৫ লাখ টাকায়, আত্মসাত        ৬ কোটি ১৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।

২. কালার ডোপলানের নির্ধারিত মূল্য ১ কোটি ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা, কেনা হয়েছে ২ কোটি ৬০ লাখ টাকায়, ১ কোটি ৩০ লাখ ৪০ হাজার টাকা আত্মসাত।

৩. অটোস্কোপের নির্ধারিত মূল্য ৬ হাজার ৪০০ টাকা. কেনা হয়েছে ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকায়, আত্মসাত ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৬০০ টাকা।

৪. ওটি টেবিলের নির্ধারিত মূল্য ৪ লাখ ১০ হাজার  ৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা টাকা কেনা হয়েছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

৫. ৮ টি পেশেন্ট  মনিটরের নির্ধারিত মূল্য ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭২০টাকা, কেনা হয়েছে ১ কোটি ৩২ লাখ টাকায়, আত্মসাত ১ কোটি ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

একইভাবে সরকারি অর্থ তছরুপ হয়েছে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল, সাতক্ষীরা, গাজীপুর, ফরিদপুর, নরায়ণগঞ্জ, ঢাকা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল, রাজশাহী মেডিকেল, মৌলভীবাজার, গাইবান্ধা সিভিল সার্জন অফিস, সিরাজগঞ্জ এম. মনসুর আলী হাসপাতাল, পাবনা, কক্সবাজার, রংপুর, নোয়াখালী, বগুড়া আড়াইশ’ শয্যার হাসপাতাল, টাঙ্গাইল, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালসহ ৩০টি হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনাকাটায়। 

 যেসব মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান চলছে; উল্লেখযোগ্য কিছু প্রতিষ্ঠান

প্রতিষ্ঠানের নাম  আত্মসাতের পরিমাণ:

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৫ কোটি ৮২ লাখ ২১ হাজার টাকা।

সাতক্ষীরা ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে ১১ কোটি ৭৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা।

সাতক্ষীরা ম্যাটস ৯ কোটি ৭৪ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজে ১৫৮ কোটি ৩১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০০ কোটি টাকা

নারায়ণগঞ্জ তিনশ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসাপাতালে  ১৯ কোটি ১৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।

ঢাকা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালে ২৫ কোটি ৭১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২১ কোটি ৭০ লাখ ৪২ হাজার টাকা।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল       ২৩ কোটি ১৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকা।

মৌলভী বাজার আড়াশ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল     ১৪ কোটি টাকা

গাইবান্ধা সিভিল সার্জন       ৩০ কোটি টাকা

সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মুনসুর আলী মেডিকেল কলেজ  ২৭৬ কোটি টাকা।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে যন্ত্রপাতির কেনার নামে সাড়ে ৩৭ কোটি টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। দুদকের মামলায় বলা হয়েছে- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বহিস্কৃত চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী আবজাল হোসেনের স্ত্রীর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করে নিুমানের যন্ত্রপাতি বিভিন্ন দেশের লেবেল লাগিয়ে সরবরাহ করে। ভুয়া ভাউচারে ৪৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার বিল জমা দিয়ে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা তুলে নেয়। অনুসন্ধান চালার সময়েই স্ত্রীসহ আবজাল দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে যন্ত্রপাতির চাহিদা না থাকা স্বত্বেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের যোগশাজসে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে ১৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা আত্মসাত করে। একইভাবে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাপসপাতালে সফটওয়্যার সরবরাহ না করেই ভুয়া বিলে ৬ কোটি ৬ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়।

রংপুর: একইভাবে রংপুর মেডিকেল কলেজে যন্ত্রপাতি দেয়ার নামে সাড়ে ৪ কোটি টাকা আত্মসাত করায় মামলা করেছে দুদক।

আজিমপুর মাতৃসদন: ঢাকার আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওষুধ, সার্জিক্যাল ও প্যাথলজি যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা আত্মসাতে করা হয়েছে। দুদকের কর্মকার্তার বলছেন, স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ শুরু করেছেন তারা।

দুদক কমিশনার মোজাম্মেল হক  বলেন, এসব দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্তদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুদক। আবজালের সম্পদ এরইমধ্যে জব্দ করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর

বিদেশে বাজার হারাচ্ছে দেশের তৈরি পোশাক খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্বে প্রতিযোগী...

বিস্তারিত
মানবদেহের তাপমাত্রা কমছে! 

ফারহীন ইসলাম টুম্পা : শুনে অবাক হতে...

বিস্তারিত
ভোটের জন্য প্রস্তুত ৩৫ হাজার ইভিএম

কাজী ফরিদ: প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক...

বিস্তারিত
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

পার্থ রহমান : ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *