মানবদেহের তাপমাত্রা কমছে! 

প্রকাশিত: ০৫:২৮, ১৮ জানুয়ারি ২০২০

আপডেট: ০৫:২৮, ১৮ জানুয়ারি ২০২০

ফারহীন ইসলাম টুম্পা : শুনে অবাক হতে পারেন, তবে এটা কিন্তু সত্যি যে ধীরে ধীরে কমছে মানবদেহের তাপমাত্রা! সা¤প্রতিক একটি গবেষণা জানাচ্ছে এমনই  তথ্য। যেখানে বলা হয়েছে, দু’শো বছরে মানবদেহের তাপমাত্রা কমেছে ১ ডিগ্রিরও বেশি। গবেষণাটি আরো বলছে, মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রার পারদ ক্রমে নিচের দিকে নামছে। বলা যায়, কিছুটা উদ্বেগজনক ভাবেই। কেননা উষ্ণতাকেই আমরা জীবনের মানদন্ড ধরি। আর শীতলতা মানেই তো মৃত্যু!  

বিজ্ঞান বিষয়ক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ই-লাইফ সম্প্রতি এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করেছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ মেডিসিন-এর ঐ গবেষণায় দেখা গেছে, গত ১৬০ বছর বা তার কিছুটা বেশি সময় আগে মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা যা ছিল, তা এখন আর নেই। একুশ শতকে এসে দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কমেছে ১ ডিগ্রি ফারেনহাইটেরও বেশি। তবে তা নেমেছে ধাপে ধাপে, ধারাবাহিকভাবে।

গবেষণাটি আরো বলছে, জ্বর মাপার সময় থার্মোমিটারে যে তাপমাত্রাকে ৯৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট আমরা স্বাভাবিক বলে ধরে নিই। তা এখন অস্বাভাবিকই! কেননা গত ২০০ বছরে সেই স্বাভাবিকতা নেমে দাঁড়িয়েছে ৯৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে। তবে মহিলাদের দেহের তাপমাত্রা কমার হারের তুলনায়  পুরুষদের দেহের তাপমাত্রা কমেছে বেশি। মহিলাদের শরীরের গড় স্বাভাবিক তাপমাত্রা এখনও ৯৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট। 

মানুষের দেহের স্বাভাবিক গড় তাপমাত্রা জানতে ১৮৫১ সালে ২৫ হাজার রোগীর তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় এক গবেষণায়। সেখান থেকেই ৯৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি ফারেনহাইটের গড় তাপমাত্রার বিষয়টি আসে। তবে তখন গবেষণায় এটাও বলা হয়েছিল যে, এটা আমাদের দেহের গড় স্বাভাবিক তাপমাত্রা হলেও এর কিছু কম বা বেশি হতেই পারে। 

গবেষণাটি নিয়ে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ মেডিসিন-এর অধ্যাপক ও গবেষক অনুপম মাজি বলেন, মানবদেহের গড় স্বাভাবিক তাপমাত্রার এই অবনমন হঠাৎই হয়নি। তা নেমেছে ধাপে ধাপে এবং ধারাবাহিক ভাবে। এমনকি সেই ধারাবাহিকতায় কোনও ব্যাতিক্রম ঘটতে দেখেননি বলেও জানান অনুপম মাজি। 

আমরা কেন ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছি? বা দেহের তাপমাত্রা কেন কমছে? তাদের গবেষণার বিষয় এটা ছিলনা বলে জানান গবেষক অনুপম মাজি। তিনি বলেন, ১৬০ বছর আগে জার্মান চিকিৎসক ভান্ডারলিচ যখন এনিয়ে গবেষণা করছিলেন, তখন আমাদের গড় আয়ু ছিল মাত্র ৩৮ বছর। যক্ষা থেকে শুরু করে সিফিলিসসহ নানা কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি ছিল। 

দেহের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার কিছু কারণও জানিয়েছেন গবেষকরা। আমাদের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া ও বিপাক প্রক্রিয়ার হারের পরিবর্তনও দেহের তাপমাত্রা কমাতে ভুমিকা রেখেছে। ছুটলে, ব্যায়াম করলে, পরিশ্রম করলে স্বাভাবিকভাবেই দেহের তাপমাত্রা বাড়ে। আর এখনকার মানুষের তুলনায় আগেকার মানুষ পরিশ্রম বেশি তাই করতেন। তাই তাদের তাপমাত্রার বাড়ার হার ছিল বেশি। কিন্তু জীবনযাত্রা ক্রমে যন্ত্রনির্ভর হয়ে পড়ায় আমরা হয়ে পড়েছি পরিশ্রমবিহীন। শরীর হয়ে পড়ছে ঠান্ডা।   

গবেষণাটির অন্যতম গবেষক অনুপম গবেষণায় উলে­খযোগ্য তিনটি বিষয়ের কথা জানান। প্রথমত, বিশ্রামে থাকা অবস্থায় কোনও তরুণের দেহের গড় স্বাভাবিক তাপমাত্রা কোনও প্রবীন যার বয়স কিনা ৫০ এর বেশি তার চেয়ে বেশি। দ্বিতীয়ত, মহিলাদের দেহের গড় স্বাভাবিক তাপমাত্রা পুরুষের তুলনায় সামান্য বেশি। আর তৃতীয়ত, দুপুরের দিকে আমাদের দেহের গড় স্বাভাবিক তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে যায়। যা পুরুষ ও মহিলা, উভয়ক্ষেত্রেই। 

গবেষকদের দাবি, ১৮৬২ থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত ৬ লাখ ৭৭ হাজার মানুষের দেহের তাপমাত্রা মাপার সবকটি পদ্ধতি অনুসরণ করে তাপমাত্রা রেকর্ড করেছেন তারা। এছাড়াও গত দুই শতাব্দীতে যাবতীয় বিবর্তনের বিষয়টিকে মাথায় রেখেই এই গবেষণা করেছেন। যা ১৬০ বছর আগে জার্মান চিকিৎসকের নেওয়া নমুনা সংখ্যার ২৫ হাজারের প্রায় ২৭ গুণ। ফলে, এই গবেষণার ফলাফল অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য বলে দাবি তাদের। গবেষণাটি আরো বলছে, অঙ্কের খাতিরে হলেও যে হারে আমাদের দেহের তাপমাত্রার পারদ নামছে, তা অব্যহত থাকলে আর সাড়ে ১৪ হাজার বছর পর তা নেমে হতে পারে শূন্য! 
 

এই বিভাগের আরো খবর

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটন খাত সচল হয়নি এখনো 

ফাহিম মোনায়েম: দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর...

বিস্তারিত
ঢাবি’র ২০টি আবাসিক হলের ৯টিই ঝুঁকিপূর্ণ

আশিক মাহমুদ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের...

বিস্তারিত
ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক চারলেনের কাজে ধীরগতি

রংপুর সংবাদদাতা: এক বছরেও ঢাকা-রংপুর...

বিস্তারিত
পিছিয়ে গেল দেশে চীনের করোনা টিকার পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে চীনের...

বিস্তারিত
করোনায় কাগজ ও প্রকাশনা শিল্পে স্থবিরতা

ইউসুফ রানা: করোনায় ঝিমিয়ে পড়েছে কাগজ...

বিস্তারিত
বন্যায় ১২ হাজার কিলোমিটার সড়কের ক্ষতি

পার্থ রহমান: এবারের বন্যায় দেশের ৪০টি...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *