৪ বছর ধরে তালাবদ্ধ একমাত্র রেল জাদুঘর

প্রকাশিত: ০৫:১৯, ২১ জানুয়ারি ২০২০

আপডেট: ০৫:১৯, ২১ জানুয়ারি ২০২০

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা: চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে অবস্থিত দেশের একমাত্র রেলওয়ে জাদুঘররেলওয়ের শতবর্ষের পুরনো ঐতিহ্য, পরিবর্তন ও আধুনিকায়নের ইতিহাস সংরক্ষিত রয়েছে জাদুঘরটিতেকিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই জাদুঘরটির দরজায় প্রায় চার বছর ধরে তালাবদ্ধ রয়েছেঅযত্ন আর অবহেলায় পড়ে আছে জাদুঘরের নিদর্শনগুলো

পাহাড়তলী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপকের কার্যালয় এবং শহীদ শাহজাহান মাঠের পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে আছে কাঠের তৈরি দোতলা ভবনটিচার বছর আগেও এই ভবনে প্রবেশের জন্য ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়জাদুঘরটি দেখতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরে আসতো এখানে

অথচ চার বছর ধরে বন্ধ থাকায় জাদুঘরের আশপাশের এলাকা এখন বখাটেদের দখলেছিনতাই, মাদক সেবন এবং নানা অনৈতিক কাজের আখড়ায় পরিণত হয়েছে জাদুঘরটি

২০০৩ সালের ১৫ নভেম্বর দেশের একমাত্র রেলওয়ে জাদুঘরে পরিণত হওয়ার আগ পর্যন্ত এটি রেলওয়ের বাংলো হিসেবে ব্যবহৃত হত২০১৬ সালে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জাদুঘরটির সংস্কার কাজ শুরু করেঅথচ সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার পরেও জাদুঘরটি খোলা হচ্ছে না

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাদুঘরের একজন কেয়ারটেকার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জাদুঘর বন্ধ থাকার কারণে ভেতরের মূল্যবান জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছেতাছাড়া জাদুঘরে রংয়ের কাজ করার কারণে ভেতরের জিনিসপত্র এলোমেলো হয়ে আছেএভাবে বন্ধ থাকলে জাদুঘরের ভেতেরর জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যাবে

 

তিনি আরও বলেন, জাদুঘর দেখতে প্রতিদিনই এখানে দর্শনার্থীরা আসেনতালাবদ্ধ থাকার কারণও জানতে চান অনেকেকিন্তু আমার কাছে তো কোনো উত্তর নেইজাদুঘরের আশাপাশের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা দেখেও কোনো প্রতিবাদ করতে পারি নাউর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে আমরা কি করতে পারি

জাদুঘরে বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্ববর্তী সংস্থা আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে (১৯৪২), ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে (১৯৪৭) এবং পাকিস্তান রেলওয়ে (১৯৬১) কর্তৃক ব্যবহৃত বিভিন্ন নিদর্শন এবং বস্তুর সমৃদ্ধ সংগ্রহ রয়েছেসংরক্ষিত শিল্পকর্মগুলো প্রধানত বাংলাদেশ রেলওয়ের যান্ত্রিক, বৈদ্যুতিক, টেলিযোগাযোগ, সংকেত, ট্রাফিক ও প্রকৌশল বিভাগের অন্তর্গতএছাড়াও বিভিন্ন ধরনের বাতি ও আলো, পাকা ও ঘন্টা, স্টেশন মাস্টারের পোশাক এবং আনুষাঙ্গিক, সিগন্যাল সরঞ্জাম, ট্রান্সমিটার, অ্যানালগ টেলিফোন, মনোগ্রাম, ট্র্যাক সুইচ এবং রেলওয়ে স্লিপার রয়েছে জাদুঘরের সংরক্ষণে

তবে বর্তমানে সম্পূর্ণ অরক্ষিত রয়েছে এই জাদুঘরটিযদিও তিনজন দারোয়ান রয়েছেতারাই এই জাদুঘরটির দেখাশোনো করে আসছেন অনেক বছর ধরেকিন্তু তিনজনের পক্ষে এই জাদুঘরটি পাহারা দেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছেতারা জানান, তিনজনের মধ্যে একজন দিনে পাহারা দেই এবং দুইজন রাতেকিন্তু লোকবল দরকার ছয়জনকারণ এখানে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিদিন-রাতে বখাটে ছেলেদের উৎপাত বাড়ছে

 

এ ব্যাপারে পাহাড়তলীর রেলওয়ে বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ আব্দুল হানিফ জানান, ‘সংস্কারের কাজ শেষ হয়েছেকিন্তু জাদুঘরটি এখনো ঘুরে দেখা হয়নি, বর্তমান চিত্রটি কেমনঘুরে দেখেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে

এই বিভাগের আরো খবর

ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধার মৃত্যু

গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা: গোপালগঞ্জে...

বিস্তারিত
টানা ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: বেতন বাড়ানো ও...

বিস্তারিত
মানিকগঞ্জে গ্লাডিওলাস চাষে লাভবান কৃষকরা

মানিকগঞ্জ সংবাদদাতা: মানিকগঞ্জের...

বিস্তারিত
ফরিদপুরে ধসে পড়া সড়কের বেহালদশা

ফরিদপুর সংবাদদাতা: ধসে পড়ার দুই বছর...

বিস্তারিত
বর্ষায় পানিতে তলিয়ে যায় জোয়ানশাহীর বোরো ধান

ভৈরব সংবাদদাতা: ভৈরবের ওরারখালে সুইচ...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *