স্টিয়ারিং ছাড়াই গাড়ি!

প্রকাশিত: ০৭:১৩, ২৪ জানুয়ারি ২০২০

আপডেট: ০৭:১৩, ২৪ জানুয়ারি ২০২০

ফারহীন ইসলাম টুম্পাঃ এবার স্টিয়ারিং প্যাডেল ছাড়াই চালকবিহীন গাড়ি চলবে রাস্তায়। যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জেনারেল মোটরস এই গাড়ি নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ১৬০ বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে যাচ্ছে তারা। পুচলিত গাড়িতে স্টিয়ারিং হুইলসহ নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন প্যাডেল থাকলেও জেনারেল মোটরসের গাড়িতে এসব কিছুই থাকবে না। এর নকশা জাপানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হোন্ডার তৈরি। এটি বাজারে আসবে ক্রুজ অরিজিন নামে। আর চলবে বিদ্যুৎ শক্তি দিয়ে।

জেনারেল মোটরসের প্রধান নির্বাহী ড্যান আম্মান জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত মালিকানার চালকদের বের করে আনতে চাচ্ছেন তারা। কারন দূষণ দুর্ঘটনা কমাতে এই গাড়ি জোরালো ভূমিকা রাখবে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে এক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দিয়ে জানানো হয়েছে, গাড়িটির নকশা চূড়ান্ত। এখন তা বাস্তবে রুপ দিতে উৎপাদনের পথে রয়েছে।

প্রযুক্তিবিদরা জেনারেল মোটরসের সিদ্ধান্তকে খুব সাহসী সিদ্ধান্ত বলছেন। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে চালকবিহীন গাড়ি তৈরির বড় তিনটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এদের মধ্যে অনেক বেশি প্রতিযোগিতা বিদ্যমান। তাই বাকি দুটিকে ছাড়িয়ে জেনারেল মোটরসের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন প্রযুক্তিবিদরা।

এছাড়া স্টিয়ারিংবিহীন স্বয়ংক্রিয় গাড়ি ভবিষ্যৎ গাড়ি শিল্পে অনেক পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলেও মত দিয়েছেন তারা।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনাতে রোবোট্যাক্সি তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল গুগলের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ওয়েমো।

এছাড়াও জার্মানির বিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভক্সওয়াগন আগামী বছরের মধ্যেই সহজলভ্য করার ঘোষণা দিয়েছে তাদের স্বয়ংক্রিয় গাড়িসেবা। এমনকি স্বয়ংক্রিয় গাড়ির বাজারে প্রবেশের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফোর্ডও।

চালকবিহীন স্বয়ংক্রিয় গাড়ির ধারণা মাত্র কয়েক বছর আগে শুরু হলেও চলতি বছর থেকে এর বিপ্লব ঘটতে যাচ্ছে বলে মত অনেক প্রযুক্তিবিদের। তবে চালকবিহীন স্বয়ংক্রিয় গাড়ি মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে কতোটুকু সক্ষম হবে তা নিয়ে রয়েছে সমালোচনা। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব গাড়ি প্রস্তুত পরিচালনা করা হলেও এইসব গাড়ি কি দুর্ঘটনা এড়াতে পারবে? এমন প্রশ্ন সামনে আসে গত বছরের মার্চে প্রথম চালকবিহীন গাড়ির চাপায় এক নারীর প্রাণ হারানোর পর থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় উবারের চালকবিহীন গাড়ির চাপায় এই নারী নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের টেম্পি, পিটার্সবার্গ, সানফ্রান্সিসকো এবং কানাডার রাজধানী টরোন্টোর সড়ক থেকে উবারের চালকবিহীন গাড়ি সরিয়ে নেওয়া হয়।

তবে  ঘটনার পর প্রথমেই যে বিষয়টির দিকে আঙ্গুল উঠেছে তা হলো, চালকবিহীন গাড়ি বাজারে আনতে কী তড়িঘড়ি করছে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো?

বিশ্লেষকদের মতে, চালকবিহীন গাড়ি নির্মানে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরুর কারণে ব্যহত হচ্ছে নিরাপত্তায় গুরুত্ব দেয়ার বিষয়টি।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড এনটিএসবি- উবারের ওই দুর্ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করে। তদন্ত প্রতিবেদনে তারা বলে, চালকবিহীন গাড়ি নির্মানের বিষয়ে এখনই কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। এমনকি ওই দুর্ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় নিহত ওই নারী বেশ শান্তভাবেই রাস্তা পার হচ্ছিলেন। তিনি কোনো গাড়ি আসতে দেখেননি বা গাড়ি আসার কোনো শব্দও পাননি, এমনকি গাড়িটিও দিক পরিবর্তন করার কোনো ইঙ্গিত দেখায়নি। গাড়িটির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৪৩ কিলোমিটার। তবে গাড়ির ভেতরের এক ক্যামেরায় দেখা যায়, উবারের ব্যাকআপ ড্রাইভার তখন নিচের দিকে তাকিয়ে আছেন।

স্বয়ংক্রিয় গাড়িগুলোতে সাধারনতলাইডারনামে এক লেজার রেঞ্জিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। আর এর মাধ্যমেই যাত্রাপথের একটি থ্রিডি ম্যাপ তৈরি হয়, যা গাড়িটিকে আশেপাশের সকল বস্তুর অবস্থান চিহিৃত করতে সহায়তা করে। তদন্তে আরো বলা হয়, ওই দুর্ঘটনার ছয় সেকেন্ড আগে নিহত ব্যক্তির অস্তিত্ব টের পায় গাড়িটি। আর তখন সেন্সর থেকে মূল সিস্টেমে সংকেত পৌঁছাতে কোনো একটি সমস্যা তৈরি হয়। আর এতেই ঘটে দুর্ঘটনা। এরপরই রাস্তায় অনিয়ন্ত্রিত রোবো-ট্যাক্সি সার্ভিস নিয়ন্ত্রনের সিদ্ধান্তের কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। 

এদিকে দুর্ঘটনা এবং নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো মাথায় রেখেই পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় গাড়িনির্মাণে নামছেনা বলে জানিয়েছে জাপানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা। আর তাই প্রতিবছর প্রায় এক কোটি গাড়ি বিক্রি করলেও স্বয়ংক্রিয় গাড়ি তৈরি করতে যেন ঢিমেতালে এগুচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় গাড়ি তৈরিতে আগ্রহ না দেখালেও গাড়িতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। তারা বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার গাড়ি চালনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা দেবে আর ড্রাইভিং হবে আনন্দদায়ক। 

জাপানে প্রায় এক-চতুর্থাংশ জনগোষ্ঠীর বয়স এখন ৬৫ বছরের ওপরে। আর মজার ব্যাপার হলো মূলত দেশের বাজার ধরতেই এমন গাড়ি আনতে চাইছে টয়োটা, যা বয়স্ক মানুষকে গাড়ি চালনায় সাহায্য করবে। অর্থাৎ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, এই বিষয়টি বিবেচনা করেই প্রয়োজনমতো ব্যবস্থা নেবে গাড়িটি নিজেই।

এছাড়া আরেকটি সফটওয়্যার থাকবে, যা গাড়িটিকে হালকা ট্র্যাফিকের দিকে পরিচালিত করবে, চালকেরা তখন চাইলে একটু আরামও করতে পারবেন। সংঘর্ষ এড়াতে পূর্ব-সতর্কতা ভিত্তিক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি থাকার ফলে গাড়িগুলো পথচারী এড়িয়ে চলতে পারবে। টয়োটা রিসার্চ ইনস্টিটিউটের উপদেষ্টা প্যানেলের গবেষক রডনে ব্রুকস বলেন, ২০৩২ সাল পর্যন্ত কোনো অনিয়ন্ত্রিত রোবো-ট্যাক্সি সার্ভিস যুক্তরাষ্ট্রের শহরে চলবে না। তাই টয়োটা যা করছে, তা হলো পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় গাড়ি তৈরির পালে হাওয়া না দিয়ে ভবিষ্যতে পুরোপুরি অটোমেটিক গাড়ি তৈরির কাজকে এগিয়ে নেয়া।

এদিকে স্বয়ংক্রিয় গাড়ি নির্মাণে নামকরা কয়েকটি গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বে কাজ করছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে।

আন্তজাাতিক সংবাদমাধ্যম বলছে, বিশ^খ্যাত গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ভক্সওয়াগনের অদিকে স্বয়ংক্রিয় বুদ্ধিমত্তার সফটওয়ার সরবরাহ করছে হুয়াওয়ে।

এছাড়াও জাপানি টয়োটা চীনের জিএসির সঙ্গে যৌথ অংশীদারত্বে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। যা আগামী বছরে ইউরোপ চীনের বাজারে আনার পরিকল্পনা তাদের।

এই বিভাগের আরো খবর

পাকিস্তানে বাস-ট্রেন সংঘর্ষে নিহত ২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানে একটি...

বিস্তারিত
দিল্লির সহিংসতা কমছে, চলছে গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের দিল্লিতে...

বিস্তারিত
করোনা ভাইরাসে ইরানে ২১০ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের ৫০টির...

বিস্তারিত
বিশ্বের ৫০টি দেশে ছড়ালো করোনা ভাইরাস

অনলাইন ডেস্ক: দ্রুত বিশ্বের বিভিন্ন...

বিস্তারিত
যেসব দেশ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত

অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বের ৪৮টি দেশে ছড়িয়ে...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *