রাজউকের সব ক্ষেত্রে দুর্নীতি: টিআইবি

প্রকাশিত: ০১:৫৭, ২৯ জানুয়ারি ২০২০

আপডেট: ০৪:২৭, ২৯ জানুয়ারি ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতি হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ইমারতের নকশা অনুমোদনে ৫০ হাজার থেকে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। 

আজ (বুধবার) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডি মাইডাস সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে গবেষণা চালায় টিআইবি। এতে ব্যক্তি পর্যায়ে নকশা অনুমোদনে ৫০ হাজার থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা, ডেভেলপার পর্যায়ে ২ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা টাকা পর্যন্ত ঘুষ দেয়ার তথ্য ওঠে আসে। এছাড়া, ১০ তলার বেশি ভবনের নকশা অনুমোদনে অতিরিক্ত গুনতে হয় ১৫ লাখ থেকে ৪০ লাখ টাকা। বিশেষ প্রকল্পের ক্ষেত্রে ১৫ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। 

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজউক ও দুর্নীতি সমার্থক হয়ে গেছে। যারা প্রতিষ্ঠানটি উচ্চ পদের কর্মকর্তারা এর দায় এড়াতে পারে না বলেও জানান তিনি। 

রাজউকের সেবায় সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই দুর্নীতি ও অনিয়ম হয় বলে জানানো হয় প্রতিবেদনে। 

‘ব্যক্তি পর্যায়ে রাস্তা প্রশ্বস্ত দেখাতে ২০-৩০ হাজার টাকা, ছাড়পত্র অনুমোদনে ১৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা ও রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার পর্যায়ে ১ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত রাজউক কর্মকর্তাদের ঘুষ দিতে হয়।’ 

প্রতিবেদনে বলা হয়, নকশা অনুমোদনে সময়ক্ষেপণ, সেবায় প্রতারণা ও হয়রানি, পরিদর্শনে অনিয়ম ও দুর্নীতি, নকশা বাস্তবায়নে আইন ও বিধি লঙ্ঘন, প্লট বরাদ্দ, প্লট হস্তান্তর, ফ্ল্যাটের চাবি হস্তান্তরসহ একাধিক সেবায় ঘুষ ছাড়া কোন কাজ হয় না। 

নথি রক্ষকের কাছ থেকে মালিক বা দালাল কর্তৃক প্লটের ফাইল দেখাতে কোনো ফি না থাকলেও ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা গুনতে হয়। প্রকল্পের আবাসিক ফ্ল্যাটের চাবি হস্তান্তর ফি না থাকলেও সেবাগ্রহীতাকে ২ থেকে ৫ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। 

লিজ দলিলে ৩১ হাজার থেকে ৬০ হাজার পর্যন্ত নির্ধারিত ফি থাকলেও বেশি গুনতে হয় ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। এছাড়া, প্লট প্রতি নামজারিতে নির্ধারিত ফি থেকে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বেশি, হেবা আদায় করা হয় ফ্ল্যাট প্রতি ৫০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা, বিক্রয় অনুমোদন ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা ঘুষ নেয়া হয়। বিল উত্তোলনে ফি না থাকলেও কার্যাদেশ মূল্যের ২ শতাংশ ঘুষ দিতে হয়। এছাড়া নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাবসহ ব্যাপক ঘুষ আদায় করা হয় বলেও প্রতিবেদনে উলে­খ করেছে টিআইবি। 

এই বিভাগের আরো খবর

আশরাফুন্নেসার দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভুয়া বিল-ভাউচার করে...

বিস্তারিত
সরকারি কেনাকাটায় দুর্নীতি চলছেই: টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজনৈতিক প্রভাব,...

বিস্তারিত
পরিবার পরিকল্পনার আশরাফুন্নেছাকে জিজ্ঞাসাবাদ

নিজস্ব সংবাদদাতা: কর্মশালা, সেমিনার ও...

বিস্তারিত
আবজালকে তৃতীয় দিনের মতো জিজ্ঞাসাবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্নীতির পৃথক...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *