পূর্ব পাকিস্তানের জনমত কোন পথে জিন্নাহকে জানানো হয়নি-বঙ্গবন্ধু

প্রকাশিত: ১০:৩৫, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

আপডেট: ০৩:৩৩, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বিউটি সমাদ্দার: একাত্তরে অর্জিত স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন-সংগ্রামের গোড়াপত্তন হয়েছিল বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই ভাষা আন্দোলনে ছিলেন একজন সক্রিয় অংশগ্রহণকারী তরুণ ছাত্র নেতা। এ বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী। তাই এবার ভাষার মাস ফেব্র“য়ারিতে ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু মুজিবের ভূমিকা ও অংশগ্রহনের ঐতিহাসিক অধ্যায় নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ অষ্টম পর্ব। 

সাতচলি­শে দেশ ভাগের পর জন্ম নেয়া পাকিস্তানে শতকরা ছাপ্পান্ন ভাগ নাগরিকের মাতৃভাষা ছিল বাংলা। অথচ পাকিস্তানী শাসকরা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দূকে রাষ্ট্রভাষা করে, যেখানে বাংলাই একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হওয়ার দাবি রাখতো। কিন্তু বাঙালি ছাত্র সমাজ তখন পাকিস্তানের দুই অংশের জন্য বাংলা ও উর্দূ, দুটোকেই  রাষ্ট্রভাষা করার দাবী করেছিল। 
 
সে সময় যারা শুধু উর্দু’কে সমর্থনে করে, তাদের একমাত্র যুক্তি ছিল “উর্দু ইসলামিক ভাষা”। তবে সেই যুক্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের ধর্মভীরু মুসলমানদেরকে ধোকা দিতে পারেনি পাকিস্তানী শাসক সরকার। মুসলিম লীগ নেতারা উর্দুর জন্য জানমাল কোরবানী করতে প্রস্তুত ছিল, কিন্তু জনসমর্থন না পেয়ে ঘাবড়ে গিয়েছিল।

পাকিস্তানে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে দলমত নির্বিশেষে সবাই শ্রদ্ধা করতো। উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা করার শেষ পথ হিসেবে জিন্নাহকে ভুল বোঝায় মুসলিম লীগপন্থীরা। বঙ্গবন্ধু তার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে লেখেন “তাদের ধারণা হয়, জিন্নাহকে দিয়ে উর্দুর পক্ষে বলাতে পারলেই পূর্ব পাকিস্তানের কেউই এর বিরোধীতা করবে না। তবে, পূর্ব পাকিস্তানের জনমত কোন পথে, তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে জানানো হয়নি।” 


 

এই বিভাগের আরো খবর

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *