খানজাহান আলীর মাজার ও ষাট গম্বুজ মসজিদ

প্রকাশিত: ১১:৩২, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

আপডেট: ১১:৩২, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ভ্রমণ ডেস্ক: বাগেরহাট জেলায় হযরত খান জাহান আলীর মাজার অবস্থিত। ভারতে জন্মগ্রহন করলেও তিনি বাংলাদেশের যশোর, বাগেরহাট অঞ্চলে ধর্ম প্রচার করতে আসেন। বাগেরহাটে নির্মাণ করেন স্বরণকালের বিখ্যাত মসজিদ ষাট গম্বুজ মসজিদ। এখানেই রয়েছে তাঁর মাজার শরীফ।

খানজাহান (রঃ) এমন এক মহাপুরুষ ছিলেন যাঁর মহতী গুনাবলীর দ্বারা বাগেরহাটসহ সমগ্র ভাটি অঞ্চল উপকৃত ধন্য হয়েছে। কথিত আছে মহাপুরুষ মানব প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে যশোরের বারোবাজার থেকে শুরু করে সমগ্র ভাটি অঞ্চল জুড়ে ৩৬০টি মসজিদ নির্মাণ ৩৬০টি দীঘি খনন করেছিলেন। মুসলমানদের প্রথম আবাদকৃত অঞ্চলে উপাসনার জন্য মসজিদগুলি এবং নোনা পানির দেশ ভাটি অঞ্চলে পানীয় জলের দীঘিগুলি আপামর জনগণের কাছে খোদার আশীর্বাদের মতই প্রতিভাত হয়েছিল।

১৫শত শতাব্দীতে ষাট গম্বুজ মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন খান জাহান আলী। এই মসজিদটি বহু বছর ধরে এবং বহু অর্থ খরচ করে নির্মাণ করা হয়েছিলো। এর পাথরগুলো আনা হয়েছিলো রাজমহল থেকে। এটি বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মধ্যে একটি। মসজিদটি উত্তর দক্ষিণে বাইরের দিকে প্রায় ১৬০ ফুট এবং ভিতরের দিকে প্রায় ১৪৩ ফুট লম্বা আর পূর্ব পশ্চিমে বাইরের দিকে প্রায় ১০৪ ফুট এবং ভিতরের দিকে প্রায় ৮৮ ফুট চওড়া। দেওয়ালগুলো প্রায় · ফুট।

মসজিদটির নাম ৬০ গম্বুজ হলেও এখানে গম্বুজ মোটেও ৬০টি নয় বরং গম্বুজ সংখ্যা ৭৭টি ৭৭টি গম্বুজের মধ্যে ৭০ টির উপরিভাগ গোলাকার এবং পূর্ব দেওয়ালের মাঝের দরজা এবং পশ্চিম দেয়ালের মাঝের মিহরাবের মধ্যবর্তি সারিতে যে সাতটি গম্বুজ সেগুলো দেখতে অনেকটা বাংলাদেশের চৌচালা ঘরের চালের মতো। মিনারে গম্বুজের সংখ্যা টি হিসেবে গম্বুজের সংখ্যা দাঁড়ায় মোট ৮১ তে। তবুও এর নাম হয়েছে ষাটগম্বুজ। ঐতিহাসিকরা মনে করেন সাতটি সারিবদ্ধ গম্বুজ সারি আছে বলে মসজিদের সাত গম্বুজ এবং তা থেকে ষাটগম্বুজ নাম হয়েছে।

খাঞ্জেলী দীঘির উত্তর পাড়ে এক উচ্চ ভূমিতে খান জাহান আলীর মাজার সৌধ অবস্থিত। সমাধি সৌধটি বর্গাকৃতি এর ছাদে একটি গম্বুজ আছে। সমাধি সৌধের ভিতর একটি প্রস্তর নির্মিত বেদিতে হযরত খানজাহান (রঃ)এর মাজার অবস্থিত দরগাহ বা সমাধি সৌধের স্থাপত্য  শিল্প অনেকটা ষাটগুম্বজের ন্যায়। শিলালিপিতে মৃত্যু তারিখ,দাফন তারিখ ছাড়াও আল্লার নাম,কোরআন শরিফের কয়েকটি সূরা এবং তাঁর উপর আল্লার শান্তি বর্ষিত হোক ইত্যাদি লিপিবদ্ধ আছে।

প্রতিদিন দেশ-বিদেশের  বিভিন্ন স্থান থেকে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে হাজার হাজার ভক্ত তাঁর রুহানী দোয়া লাভের আশায় মাজার জিয়ারত করতে আসেন। এছাড়া প্রতি বছর ২৫ অগ্রহায়ণ মহান সাধকের মাজার প্রাঙ্গনে বার্ষিক ওরশ মোবারক এবং চৈত্র মাসের প্রথম পূর্ণিমায় বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে এক বিরাট মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

এই বিভাগের আরো খবর

একটি দ্বীপে একটি বাড়ি

অনলাইন ডেস্ক: চারিদিকে সমুদ্র, ছোট...

বিস্তারিত
কম টাকায় ভ্রমণ করুন খৈয়াছড়া ঝর্ণায়

অনলাইন ডেস্ক: ঢাকার কমলাপুর বা...

বিস্তারিত
যে কারণে পর্যটক টানছে লাউড়ের গড়

অনলাইন ডেস্ক: প্রাচীন লাউর রাজ্যের...

বিস্তারিত
বাংলাদেশীদের বিদেশযাত্রা নেমেছে অর্ধেকে

রীতা নাহা: করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে চীনে...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *