বিপুল টাকা হাতিয়ে নিয়েছে কয়েকজন শিক্ষক

প্রকাশিত: ১১:১১, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

আপডেট: ১১:১৬, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

কাজী ফরিদ: উন্নয়নমূলক কাজে অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ঢাকার শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজের কয়েকজন শিক্ষক। ভূতুরে বিল-ভাউচার করে টাকা তুলে নিলেও জবাবদিহিতার মধ্যে আনা যায়নি তাদের। অর্থ বরাদ্দ হয়েছে একজনের নামে অথচ ব্যয় করেছেন আরেকজন। ২০১৮-১৯ সালের প্রায় অর্ধ কোটি টাকার কাজে নানা অনিয়মের চিত্র উঠে এসছে।

শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজ শিক্ষক মিলনায়তনের দৈর্ঘ্য ৩৯ ফুট আর প্রস্থ ৩৪ ফুট। এই বিশাল রুমের ফ্লোর ও দেয়ালে টাইলস লাগাতে প্রয়োজন হয়েছিল ৭০ থেকে ৭৫ বস্তা সিমেন্ট, জানালেন কলেজটির ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান গাফফার খান।

তবে ২২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থের বাংলা বিভাগে টাইলস লাগাতে ব্যবহার হয়েছে ৬৮ বস্তা সিমেন্ট। প্রথমে ১ গাড়ি বালি ব্যবহার হলেও একদিন পরেই আবার ১০০ বস্তা বালি নেয়া হয় এমন হিসাব দেয়া আছে ভাউচারে। ছোট্ট রুমে এই পরিমাণ বালি-সিমেন্ট লাগবে কিনা তা নিয়েই সন্দেহ খোদ কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মনিরুজ্জামান।

এমন অস্বাভাবিক খরচের কয়েকশত ভাউচার আসে এই প্রতিবেদকের কাছে। অনুসন্ধানে মেলে নানা অনিয়মের তথ্য। একটি থাই গ্লাস লাগিয়ে দুটি বিল করে টাকা তুলে নেয়া হয়েছে। এমন অভিযোগ করলেন বিবিএ ডিপার্টমেন্ট প্রধান। অন্যান্য উপকরণ কেনা নিয়েও আছে প্রশ্ন। রং, মজুরি ও আলমারি বানানোর খরচ নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান ইসমাত জাহান।

ভাউচার ঘেটে দেখা যায় একই দোকানের ভাউচার দুই ধরনের। একদিন আগের ভাউচারের সাথে পরের দিনের ভাউচারে মিল না থাকায় আমরা যাচাই করতে সেই বালি-সিমেন্টের দোকানে যাই। মালিক নিজেই জানালেন এসব ভাউচার সঠিক নয়। ভাউচারের হিসেব বলছে এই দোকান থেকে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকার বালি-সিমেন্ট কেনা হয়েছে।

টাইলস ও অন্যান্য সামগ্রীর দোকানে গেলে তারাও এসব ভাউচার নিয়ে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারেনি। এমন ভাউচার ও অর্থব্যয় নিয়ে বিভাগীয় প্রধানরা কিছুই জানেন না। অথচ তাদের অনুক’লে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে।

প্রজেক্ট কমিটি’র কয়েকজন সদস্য জানান, কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবু নাঈম মোহাম্মদ রাফি একক স্বেচ্ছাচারীতায় এসব কাজ করেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি অধ্যাপক রাফির। বিভিন্ন বিভাগের প্রধানদের নিকট থেকে অভিযোগ পেয়েছেন জানিয়ে অধ্যক্ষ বলেন আবু নাঈম মোঃ রাফির বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 

এই বিভাগের আরো খবর

এত বিপুল মৃতদেহ কিভাবে সৎকার হচ্ছে?

ফারহীন ইসলাম: ইতালির মিলান শহর, যে শহর...

বিস্তারিত
বাজারের সব মাস্ক করোনা প্রতিরোধী নয়

লাবণী গুহঃ শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *