অগ্নিগর্ভ দিল্লিতে কারফিউ, সহিংসতায় নিহত ২০

প্রকাশিত: ১১:৩০, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

আপডেট: ১২:৪০, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

অনলাইন ডেস্ক: নাগরিকত্ব আইন সংশোধন নিয়ে ভারতের রাজধানী দিল্লির সহিংসতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আজও অশান্ত দিল্লির পরিবেশ। নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের পক্ষে-বিপক্ষে চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ জনে। দিল্লির চারটি জায়গায়  জারি করা হয়েছে কারফিউ। বিক্ষোভকারীদের দেখামাত্রই গুলি করার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার রাতে জাফরাবাদ, মৌজপুর, চাঁদবাগ, কারওয়াল নগরে সান্ধ্য আইন (কারফিউ) জারি করে দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েনের দাবি উঠেছিল। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, যথেষ্ট সিআরপি নামানো হয়েছে। এখনই সেনা ডাকার দরকার নেই।

এছাড়া পরিস্থিতি সামলাতে গোটা উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে আগামী এক মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে পুলিশ। দিল্লি-সংলগ্ন উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদেও ১৪৪ ধারা জারি হয়। নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয় গাজিয়াবাদ-দিল্লির সীমানায় যাতায়াতের ওপর। টানা বন্ধ দুদিন উত্তর-পূর্ব দিল্লির পাঁচটি মেট্রোস্টেশন।

এদিকে ভয়াবহ এ সহিংসতার ঘটনায় ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গত ২৪ ঘণ্টায় ৩টি বৈঠক করেছেন। তিনি দিল্লির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখেন।  

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরের মধ্যে নাগরিকত্ব আইন সংশোধন নিয়ে গত সোমবার থেকে দিল্লিতে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। তা এখন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।

আজ (বুধবার) হাসপাতালের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে  বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নয়াদিল্লির দাঙ্গাকবলিত এলাকাগুলোতে এখন রহস্যময় নিস্তব্দতা বিরাজ করছে। গুরু তেগ বাহাদুর হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, এখানে ১৫ রোগীর অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। এই হাসপাতালে সর্বমোট ১৯ জন নিহত হয়েছেন।

পুলিশ কাঁদানে গ্যাস স্মোক গ্রেনেড নিক্ষেপ করলেও বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না পুলিশ।

মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো প্রাণঘাতী এই সহিংসতায় ধর্মভিত্তিক নাগরিকত্ব আইনবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর তারা পাথর নিক্ষেপ গুলিও করেন।

মুসলিমবিদ্বেষী এই দাঙ্গায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরও ম্লান হয়ে গেছে। গত ডিসেম্বরে ধর্মভিত্তিক নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। এরপর এটিই সবচেয়ে বড় সহিংসতার ঘটনা বলে খবরে জানা গেছে।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ভারতের রাজধানী। স্থানীয় টেলিভিশনের খবরে দেখা গেছে, একটি টায়ার মার্কেটে আগুন ধরিয়ে দিলে সেখানে থেকে ধোয়ার কুণ্ডলী বের হচ্ছে। রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, লাঠি পাথর হাতে একদল লোককে উত্তরপূর্ব ভারতের একটি অংশে এগিয়ে যেতে দেখেছেন তারা।

ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিশান রেড্ডি বলেন, ভারতের সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে এটি ষড়যন্ত্র। এমন এক সময় এটি ঘটেছে, যখন ট্রাম্প ভারত সফরে এসেছেন।

বিক্ষোভকারীরা বলছেন, মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি দলটির সমর্থকরা মুসলমানদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা এই সহিংসতা উসকে দিয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর

আইডাহোতে ৬ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের...

বিস্তারিত
এত বিপুল মৃতদেহ কিভাবে সৎকার হচ্ছে?

ফারহীন ইসলাম: ইতালির মিলান শহর, যে শহর...

বিস্তারিত
যুুক্তরাষ্ট্রে একদিনে ৭৪৮ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক: নভেল করোনাভাইরাসে...

বিস্তারিত
ইতালিতে মৃতের সংখ্যা ১২ হাজার ছাড়ালো

অনলাইন ডেস্ক: করোনাভাইরাস সংক্রামণে...

বিস্তারিত
ফ্রান্সে থামছেনা মৃত্যুর মিছিল

অনলাইন ডেস্ক: নভেল করোনাভাইরাসের...

বিস্তারিত
করোনায় মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ৪২ হাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: করোনা ভাইরাসে গত...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *