ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭, ৯ কার্তিক ১৪২৪, ৩ সফর ১৪৩৯

সংসদে অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবিত বাজেটের তীব্র সমালোচনা

প্রকাশিত: ০৫:৪০ , ১৯ জুন ২০১৭ আপডেট: ০৫:৪০ , ১৯ জুন ২০১৭

সংসদ প্রতিবেদক: আজ সোমবার বাজেট আলোচনায় আওয়ামী লীগের একাধিক সংসদ সদস্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রস্তাবিত বাজেটের তীব্র সমালোচনা করেন। এ বাজেটে ব্যাংক আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক ও ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রস্তাব, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর ঘোষণা এবং বিভিন্ন সময়ে দেয়া ‘বিতর্কিত’ বক্তব্যের জন্য সংসদ সদস্যদের তোপের মুখে পড়ে যান অর্থমন্ত্রী ।

বাজেট আলোচনার শুরুতে অর্থমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত থাকলেড়, এক পর্যায়ে তাঁকে আর সেখানে দেখা যায়নি।

সংসদে আওয়ামী লীগের সিনিয়র সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, "অর্থমন্ত্রী বাজেট দিয়েছেন ভালো কথা। কিন্তু জনগণের কষ্ট আওয়ামী লীগ মেনে নিতে পারে না। আবগারি শুল্ক প্রত্যাহার করুন। আপনার কিছু কথা বার্তা সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। আপনি কম কথা বলেন। বয়স হয়ে গেছে কখন কী বলে ফেলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাজেটে সমস্যা থাকলে দেখা হবে। আপনি বললেন, একলাখ টাকা যার আছে সে সম্পদশালী। চার হাজার কোটি টাকা কোনো টাকা না হলে একলাখ টাকা, টাকা হয়ে গেল?"

সেলিম আরো বলেন, "আপনি অর্থমন্ত্রী, আপনার কাজ বাজেট পেশ করা। এ সংসদের ৩৫০ জন জনগণের প্রতিনিধি ঠিক করবেন জনগণের কল্যাণে কোন্‌টা থাকবে, আর কোন্‌টা থাকবে না। একগুঁয়েমি সিস্টেম বন্ধ করেন।"  

গত ১ জুন প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপনের পর থেকে তা নিয়ে আলোচনায় মন্ত্রীসহ সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সমালোচনা করে আসছেন। সঞ্চয়পত্রের সুদ কমানোর ঘোষণা, ব্যাংক আমনাতে বাড়তি আবগারি শুল্ক, ভ্যাট নিয়ে তাঁরা অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করেছেন।

সেলিম বলেন, "বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর টাকা নিয়ে গেলো। প্রয়োজনে ভ্যাটের আওতা বাড়ান। সব প্রতিষ্ঠানকে ইসিআর মেশিন দেন,  যাতে ভ্যাট দিতে বাধ্য থাকেন। ঢালাওভাবে ভ্যাট বিশ্বে কোথাও নেই।"

অন্যদিকে, শাসক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, "বাজেট নিয়ে সারাদেশে আলোচনার ঝড় চলছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এটা নির্বাচনী বাজেট নয়। তাহলে অর্থমন্ত্রী কবে নির্বাচনী বাজেট দেবেন? আগামী বাজেট কার্যকর হবে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে। তখন বর্ষা শুরু হবে। সেপ্টেম্বরে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় গেলে, অক্টোবরে নির্বাচনের তফসিল। এবারই নির্বাচনমুখী বাজেট করা উচিত ছিলো। বলা যায়, অর্থমন্ত্রী এবার নির্বাচন-বিরোধী বাজেট করেছেন। অর্থমন্ত্রী কী কারণে, কার স্বার্থে ব্যাংক হিসাবে আবগারি শুল্ক করেছেন, জানা নেই।"

হানিফ আরো বলেন, হলমার্কের  চারহাজার কোটি টাকা দুর্নীতির পর অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, এ টাকা কিছু নয়। তাহলে কেন সামান্য টাকার জন্য সারা দেশে মানুষের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আক্ষেপ ​তৈরি করলেন, এ প্রশ্ন তোলেন হানিফ। 

১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রস্তাবের বিরোধিতা করে হানিফ বলেন, "অর্থমন্ত্রী ভ্যাট আরোপ করেছেন গণহারে। পৃথিবীর ইতিহাসে এক বছরে ৩০ শতাংশ বাড়তি ভ্যাট নেয়ার নজির নেই। এটা যৌক্তিক নয়।"

ব্যাংক খাতে লুটপাটের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, "বেসিক ব্যাংককে এক হাজার কোটি টাকা মূলধন দেয়া হচ্ছে। কার টাকা, কেন দিচ্ছেন? তারা দুর্নীতির জন্য লুটপাট করবে, আর মূলধন দিতে হবে জনগণকে? সরকারি টাকা এভাবে লুটপাট করতে দেয়া যাবে না।"

বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ বলেন, "সামনে নির্বাচন আসছে। অর্থমন্ত্রী তার আগে জনগণকে বিভ্রান্ত করে দিলেন। আগামী নির্বাচনে আল্লাহ তাঁকে (অর্থমন্ত্রী) সুযোগ দেবে কিনা জানি না। কিন্তু যাঁদের আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেবে, তাঁরা যাতে নির্বাচন করতে পারে সেটা খেয়াল করতে হবে।"

আজাদ বলেন, "এটা মরার ওপর খাঁড়ার ঘা। সুদ এমনিতেই কম। সঞ্চয়পত্রে সুদের হার যেন কমানো না হয়। এটা কমালে ঠিক হবে না। ১০ শতাংশ বাড়ালে খরচ হবে এক হাজার কোটি টাকা, কিন্তু উপকার পাবে লাখ লাখ মানুষ। এটা সিনিয়র সিটিজেনরা পান। তাঁরা কোথাও হাত পাততে পারেন না। অনেক শ্রেণীর মানুষকে ভর্তুকি দেন। ঋণ খেলাপিদের বিশাল লিস্ট দিছেন। কই তাদের তো ধরতে পারেন না। ব্যাংকের টাকা পাচার বন্ধ করতে পারছেন না। আর নিম্নমধ্যবিত্তের ওপর কর চাপিয়ে দিচ্ছেন। এটার প্রতিবাদ করছি।"

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য আবুল কালাম অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, "উনি অনেক পরিশ্রম করেছেন। উনার সঙ্গে এনবিআর ও মন্ত্রণালয়ও পরিশ্রম করেছে। বাজেট বাস্তবায়ন করতে গেলে দক্ষ জনশক্তি থাকা দরকার। খালি কর বাড়ালে হবে না। উপজেলা পর্যায়ে এনবিআরের কর্মকর্তা দেন। এসডিজি পূরণের জন্য আমাদের দক্ষ কর্মকর্তা দরকার। প্রায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা প্রজেক্ট ঠিকমতো করতে পারে না। প্রপোজাল করতে পারে না। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির মিটিংয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে ডাকি। আপনি বিশ্বাস করবেন না মাননীয় স্পিকার, পরিকল্পনা মন্ত্রী সামনে আসছে আমি দেখিয়ে দিয়েছি এরা টাকা ঠিকমত খরচ করতে পারে না।"

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "বিদ্যুতের উন্নতি হয়েছে ঠিকই, অনেক লাইন হয়েছে। কিন্তু রমজানের সময়, সেহেরির সময় আমার এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। দিনে ১৪-১৫ বার বিদ্যুৎ যায়। এগুলো ঠিক করার উদ্যোগ নিন।"

এই সম্পর্কিত আরো খবর

বিএনপি নেতা এম কে আনোয়ার আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এম  কে আনোয়ার আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।...

ইসি’র সঙ্গে নারীনেত্রীদের সংলাপ

৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব না থাকলে দলের নিবন্ধন বাতিল দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: যে সব রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্রে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নেই তাদের নিবন্ধন বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন নারী নেত্রীরা।...

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is