করোনা মোকাবেলায় বিএনপির ২৭ দফা প্রস্তাব

প্রকাশিত: ১১:৫২, ০৪ এপ্রিল ২০২০

আপডেট: ০৪:২১, ০৪ এপ্রিল ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ (শনিবার) সকালে দলের চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে তিনি একথা বলেন।

এ সময় করোনা পরীক্ষা নিশ্চিত করতে সারাদেশে প্রয়োজনীয় কিট সরবরাহের দাবিও জানান মির্জা ফখরুল। এই মহাদুর্যোগ মোকাবেলায় বিএনপি শামিল হতে চায় উল্লেখ করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাদ দিয়ে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠায় সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। চলমান সংকট মোকাবেলায় দলটির ২৭ দফা প্রস্তাব পেশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব।

স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তাবনার মধ্যে উলে­খযোগ্য--

১. দিনে আনে দিনে খাওয়া লোকজনদের নগদ অর্থ প্রদান করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর সহায়তায় এ অর্থ বিতরণ করতে হবে। তবে এ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক বা দলীয় লোকদের সম্পৃক্ত করা যাবেনা। আগামী ৩ মাসের জন্য প্রতি পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা করে প্রদান করতে হবে।

২. আশ্রয়হীনদের প্রয়োজনে সামরিক বাহিনীর সহায়তায় দ্রুত আশ্রয়ের মাধ্যমে দু বেলা খাবারের ব্যবস্থ্যা করতে হবে। এ জন্য কমপক্ষে ৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করতে হবে।

৩. গামের্ন্ট শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে হবে। তাদের অ্যাকাউন্টে নগদ অর্থ প্রদান করতে হবে। এ জন্য প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে হবে। 

৪. সরকারি ও বেসরকারিসকল ক্ষুদ্র ঋণ আগামী ডিসেম,ক্ষর পর্যন্ত মওক’প করতে হবে। 

৫. বাধ্য হয়ে যারা বিদেশ থেকে ফিরে এসেছে তাদের আপদকালিন সময়ের জন্য ৩ মাসের জন্য ১৫ হাজার টাকা করে প্রদান করতে হবে যাতে তারা পুনরায় আবারো প্রবাসে স্বীয় কর্মস্থলে যোগ দিয়ে রেট্যিান্স পাঠাতে পারে।  এ জন্য এ খাতে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখতে হবে। 

৬. করোনা মোকাবেলা সাথে যুক্ত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য জীবন ঝুঁকির বিবেচনায় জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্য বীমার ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ও কীটের ব্যবস্থা করতে হবে।

৭. রাজধানীসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে করোনা রোগির জন্য পৃথক হাসপাতাল স্থাপন করতে হবে। আইসিইউ ও ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে কমিউনিটি সেন্টার, কনভেনশন হল ও রাজধানীর বড় বড় শূন্য আবাসিক হোটেলগুলোকে সাময়িকভাবে হাসপাতালে রুপান্তর করা যেতে পারে। 

৮. অবিলম্বে দেশের বরেণ্য অর্থনীতিবিদদের সমন্বয়ে একটি আপদকালীন অর্থনৈতিক টাস্ক ফোর্স গঠন করতে হবে।

মধ্য মেয়াদী প্রস্তাবনা---

৯. ঋণের ওপর কোন সুদ আরোপ করা যাবে না। ঋণের নিয়মিত কিস্তি ৩ মাসের জন্য স্থগিত করতে হবে। 
১০. বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি ১০শতাংশে নিচে নেমে গেছে, এটা ১০       থেকে ১৬ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। 

১১.    বাংলাদেশ ব্যাংককে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য এবং বিশেষ করে দেশের জন্য ব্যবহৃত পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য রি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থা করতে হবে। 
১২.    অপচয় বন্ধ করে ব্যয় সংযত করতে হবে। এ অর্থ দিয়ে রপ্তানীমুখি শিল্প, ঔষধ ও অন্যান্য  প্রয়োজনীয় শিল্পকে আর্থিক প্রণোদনা দিতে হবে। 

১৩.    মন্ত্রী পরিষদ সচিব যে পদক্ষেপ ঘোষণঅ করেছেন তার প্রায় সবগুলোই প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও সরকারি কর্মকর্তদের দায়িত্ব বচন্টন। এতে কোন অর্থ বকরাদ্দ নেই। এটি বাস্তবায়ন হলে জনগণের কোন কাজে আসবে না। সরকারকেই অর্থ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। 

১৪.    মহামারির পর বিপর্যয় এড়াতে কৃষি ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে হবে। বাজার ব্যক্ষস্থা ও উৎপাদন ঠিক রাখতে হবে। 
১৫.    বিশ্ব ব্যাংক, এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংক, ইসলামি ডেভেলপমেন্ট ব্যংক, আইএমএফসহ দ্বি-পাক্ষিক আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে যোগাযোগ করে অর্থ সংগ্রহ করতে হবে।

১৬.    শাটডাউনের কারণে যাতে খাদ্যপ্রবাহ বন্ধ না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। 

১৭.     সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা মহামারিতে কাজ করে যাচ্ছেন তাই তাদের আর্থিক ও অন্যান্য দাবিগুলো এই ক্রান্তিকালে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে সুবিবেচনা করতে হবে। 
  
দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তাবনা-

১৮.    বাংলাদেশ ব্যাংককে তাদের মৌলিক ভূমিকায় ফিরে এসে বিধ্বস্ত, ও বিশৃঙ্খল অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে।

১৯.    ভবিষ্যতে প্রবাসী বাংলাদেশি যারা বাস্তব কারণে দেশে ফিরতে বাধ্য হবেন তাদেরকে সহজ শর্তে আর্থিক সহায়তা দিতে হবে যাতেতারা আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে।

এই বিভাগের আরো খবর

বিএনপি ফায়দা লুটতে চাইছে: কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনা সংকটকে পুঁজি...

বিস্তারিত
করোনা বিএনপিকে বদলাতে পারেনি: কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রাণঘাতী করোনা...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *