বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদ কারাগারে

প্রকাশিত: ১১:৩৮, ০৭ এপ্রিল ২০২০

আপডেট: ১০:০৮, ০৭ এপ্রিল ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার দায়ে ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের অন্যতম আবদুল মাজেদকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।আজ মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১২টার দিকে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম জুলফিকার হায়াত আদালতে তোলা হয়।এ সময় আদালত মামলার নথিপত্র দেখেন এবং রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য শুনে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সাথে বিচারিক আদালতে মামলাটির রায়ের কপি পৌঁছে দিতে বলেছেন।

পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, আমরা জানি যে আপিল বিভাগ থেকে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সাথে জড়িতদের ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে, সেখানে মাজেদ ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।রাষ্ট্রপক্ষ আরো জানিয়েছেন, এক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চেয়ে প্রাণভিক্ষা করার সুযোগ রয়েছে, এছাড়া আইনগতভাবে আর কোনো সুযোগ তিনি পাবেন না।

এর আগে রাজধানীর মিরপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। মঙ্গলবার রাত সাড়ে তিনটায় রাজধানীর মিরপুর সাড়ে ১১ নাম্বার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান মন্ত্রী।

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ক্যাপ্টেন মাজেদ পলাতক ছিলেন। পলাতক ছয় খুনির মধ্যে ক্যাপ্টেন মাজেদ ছিলেন অন্যতম। তার গ্রামের বাড়ি ভোলায়।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়। তবে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে বেশ সময় লেগেছে। ১৯৯৬ সালের ২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহকারী (পিএ) এ এফ এম মোহিতুল ইসলাম ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সংঘটিত নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় একটি এফআইআর করেন। ১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারি সিআইডি এই মামলায় ২০ জনকে অভিযুক্ত করে মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে চার্জশিট দাখিল করে এবং একই বছরের ১২ মার্চ ছয় আসামির উপস্থিতিতে আদালতে বিচার শুরু হয়।

১৯৯৭ সালের ১৯ জুন পর্যন্ত বিচারক বিব্রত হওয়াসহ নানা কারণে আটবার বিচার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। এভাবে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর মামলার রায়ে বিচারক কাজী গোলাম রসুল ১৫ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। 
অন্যদিকে ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৪ দিনের শুনানি শেষে বিভক্ত রায় প্রদান করে। বিচারক এম রুহুল আমিন অভিযুক্ত ১৫ আসামির মধ্যে ১০ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বজায় রাখেন। কিন্তু অপর বিচারক এ বি এম খায়রুল হক অভিযুক্ত ১৫ জনকেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। পরে হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চে ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে।

পরবর্তীতে ২০০১ সালের অক্টোবরের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে বিচার কাজ বন্ধ থাকে। ছয় বছর পর ২০০৭ সালের ২৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের মুখ্য আইনজীবী বর্তমান সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সুপ্রিম কোর্টে সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রদান করেন এবং ২৩ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ ২৭ দিনের শুনানি শেষে ৫ আসামিকে নিয়মিত আপিল করার অনুমতিদানের লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন।

২০০৯ সালের ১২ নভেম্বর- ২৯ দিনের শুনানির পর চূড়ান্ত আপিল শুনানি শেষ হয় এবং আদালত ১৯ নভেম্বর রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন। ওইদিন (১৯ নভেম্বর) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামির দায়ের করা আপিল আবেদন খারিজ করা হয়। 
২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের রিভিউ খারিজ হয়ে গেলে ২৮ জানুয়ারি ৫ আসামির ফাঁসির রায় কার্যকর হয়। তারা হলেন-- কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমান, কর্নেল (অব.) সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, লে. কর্নেল (অব.) মহিউদ্দিন আহমদ (ল্যান্সার), মেজর (অব.) এ কে বজলুল হুদা এবং মেজর (অব.) এ কে এম মহিউদ্দিন (আর্টিলারি)৷ এছাড়া পলাতক অবস্থায় খুনিদের একজন আবদুল আজিজ পাশা ২০০১ সালের ২ জুন জিম্বাবুয়েতে মারা গেছেন৷
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাকি ছয় পালাতক খুনিদের মধ্যে খুনিদের মধ্যে আবদুল মাজেদকে রাতে গ্রেফতার করা হয়। তবে বিভিন্ন দেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন লে. কর্নেল (বরখাস্ত) খন্দকার আবদুর রশিদ, মেজর (বরখাস্ত) শরিফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল (অব.) এ এম রাশেদ চৌধুরী, মেজর (অব.) এসএইচএমবি নূর চৌধুরী ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন খান৷

এই বিভাগের আরো খবর

সময়ের সম্মুখ যোদ্ধা পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক: করোনা ভাইরাসে বিশ্বে...

বিস্তারিত
চকরিয়ায় বৃদ্ধকে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার ৩

অনলাইন ডেস্ক: কক্সবাজারের চকরিয়ায় এক...

বিস্তারিত
সব উপজেলায় টিসিবির পণ্য বিক্রয়ের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী এক সপ্তাহের...

বিস্তারিত
মাস্ক না পরলে ৬ মাসের সাজা, লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলমান করোনা সংকটের...

বিস্তারিত
আবারও শপথ নিলেন হাইকোর্টের ১৮ বিচারপতি 

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের...

বিস্তারিত
১৫ জুন পর্যন্ত চলবে ভার্চ্যুয়ালি বিচারকাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনা ভাইরাসের...

বিস্তারিত
হাইকোর্টের ১৮ বিচারপতির স্থায়ী নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *