ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

2019-08-21

, ১৯ জিলহজ্জ ১৪৪০

যশোর উদীচী ট্র্যাজেডি : দেড়যুগেও বিচার হয়নি ঘাতকদের

প্রকাশিত: ০৫:২৯ , ০৬ মার্চ ২০১৭ আপডেট: ০৫:২৯ , ০৬ মার্চ ২০১৭

১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ গভীর রাতে যশোর টাউন হল মাঠে উদীচী'র দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পর পর দুটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে নিহত হয় ১০ জন। আহত হয় আড়াই শতাধিক নিরীহ মানুষ।

নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ১৮ বছর পার হচ্ছে আজ। কিন্তু এতদিনেও বিচারের মুখোমুখি করা যায়নি মূল ঘাতকদের। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ আর সুষ্ঠ তদন্তের অভাবে খালাস প্রদানের মাধ্যমে আদালত বিচার প্রক্রিয়া শেষ করতে বাধ্য হয়। বর্তমান সরকারের আমলে পুনঃতদন্ত শুরু হলেও তা আটকে গেছে আইনের বেড়াজালে।

বোমা বিস্ফোরণে আহতদের কেউ কেউ পঙ্গু, অনেকেই এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন সেই দুঃসহ স্মৃতি। তাঁদেরই একজন নাহিদ, যাঁর দু’টি পা-ই কেটে ফেলতে হয়। দৈনিক ৮০ টাকা হাজিরার একটি চাকরি জুটলেও তা আনতে যেতে হয় খুলনায়। এই যাতায়াতের চেয়ে নাহিদের কাছে আরো বেশি কষ্টের উদীচী ট্র্যাজেডির ঘাতকদের বিচার দেখতে না পারাটা।

সেদিনের ওই বোমা হামলায় ডান পা আর শ্রবণশক্তি হারান সংস্কৃতি কর্মী সুকান্ত দাস-ও। এমন প্রতিকূলতার মাঝেই তিনি অর্জন করেছেন উচ্চতর ডিগ্রি। আর বোমা হামলায় নিহত উদীচী কর্মী তপনের পরিবারের মিলেছে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান পাকা বাড়ি। তারপরও তাঁরা হতাশ, দীর্ঘ দেড়যুগেও বিচার না পেয়ে। 

২০০৬ সালের ৩০ মে যশোর স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে মামলাটির বিচার হলেও, সিআইডির ত্রুটিপূর্ণ তদন্ত ও চার্জশিটের কারণে খালাস পায় সব আসামি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১১ সালে হাইকোর্টে আপিল করা হয়। পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেয়া হয় সিআইডিকে।

একই সঙ্গে আসামিদের আবারো নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। উচ্চ আদালতের নির্দেশে আসামিরা নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে জামিন পায়। কিন্তু ছয় বছরেও হাইকোর্টে মামলাটি শুনানির কোনো উদ্যোগ দেখা যায় নি।

মামলাটির ২৩ আসামির মধ্যে ৩ জন মারা গেছে, বাকি সবাই জামিনে।

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

Message is required.
Name is required.
Email is