পাবনার পদ্মার চরে আতঙ্কের নাম ‘রাসেল ভাইপার’

প্রকাশিত: ০৪:৩০, ০২ জুন ২০২০

আপডেট: ০৪:৩০, ০২ জুন ২০২০

পাবনা প্রতিবেদক: পাবনার চরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে বিলুপ্তপ্রায় বিষধর ‘রাসেল ভাইপার’ সাপের উপদ্রব। পদ্মা চরের ফসলের মাঠ, ঝোপ ঝাড় এমনকি বসতবাড়িতেও দেখা মিলছে বিশ্বের অন্যতম বিষাক্ত সাপটির। প্রতিষেধকের সহজলভ্যতা না থাকায় চরাঞ্চলের মানুষকে সর্তকতার সাথে কাজ করার পরামর্শ জেলা প্রশাসকের।

আসছে বর্ষার সময় এই বিষধর সাপ জনবসিত অঞ্চলে চলে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর এ কারণে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে পাবনার চর অঞ্চলের সাধারণ কৃষকরা।

গত শনিবার ঈশ্বরদী উপজেলার সাড়া ইউনিয়নের মাঝদিয়া বড় পাড়া গ্রামের সেলিনা খাতুন নিজ ঘরেই সাপের কামড়ের শিকার হন। পরিবারের লোকজন আগ্রাসী প্রকৃতির সাপটিকে মেরে রোগীকে সাথে নিয়ে আসেন হাসপাতালে। চিকিৎসকরা প্রথমে সাপটিকে চিনতে না পারলেও পরিবেশবিদদের সহায়তায় নিশ্চিত হন সাপটি রাসেল ভাইপার। কামড়ের শিকার হলেও সৌভাগ্যক্রমে সেলিনার শরীরে বিষ প্রয়োগ করতে পারেনি বলেই ধারণা চিকিৎসকদের।

পরে পাবনা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে গতকাল (সোমবার) সকালে পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের কোমরপুর পদ্মার চর অঞ্চল পরিদর্শনের যান প্রশাসরে ৫ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল।

স্থানীয় কৃষক ও প্রত্যক্ষদর্শীর জানান, চরে নতুন নতুন পোকামাকড়সহ বিভিন্ন জাতের সাপের দেখা মিলছে। গত বছর বিষধর পোকা দেখা দিয়েছিলো এবার সাপের দেখা মিলছে। সম্প্রতি এই চরে কাজে এসে বেশ কয়েকজন সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানান তারা।
পাবনায় জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ড ডাঃ আবু সালেহ মোহাম্মদ জানান, গত একমাসের মধ্যে সদর ও সুজানগর উপজেলার পদ্মার চরগুলিতেও একাধিকবার দেখা মিলেছে বিষাক্ততায় বিশ্বের পঞ্চম ও ক্ষীপ্রতার তালিকায় প্রথমে থাকা এই সাপটির। বর্ষা মৌসুম আশাপাশের লোকালয়ে ছড়িয়ে পরতে পারে এই বিষাক্ত সাপ।

সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ তোজাম্মেল হোসেন জানান, এই সাপের কথা শুনে জেলা প্রশাসনের সাথে চর অঞ্চল গুলোতে বেশ কয়েকবার পরিদর্শনে গিয়েছি। আমাদের চোখে এখনো পরেনি ওই সাপটি। তবে এই সাপের কামড়ে বেশ কিছু মানুষ আক্রান্ত হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এই সাপ খুব দ্রুত চলাচল করতে পারে ও অন্যান্য সাপের থেকে দ্রুত বংশ বিস্তার করে। চর অঞ্চলের কৃষকদের সাবধানে কাজ করতে হবে।

পাবনা জেলা প্রশাসক পরিদর্শন দলের প্রধান সহকারি কমিশনার ভূমি জানান, পদ্মার এই বিশাল চর অঞ্চল ফসলসহ গো বিচরণের অন্যতম স্থান। শুস্ক মৌসুমে এই চরাঞ্চলে বিভিন্ন ধরনরে ফসলের আবাদ হয়ে থাকে। গত বছর এই চরে বিষাক্ত বিছা পোকা দেখা দিয়েছিলো। এবার বিষাক্ত সাপের কথা শোনা যাচ্ছে। কৃষকদের সাবধানে ও সর্তকতার সাথে গামবুট পরে কাজ করা পরামর্শ দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে চরাঞ্চলের কৃষকদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

পরিদর্শন টিমের সাথে সদর উপজেলার প্রকল্প কর্মকর্তা আব্দুল করিম ও উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমানসহ স্থানীয় কৃষক ও জন প্রতিনিধিরাও ছিলেন।

এই বিভাগের আরো খবর

যশোরে দেখা মিলছে জোনাক পোকার

যশোর সংবাদদাতা : গ্রামবাংলার...

বিস্তারিত
বাগেরহাটে করোনার নমুনা পরীক্ষায় ভোগান্তি

বাগেরহাট সংবাদদাতা: বাগেরহাট জেলায়...

বিস্তারিত
যশোরে অটোরিকসা চালককে প্রকাশ্যে হত্যা

যশোর সংবাদদাতা: যশোরের মণিরামপুরে...

বিস্তারিত
নতুন করে ২৩ জেলায় বন্যার আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ১০ জুলাইয়ের...

বিস্তারিত
বিজিবিতে যুক্ত হলো অত্যাধুনিক যান

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তঃসীমান্ত...

বিস্তারিত
মৌলভীবাজারে করোনার নমুনা সংগ্রহে বিঘ্নিত

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা: মৌলভীবাজারে...

বিস্তারিত
কুষ্টিয়ায় হরিজন সম্প্রদায়ের জমি দখল! 

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা: কুষ্টিয়ায় হরিজন...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *