মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন করোনা আক্রান্ত বাংলাদেশি

প্রকাশিত: ০৪:১৫, ২৭ জুন ২০২০

আপডেট: ০৫:৩২, ২৭ জুন ২০২০

অনলাইন ডেস্ক: সিঙ্গাপুরে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক প্রবাসী বাংলাদেশি। প্রায় মাস হাসপাতালে থাকা ৩৯ বছর বয়সী রাজু সরকার শুক্রবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। এরইমধ্যে ২৪ কেজি ওজন হারালেও তিনি সেরে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছে সে দেশের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম স্ট্রেইট টাইমস।

সিঙ্গাপুরে প্রথম যে কয়েকজন বিদেশি কর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন রাজু তাদের একজন। ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। সেখানে অর্ধেক সময় পার করেছেন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র-আইসিইউতে। মে মাসের মাঝামাঝি তাকে টান টক সেং হাসপাতাল-টিটিএসএইচ পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।

টিটিএসএইচ এর রেসপিরেটোরি অ্যান্ড ক্রিটিকাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডাক্তার বেঞ্জামিন হো বলেন, এত দীর্ঘ সময় আইসিইউতে থাকার পর তার নাটকীয়ভাবে সেরে ওঠায় বিস্মিত চিকিৎসকরাও। ডাক্তার হো বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় রাজুর অবস্থা খুবই সংকটজনক ছিল এবং দুই থেকে তিন বার সে মৃত্যুর খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অসুস্থ হওয়ার সময় বাংলাদেশে রাজুর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন, গত ৩০ মার্চ তাদের সন্তান হয়েছে। পরিবারের প্রতি টানই তাকে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসার প্রেরণা যুগিয়েছে বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।

সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ইনফেকশাস ডিজিজেস-এনসিআইডির আইসিইউ-এর পরিচালক হিসেবেও কাজ করছেন ডাক্তার হো। তিনি আরও বলেন, “তার রক্তচাপ খুব কমে গিয়েছিল এবং তিনি অক্সিজেন নিতে পারছিলেন না। চিকিৎসকরা ভেবেছিলেন, তাকে অনেকদিন অক্সিজেন দেওয়া লাগবে এবং রাজুর ঘটনা সিঙ্গাপুরে প্রথম দিকের মৃত্যুর একটি হবে বলে উদ্বিগ্ন ছিলেন তারা।

গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পরও সেরে ওঠার বিষয়ে রাজুর মনোবল দৃঢ় ছিল। পুনর্বাসন কেন্দ্রে শরীরে শক্তি ফিরে পাওয়া কার্ডিওভাস্কুলার ফিটনেসের জন্য ফিজিওথেরাপি নিতে হয় তাকে। নিজের যত্নের জন্য অকুপেশনাল থেরাপিস্টের চিকিৎসা নেন। পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঁচ সপ্তাহে ১০ কেজি ওজন বেড়েছে তার।

ফিজিওথেরাপিস্ট সিমন লাউ জানান, “তার অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। আইসিইউতে দীর্ঘ দিন থাকার কারণে খুব দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। তবে সুস্থ হয়ে উঠতে তিনি খবুই আন্তরিক ছিলেন। ব্যায়ামে খুব আগ্রহী ছিলেন, নিজের থেকে সেরে ওঠার চেষ্টা ছিল তার এবং এমনকি ওয়ার্ডে বিশ্রামে থাকার সময় নিজেই ব্যায়ামগুলো করতেন।

নার্সরা জানান, প্রায়ই ফোনে তিনি পরিবারের ছবি দেখতেন এবং ঘন ঘন বাড়িতে ফোন করতেন। সিনিয়র স্টাফ নার্স কারমেইন লো বলেন, সুস্থ হয়ে উঠতে তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিল তার পরিবার। আইসিইউ থেকে ছাড়া পাওয়ার এক সপ্তাহ পর মধ্য এপ্রিলে প্রথম ভিডিও কলে ছেলেকে দেখেন রাজু সরকার।

স্ট্রেইটস টাইমসকে রাজু বলেন, “আমি আমার ছেলে স্ত্রীকে দেখতে চাই। তিন বা চার মাসের মধ্যে বাড়ি যাওয়ার আশা করছি দৃঢ় মনোবল নিয়ে হাসপাতাল ছাড়েন রাজু। স্ট্রেইটস টাইমসকে জানান, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর প্রথমেই ছাগলের মাংস খেতে চেয়েছিলেন।

করোনাভাইরাস রাজুর শরীরে বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলেছে। তার শরীরে লবণ ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা কমে গেছে, হৃদযন্ত্রও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফুসফুস, থাইরয়েড কিডনি জটিলতাও দেখা দিয়েছে। কিডনি সচল রাখতে সাময়িকভাবে তাকে ডায়ালাইসিস করতে হবে। দীর্ঘ সময় আইসিইউতে থাকায় তার মস্তিষ্কেও পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। এখনও সেরে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন তিনি।

দুই মাসের জন্য হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন রাজু। এই সময় পার হলে আবার তাকে ফলো-আপের জন্য আসতে হবে। স্ট্রেইটস টাইমস বলছে, যখন তিনি কাজের জন্য পুরোপুরি ফিট হবেন তখন তার নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে সব কিছু ঠিকঠাক করা হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

বিদেশ ফেরত ২১৯ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যের...

বিস্তারিত
ফিরতে পারবেন বৈধ ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী...

বিস্তারিত
টিকেট নিতে ভিড় কমেছে সৌদি প্রবাসীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌদি আরবের ভিসার...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *