করোনা মহামারীতে বাল্যবিয়ে বাড়ার আশঙ্কা

প্রকাশিত: ০৮:৪৪, ০১ জুলাই ২০২০

আপডেট: ০৩:০৬, ০১ জুলাই ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাবে বিশ্বব্যাপী ১৩ কোটি অতিরিক্ত বাল্যবিয়ের হবে বলে ধারণা করছে ইউএনএফপিএ। ৩০ জুন, মঙ্গলবার ইউএনএফপিএর (যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থা) ২০২০–এর জনসংখ্যা সম্পর্কিত প্রতিবেদন (স্টেট অব ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিপোর্ট) প্রকাশিত হয়। এতে সংস্থাটি মনে করে, করোনার মতো যেকোনো দুর্যোগ এবং সংকটের সময় বাল্যবিবাহের মতো ক্ষতিকর চর্চা বাড়তে পারে। তাই এটি রোধে বিনিয়োগ এবং গতিশীল পদক্ষেপে নিতে হবে। 

প্রতিবেদনে প্রাধান্য পেয়েছে মেয়ে শিশুর ও নারীদের ওপর নানা ধরনের ক্ষতিকর চর্চার বিষয়। 'অ্যাগেইনস্ট মাই উইল’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ১৯ ধরনের ক্ষতিকর চর্চা বা রীতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। এসব চর্চা মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এরমধ্যে ইউএনএফপিএর প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রচলিত দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সেগুলো হলো বাল্যবিবাহ এবং ছেলে সন্তানের জন্য মেয়েদের প্রতি বৈষম্য।

ইউএনএফপিএ বলছে, এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি বাল্যবিবাহ হয়। এটি বন্ধের জন্য বছরের পর বছর ধরে অনেক পদক্ষেপ নেয়া হলেও বিশেষ করে কোভিড-১৯–এর প্রেক্ষাপটে এই খাতে অব্যাহত বিনিয়োগ এবং আরও জোরদার পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এটি সহজেই অনুমেয়, যেকোনো দুর্যোগ এবং সংকটের সময় বাল্যবিবাহের মতো ক্ষতিকর চর্চার ঘটনা বৃদ্ধি পেতে পারে।

মহামারীটির কারণে এফজিএম ও শিশুবিবাহ প্রতিরোধের কার্যক্রমগুলো যদি দুই বছরের বিলম্ব হয়, তবে আগামী দশকে দুই মিলিয়ন এফজিএম এর ঘটনা ঘটতে পারে যা এড়ানো সম্ভব ছিল। মহামারীটির কারণে যদি শিশুবিবাহ প্রতিরোধ কার্যক্রমে এক বছরের গড় বিলম্ব হয় তাহলে অনুমান করা যাচ্ছে পরের দশকে প্রায় ৭.৪  মিলিয়ন শিশুবিবাহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা এই মহামারী না হলে এড়ানো যেত। 

এছাড়াও প্রতিবেদনে মহামারী দ্বারা সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দার ফলস্বরূপ অনুমান করা হয় ২০২০ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ৫.৬ মিলিয়ন শিশুবিবাহ অনুষ্ঠিত হবে। কোভিড– ১৯ মহামারীর প্রভাবে ১৩ কোটি অতিরিক্ত বাল্যবিবাহ হবে বলে ধারনা করা হয়। 

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের জনসংখ্যা প্রতিবেদনে শিশুবিবাহ এবং ছেলে সন্তান পছন্দ বন্ধে জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মেয়ে তাদের পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং সমাজের সম্পূর্ণ জ্ঞাত এবং সম্মতিতে এমন কিছু চর্চা/রীতি/অনুশীলনের শিকার হয় যা তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। 

ভার্চুয়াল কনফারেন্সে বাংলাদেশে ইউএনএফপিএ প্রতিনিধি ড. অশা টর্কেলসন বলেন, “আমাদের অবশ্যই আবদ্ধ ও প্রচলিত সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং অনুশীলনগুলি পরিবর্তন করে নারী ও মেয়েদের প্রতি শ্রদ্ধা জাগ্রত করতে হবে। এর অর্থ বৈষম্যের মূল কারণগুলিকে বেড় করে তা প্রতিহত করা এবং মেয়েদের স্বায়ত্তশাসনকে সম্মান করা।”

এই বিভাগের আরো খবর

শাজাহান সিরাজের প্রথম জানাযা সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: মুক্তিযুদ্ধের...

বিস্তারিত
গত ২৪ ঘণ্টায়  মৃত্যু ৩৩, শনাক্ত ৩৫৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনাভাইরাসে...

বিস্তারিত
অনলাইনে বাড়ছে কোরবানীর পশু কেনাকাটা

ফাহিম মোনায়েম: করোনাভাইরাসের কারণে...

বিস্তারিত
ময়ূর-২ লঞ্চের দুই চালক গ্রেফতার

নিজস্ব সংবাদদাতা: সদরঘাটে লঞ্চ...

বিস্তারিত
সাহেদকে নিয়ে রিজেন্ট গ্রুপের অফিসে অভিযান

ফররুখ বাবু: ছদ্মবেশে দেশ ছেড়ে পালাতে...

বিস্তারিত
১৬-১৮ বছর বয়সীদের অনলাইনে এনআইডি দিচ্ছে ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: গত ২৭ এপ্রিল হতে...

বিস্তারিত
নির্ধারিত সময়ে হচ্ছে না চসিক নির্বাচন 

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম সিটি...

বিস্তারিত
করোনামুক্ত হলেন মাশরাফি

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনামুক্ত হয়েছেন...

বিস্তারিত

0 মন্তব্য

আপনার মতামত প্রকাশ করুন

মন্তব্য প্রকাশ করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা আছে *